সরিষার ফুল

0
Share it, if you like it

সরিষার ফুল মুলত শীত কালে দেখা যায়-
কিন্ত এমন অসময়ে সরিষার ফুল দেখেছেন! আমি দেখলাম-
বিকালে বাইক চালাচ্ছিলাম। এমনিতে আমি খুব ভদ্র ভাবে বাইক চালাই সর্বদা ৬০-৭০স্পিডে শান্ত ভাবেই যাই। কেন্দ্র সরকারের গ্রাম-সড়ক যোজনার ফলে ফকফকা নতুন রাস্তা, ফায়দা তুলতে হালকা ৮০-৯০ কিংবা আর একটু হালকা হতেছিলাম- ওই অবস্থায় সরিষার ফুল দেখলাম-! আসলে তুমুল হাওয়ার মধ্যে চোখে হঠাৎ ঝালপোকা পড়লে কয়েক মুহুর্ত সবাই তাই দ্যাখে বইকি!
প্রচন্ড ঝাঁকুনি দিয়ে ব্রেক! রাস্তা ফাঁকা না থাকলে সমুহ বিপদ ছিল..!
যাইহোক চোখে ক্ষুদ্রপ্রাণ নিঃস্বরিত এসিড এবং সাথে প্রাণপণ কামড়ে থাকায় প্রচন্ড জ্বালা করছিল, টপাটপ জল ঝরছে- আমি ও’মা,, মা…গো! বলে কাতরাতে থাকি, আসেপাশে দেখছিলাম কেউ আসে কিনা। চোখের পাতাটা খুলে লুকিং গ্লাসে তাকাতেই পারছিলাম না। হাত দিয়ে চেপে, উফ…উফ..করেই যাচ্ছি প্রায় একমিনিট কোথাও কেউ নেই…
দূর থেকে একজনকে দেখতে পাই সুন্দর করে হেঁটে আসছে সাদা সালোয়ার, গুটি গুটি হলুদ ফুল সবুজ ওড়না। দ্রুত আসার জন্যে আমি ইশারা করলাম,, সে কিছুটা ইতস্তত বোধ করলো। দিনকাল যেমন নিশ্চই কোন লম্পট বাইক থামিয়ে ইশারা করছে। আমি এবার কাতর ভাবে ইশারা করলাম… আমার কাছের মানুষেরা জানে, জীবনে খুব কম সময়ে আমি মানুষের থেকে যেচে উপকার চেয়েছি, কিন্তু আজ আর পারলাম না।
-একটু দেখবেন প্লিজ! খুব জ্বালা করছে!
-কি হয়েছে? অমন করছেন কেন?
-জানিনা, চোখে কি পড়েছে দেখুন’না। উফ – খুব জ্বলছে…
-(মুচকি হেসে) আগে আপনি হাতটা সরান, দেখি…! এই পরিস্থিতে হাসায় বেশ রাগ হয় আমার
-না- নাহ,…!(হাত সরাতেই কষ্ট হচ্ছিল)
-(এবার হাসিটা আর একটু বেশি) এমা- দেখবো কিভাবে, হাতটা সরান বলছি!
মৃদু শাসনের ভয়ে আমি হাত সরিয়ে আরেক চোখে তাকালাম, অদ্ভুত রকম সুন্দর মুখের গড়ন- গভীর টানা চোখ; হঠাৎ মায়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল- পান পাতার মত মুখ আমার মায়ের খুব পছন্দ, এই সেই মুখ! আর তাতে জড়িয়ে আছে মায়ার আধার।
-চোখটা দু হাত দিয়ে টেনে রাখুন, ঝালপোকা পড়েছে, আমি ফুঁ- দিচ্ছি…
সে ফুঁ দিতে এল আমি নিজের চোখের পাতা নিজের হাতে খুলে রাখতে পারলাম না।খুব ব্যাথা করছিল-
-উফ ভারী মুশকিল! সরুনতো দেখি…
-আমি বাইকে ঝুঁকে এলাম। সে তার কোমল দুই হাত দিয়ে আমার চোখের পাতা দুটি টেনে ফুঁ দিচ্ছিল- একবার…দুইবার… তিনবার।… এই প্রথম কোন মেয়ে আমার চোখে মুখের এত কাছাকাছি এসে ফুঁ দিচ্ছে, শীতল পরশে আমি টোটাল সম্মোহন হয়ে গেলাম। অদ্ভুত একরকমের অনুভূতি! ভাবছিলাম মহান খোদা নারীর মাঝে এত মায়া ঢেলেছেন! সম্পুর্ন অপরিচিত একটা ছেলেকে অতি অল্প সময়ে কি নিপুণ ভাবে শশ্রূষা করছে একটা মেয়ে,, এজন্যই বুঝি এরা ‘মা’ হয়!
আমার সম্মোহন স্থায়িত্ব পেলনা, খুব কঠিন ভাবে কামড়ে ছিল পোকাটা।
আরেকবার ভালো করে দেখে নিয়ে…
-রুমাল আছে? পকেটে থাকলে বের করুন। কামড়ে আছে পোকাটা।
-হ্যাঁ, দিচ্ছি… রুমালটা বের করতেই – আরেকপ্রস্থ হেসে ফেললে মেয়েটা। কি কারনে সেটা আমার কাছের লোকরা জানে, সেটা নিয়ে ইতিহাস তৈরি হয়েছে, পরে পোষ্ট করা হবে ফেসবুকে। শুধু যেনে রাখুন আমি যখনই রুমাল কিনি সাদাই কিনি, কিন্তু কোনো ভাবে অতিরিক্ত ব্যবহারে আর অপরিষ্কারে সেটা হলদেটে কিংবা ছাই রং হয়ে যায়, ঝাঁঝালো গন্ধও থাকে, এমতবস্থায় কারো নাকে যদি ধরা যায় নিমেষেই জ্ঞান হারাতে পারে আর তাই বন্ধুরা সেটাকে ‘এনেস্থেশিয়া’ রুমাল বলে । যাইহোক, সেটা দেখেই হাসতে হাসতে বললো-
-ওটা রাখুন, লাগবে না। আমি কারন না বুঝে অবাক হলাম।
নিজের ওড়নার এক প্রান্ত সরু করে গুটিয়ে অদ্ভুত কায়দায় আমার চোখে কামড়ে থাকা পোকাটা বের করে আনলো।
ততক্ষণ প্রাণ ফিরে পেলাম যেন।
অপুর্ব মেয়েটির হাসি হাসি মুখ দেখে খুবি ভালো লাগছিল।
-এটা নিন, জলের পট ব্যাগের থেকে বের করে বললো- চোখে ঝাপটা দিন, আরাম পাবেন…
-ঢক…ঢক…ঢক… আগে খেয়ে নিলাম!! তারপরে চোখে দিলাম… এইবার- হি হি হি… দাঁত বের করে হাসতে লাগলো সে, কয়েক মুহুর্ত আমিও হাসতে লাগলাম…
-অনেক উপকার করলেন।কোথায় যাবেন?
-যাবনা,,পড়াতে এসেছিলাম। সামনের মোড়ে অটো স্টান্ড আমি ওইদিকে যাচ্ছিলাম। এই একটা জিনিষ যেসব মেয়েরা টিউশনি করায় তাদের আমি কখনো খারাপ হতে দেখিনি…কারন পরিস্থিতি আর জীবনের লড়াই তাদের সেই শিক্ষা দেয়না। (আর হ্যাঁ সাধারণ ভাবে তারা যাকে তাকেই মৃদু শাসন করে থাকে, যেটা বেশ লাগে আমার।)
-আসুন না বাইকে! হাঁটবেন কেন? এত বড় উপকার করলেন,,
-দুঃখিত আমি প্রতিদান নেব বলে করিনি।
-ঠিক আছে, কিন্ত আমি এখন কি করি বলুনতো। আপনাকে এভাবে…
– এভাবেই আমি রোজ যাই। আপনি চলে যান… বলেই আবার সে হাসতে লাগলো,, স্বাভাবিকের চেয়ে সে হাসির মাত্রা একটু বেশিই ছিল
-কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে আমিও চলে গেলাম…কিন্তু মাথায় একটা জিনিস ঘুরতেই আছে,, মেয়েটার অমন করে হাসির কি কারন ছিল…কেউ বলতে পারেন?!!
__ফিলিং: ভাল্লাগেনা! না না লাগে!(?)
হুরর- এই কনফিউজড থাকতে ভাল্লাগেনা…

★★ Please make a comment using Facebook profile ★★

অন্যান্য লেখা

Leave A Reply