তুমি আমি আর সিগারেট

  • 53
    Shares

এই প্লাটফর্মে সচরাচর ট্রেন আসেনা, ফাঁকাই আছে।
সন্ধ্যের ঠিক আগে একেবারে মাথার দিকে আরামসে বসে সিগারেট টানছিলাম..,
মন খারাপ হলে তাই-ই করি, কিন্তু মন খারাপ অধিক হলে সিগারেটে কাজ হয় না তখন আরো একটা কাজ করি এটা মহৌষধ-
সবচেয়ে যাকে বেশি ভালোবাসি তার হাসি হাসি মুখটা মনে করা।
যে নারী পৃথিবীর সবচে বেশি আমায় ভালোবাসে- মায়া করে, তার কথা ভাবছিলাম। বাইরে থাকায় সপ্তাহে একদিন তার কাছাকাছি থাকা হয় (আর নো ফোন নো কলস্ নো কথা বার্তা- এটা আমার রুলস।) কিন্তু আজ ভাবছিলাম রুলটা ভেঙে ফেলি, হটাৎ ‘মা’কে ফোন করে চমকে দেই কিন্তু এমন সময় আমিই চমকে গেলাম, যেখানে বসে ছিলাম অপর প্রান্তে একজনকে দেখে চমকেই গেলাম!

★বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে আমাদেরকে আর্থিক সাহায্য করুন★

বোঝা যাচ্ছিল বড় কোন অফিসের ঝামেলা সামলে এই অবেলায় ফিরছেন। ছেলেদের পোশাকে মেয়েদের বেশ লাগে – ট্রাউজার ফুলশার্ট গোটানো হাতা আর টাই। খোলা চুলে টাই মানায়না, কিন্তু এ মেয়েকে মানাচ্ছে, অতিরিক্ত ফ্যাসান সচেতন কিনা বুঝতে পারছি না। এ পাসটা ফাঁকা দেখে একটু বিশ্রামের জন্য আগমন ঘটেছে দৃপ্তিময়ী মুখটা সুন্দর আর আভিজাতিক।আত্মবিশ্বাসে ভরপুর, অর্থাৎ ভয়ংকর কম্বিনেশন। প্রায় ১২-১৫ ফুট লম্বা বসার জায়গার এক মাথায় আছি আমি, আদতে আমি বলে এই মুহুর্তে সেখানে কেউ আছি নাকি নেই, আমার নিজেরই তখন মনে হচ্ছে না… অপর পক্ষের এতটাই সাবলীলতা।
তাই আমি সেখানে আমার অস্তিত্বের সাথে সাথে আমিত্ব জাহির করতে আরো জোরে ধোঁয়া ছাড়তে লাগলাম… আর যায় কোথা হঠাৎ একজন ‘মামা’ এসে হাজির।
-হ্যালো এই মিষ্টার! এসব কি হচ্ছে?স্টেশনে সিগারেট! সাহস তো কম নয়…
-স্যার সরি! ভুল হয়েছে আসলে খুব মন খারাপ ছিল তাই একটা ধরিয়ে ফেলেছি।
-চুপ! কোন কথা হবে না ‘ভীতরে’ ঢোকাবো নাকি জরিমানা! বল কি চাস? মেয়েদের দেখে হিতাহিত জ্ঞান নেই না, এখানেই সিগারেট ধরাতে হলো, বেশ উচ্চস্বরে বলতে থাকায় এতক্ষনে ‘তার’ নজর পড়েছে আমার দিকে। উৎসাহী মুখ- বেশ মজা পাচ্ছে মনে মনে, ভাবছে উচিৎ শিক্ষা হচ্ছে…
-স্যার, আমি লোকাল ছেলে। এদিকে কেউ নেই তাই… আর খুব মন খারাপ বলে একটা ধরিয়ে ফেলেছি।
-বেশি কথা বলছিস! লোকাল তো কি?দেখে তো শিক্ষিত মনে হয়, আইন সকলের সমান জানিসনা, আর প্লাটফর্মে সিগারেট খাওয়া দন্ডনিয় অপরাধ… জরিমানা লিখতে হবে- কি করিস তুই?
-স্যার,জরিমানা লিখবেন না প্লিজ! পকেট খালি। আপনাদের সরকার আর আমার ‘সরকার’ দুজনের কি যোগসাজশ জানিনা, গাদাগুচ্ছ সার্টিফিকেট দিয়েছে কিন্তু কোন কাজ দেয়নি। সময় কাটেনা বলে ভাবনার জগতে থাকি, এই যেমন সুখটানে সুখটানে একটা রোম্যান্টিক কবিতা ভাবছিলাম আর প্যাঁচালটা বাধল, আপনি চাইলে শোনাতে পারি!
-হোয়াট!! ওরে আমার কবি রে! ওরে কেউ দেখ রবীন্দ্রনাথ এসেছে!
কাউকে খুব তাচ্ছিল্ল করলে তাকে নগন্য জ্ঞান করা হয় আর তখন সামান্য সুযোগ নেওয়া যায়
-স্যার, আমি জীবনানন্দ ভালোবাসি, ওনার কথা বল্লে বেশি খুশি হই…
এতক্ষনে মনোযোগী মহোদয়া শুনছিল সব, মুচকি হেসে ফেলল, বোধহয় কবিতার কথা শুনে।
-থানায় চল। সারারাত ধরে কবিতা লিখিস। কি দিনকাল পড়লে রে, পথে ঘাটেও কবিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এমন সময় বেশ বয়স্ক আরেক ‘মামা’ এসে হাজির…- এই কি কেস রে,,
আমি ওনার হাত আর মুখের দিকে দেখছিলাম অনবরত সিগারেট টানছিলেন উনি…
-ফের তাচ্ছিল্য হেসে, স্যার এ মাল’টা প্লাটফর্মে বসে সিগারেট টানছিল
আমি বলতেই কি সব বলে- মন খারাপ, বেকার, সরকার, কবিতা, জীবনানন্দ কি সব বলছে স্যার।
‘স্যার’ কিছুটা ইতস্তত! টান মারছে আরামে…
মানুষ বিভ্রান্ত হতে যেতে পারে এরকম একটু রহস্যের হাসি হাসলাম। হ্যাঁ এটা আমার একটি বিশেষ গুন(!) যারা পরিচিত তারা জানে…আর এখন তো মেঘ না চাইতে জল।
-স্যার, আমিও কিন্ত আপনার মত সেম ব্রান্ড! বলেই সেই হাসিটা দিলাম…
-এই ছেলে, বেশি স্মার্টনেস দেখিওনা। চুপ কর… আর কি বললে- কবিতা! হা হা হা এই এক আপদ
ও আমার মেয়েও লেখে, ফেসবুকে কি সব শুরু করেছে, বলেই আরো বলে…একবার আমার কাছে কবিতা শোনাতে এসেছিল আমি খুব হাসলে সে বলে বাবা কবিতা নিয়ে মজা কোরোনা প্লিজ!
অফিসার ঝামেলা ছাড়ো…। আর তুমিও বাবা এসব কোরোনা ভালো জিনিস’ না, আমার মেয়েও নিষেধ করে সিগারেট খেতে।
-স্যার আপনার মেয়ে কবিতা লেখে?
-হুম।
-স্যার আপনি কি চান আমি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিই.?
-সেটা ব্যক্তিগত ব্যপার তবে,কেউ ছাড়তে চাইলে অবশ্যই চাইব সে ছেড়ে দিক!
-তাহলে আপনাকে একটা কাজ করতে হবে, খুব সামান্য একটা কাজ আপনার মেয়েকে জিজ্ঞেস করতে হবে কবিতা লেখে এমন কেউ কি সিগারেট ছেড়ে দেবে..? যদি সে হ্যাঁ বলে তাহলে এখনি ছেড়ে দেব আর যদি…
-হা হা হা,, থাক সিগারেট খাওয়া ছাড়তে হবে না, হারামী শালা, মেয়ের কাছে আমায় ঝাড় খাওয়াতে চাইছে।
একটা জরুরী কল এল আর অফিসার আমাকে ওখান বেরিয়ে যেতে বলে নিজেরাও চলে গেলো। আসলে আমি চেষ্টা করছিলাম কবিতা লেখা মেয়েটার নাম আর ফেসবুক আইডি জানার, কিন্তু দু:খ দিয়ে চলে গ্যালেন মামারা।
আমি দমকা নিশ্বেস নিয়ে বসে পড়লাম আবারো। দেখি সেই তিনি এখনো তাকিয়ে আছেন- আমার এহেন আচরণে কিছুটা অবাক হয়েছেন বোঝা যায়। আপনাকে দেখে যখন কেউ অবাক হবে তখন তাকে পাত্তা না দিলেও সে আর অবাক হবে না, এই সুত্রে এবার উনি আছেন কি না,আমিই পাত্তা না দিয়ে আরেকটা সিগারেট ধরালাম! আর ওনার অবাক হওয়া প্রশ্ন
-এক্সকিউজমি,,এত কিছুর পরেও আপনি ফের সিগারেট খাচ্ছেন?
-আমি আবারো সেই রহশ্যের হাসি দিলাম…আপনার কি খুব অপছন্দ?
-ডিসগাসটিং, এভাবে হাসছেন কেন? প্লাটফর্মে এভাবে কি খাওয়া যায়?
-দেখুন আমিতো আমার ইচ্ছেতে সিগারেট খাচ্ছি , কিন্তু আপনি কেন আমার মাথাটা খাচ্ছেন বলুনতো! চলে যান না অন্যদিকে..!
নিজেকে কেমন হিরো হিরো লাগছে এখন, খুব সুন্দরী কাউকে এভাবে অপমান করলে যে এমন গর্ব হয় সেটা জানা ছিল না।
– ডিসগাসটিং(একরাশ বিরক্তি নিয়ে গট-মট-গট…সুন্দরী মহোদয়া হাঁটা দিলেন…)
আমি আরেকটা সুন্দর সুখটান দিলাম
-আহ: ইন্টারেস্টিং…!
ঠিক ৪৩ সেকেন্ড পর ফিরে এলেন সুন্দরী, এক্সকিউজমি আপনার কাছে লাইটার হবে..?
আসলে এ জগতে অবাক হওয়ার বহু কিছু বাকি থাকে;
অতঃপর…

★বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে আমাদেরকে আর্থিক সাহায্য করুন★

About Author

Appy Hans Hossen

Ami ke...? ami janina., ashole 'ami' kew na, amar jibonta dom deya ghorir moto cholche matro... jokhon theme jabe...!!! vabo to tokhon ki ami r ami(man) thakbo...? tokhon amake keu nam dhore dakbe ki...??. haha... tai bondhu, ami keu na... kodin age chilam na prithibite., kodin poreo thakbo na., majhe shudhu kichudin ei vubone 'ami'r vumika palon... Appy Hans Hossen Mobile phones: 085380 12445 Address: Barasat, India

Leave A Reply

★বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে আমাদেরকে আর্থিক সাহায্য করুন★