উত্তর সিকিম- প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য

0
লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন
  • 9
    Shares

গত সপ্তাহে গ্রীষ্মাবকাশে ঘুরে এলাম স্বর্গ থেকে। প্রচুর লেখা এ প্রসঙ্গে আছে তাই ভাষানির্ভর না হয়ে লেখাটা অভিজ্ঞতা আর তথ্যকেন্দ্রিক করে তোলার চেষ্টা করলাম ভবিষ্যযাত্রীদের সুবিধার জন্য। NJP থেকে সোজা চলুন মঙ্গন- উত্তর সিকিমের সদর শহর। সময় লাগবে সাড়ে পাঁচ ঘন্টা মত। যারা গ্যাংটকের ভিড়ে আক্রান্ত না হয়ে প্রকৃতিকে নিরিবিলিতে উপভোগ করতে চান তাদের জন্য এ শহরের জুড়ি মেলা ভাব়। গাড়ীভাড়া চার থেকে পাঁচ হাজার চাহিদা ও ধরন অনুযায়ী। মঙ্গনে বিভিন্ন মানের হোটেল হোমস্টে রিসর্ট সহজেই পেয়ে যাবেন আটশো থেকে তিন হাজার টাকায়। নিজের সাধ্য আর পছন্দমত গিয়েই না হয় বুক করুন। সাবধানী হতে চাইলে যেকোন অনলাইন বুকিং ব্লগের সাহায্য নিতেই পারেন। হোটেল মাউন্ট ভিউ (03592234473) একটি বাজেট হোটেল যার ঘরে শুয়ে সিনিয়লচু পর্বতমালা দেখা যায় আকাশ পরিষ্কার থাকলে। পৌঁছে প্রথম দিন শুধু বিশ্রাম আর বিকেলের দিকে পায়ে পায়ে টিবেটিয়ান প্লেটুর উপর গড়ে ওঠা শহর চিনতে বেশ লাগবে। দ্বিতীয় দিনে গাড়ী বুক করে দেখে ফেলুন সিংবা রডোডেনড্রন স্যাংচুয়ারি , ফোদং লাবরং মনাস্ট্রি , সিংঘিক ভিউ পয়েন্ট রংলাংচেন লি হেরিটেজ হাউস ইত্যাদি । দুপুরের খাওয়া না হয় বাইরেই হল। ফেরার পর বিশ্রাম নিয়ে পরের দিন চলুন লাচেন। পথে দেখে নিন সেভেন সিস্টার আর নাগা ফলস। সময় লাগবে ঘন্টা চারেক যদি বিভিন্ন view points দেখতে দেখতে যেতে চান। সব শেষে লাচেন মনাস্ট্রি দেখে ঢুকে পড়ুন হোটেল ফরচুনায (09233424070)। বেশ লাক্সারিয়াস কিন্তু দামে কম। সার্ভিস,ঘর, ফুড সবই অসাধারণ লেগেছে আমার। ওরাই পরের দিন গুরুদোংমার যাত্রার গাড়ী ঠিক করে দেবে। তবে আগেভাগে বলে রাখবেন কিন্তু । ওহো বলতে ভুলে গেছি যেদিন মংগনে পৌঁছবেন সেদিনই যে যে জায়গা ঘুরতে চান তার পারমিট করিয়ে নেবেন। সাথে রাখবেন আসল পরিচয়পত্র, তার গোটা চারেক জেরক্স আর গোটা চারেক পাসপোর্ট ছবি। সময় বাঁচাতে হোটলের ওপরেই এই দায়িত্ব ছেড়ে দিন সামান্য অর্থের বিনিময়ে ।এরপর দিন কিন্তু সাতসকালে ওঠা। ভোর সাড়ে চারটের মধ্যে বেরিয়ে পড়ুন। প্রথমেই গুরুদোংমার। সময় লাগবে চার ঘন্টার মতো । যাত্রাপথ মোটেও সুখকর নয়। প্রচন্ড ঝাঁকুনিতে হাড়গোড় কাঁপাতে কাঁপাতে পথের দুপাশের নৈসর্গিক দৃশ্য দেখে পৌঁছে যান অমরাবতীতে। শ্বাসকষ্ট থাকলে সাথে কর্পূর রাখুন । শারীরিক অসুস্থতা থাকলে যতটা পারেন গিয়ে সেনা ছাউনিতে বিশ্রাম করুন আর সাথীদের এগিয়ে যেতে দিন। গাড়ী লেকের ধার অবধি যায়। নামার আগে 5 10 মিনিট গাড়ীতে বিশ্রাম নিন। কর্পূর শুঁকুন আর হাতে রাখুন। এটা claimatized হতে আর শ্বাসকষ্ট এড়াতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন তাপমাত্রা হিমাংকের নীচে আর সাথে প্রবল হাওয়া । ধীর পদে নেমে লেকটি পরিভ্রমণ করুন। ওপারে পাবেন ছোট্ট একটি মন্দির আর তার গা ধরে আরো মিনিট পাঁচেক হাঁটলে টুইন লেক। আসলে গুরুদোংমার এই তিনটি লেকের সমন্বয় । একটি নীল একটি সাদা আর একটি সবুজ জলের হ্রদ । জলে অবাধ বিচরণ ব্রাহ্মনী হাঁসেদের। মনোমুগ্ধকর এই পরিবেশে আপনি কোনো ভাবেই আধঘণ্টার বেশি টিকতে পারবেন না। তাই ফিরে এসে বসুন গাড়ীতে। অ্যামেচার ট্রেকিং এ আগ্রহীরা এরপর চলুন নতুন দিগন্ত কালাপাহাড় ট্রেক করতে।যদিও আমার হাত ভেঙ্গে যাওয়ায় সে পথ মাড়াতে পারিনি । ড্রাইভারের হাতে 2500 টাকা গুঁজে দিলেই কালাপাথ্থর আপনার হাতের মুঠোয় । আরো উত্তরে উচ্চতম হ্রদ চোলেমু এখান থেকে 18 কিমি, কিন্তু পারমিট জোগাড় করতে হয় তিনটি দপ্তর থেকে যেটা পেরে উঠিনি সময়াভাবে। এবার সোজা নেমে আসুন লাচুং এ। পথে প্রায় লাদাখের মত landscape আর অজস্র ঝর্নাধারায় নিজেকে হারিয়ে নিন সময় হিসাব করে। লাঞ্চ সাথে রাখা ড্রাইফুডেই একটা দিন সেরে ফেলুন। মনে রাখবেন ধূমপান প্লাস্টিক বর্জন এসব করে ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি। তাই কুঅভ্যাস ত্যাগ করতেই হবে অন্তত এযাত্রায়। লাচুং হোটেলে ঢোকার আগে অবশ্যই দেখুন লাচেন আর লাচুং চুর সঙ্গম। এখানেও আমার পছন্দের হোটেল ফরচুনা। পৌঁছতে বিকেল গড়িয়ে যাওয়া স্বাভাবিক । হোটেলের ব্যালকনি থেকে সূর্যাস্তের কাটাও পর্বতরাজী দেখে বিশ্রাম নিন। কারণ পরদিন আবার ভোরে বেরোতে হবে যদি কাটাও, ইয়ুমথাং আর জিরো পয়েন্ট কভার করতে চান। ভোর ছটায় অবশ্যই বেরিয়ে পড়ুন, প্রথমেই কাটাও- দেড় ঘন্টার পথ- অবশ্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পারমিশন সাপেক্ষে । হোটেলের মাধ্যমে এটা আগেই করে রাখুন । লাচুং নদীর উচ্ছলতা সঙ্গী করে চলে আসুন এই বরফিলা উপত্যকায়। কাটাও দর্শন সেরে চলুন ইয়ুমথাং। আমার চোখে সিকিমের সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরতম স্হান এই ভ্যালি। রূপ রং বাহারে সাতটি উষ্ণ প্রস্রবণ আর অগুন্তি ঝর্নাধারায় এ উপত্যকা যেন নন্দনকানন। এখানেই দুপুরের লাঞ্চ করুন 11টার মধ্যে । তারপর বরফ খেলতে চলুন জিরো পয়েন্ট বা ইউমেসাডং। ড্রাইভার আর গাড়ী ভাল হলে অল্প মূল্যের বিনিময়ে যাত্রাপথে বেশ কিছু দর্শনীয় স্হান দেখতে পাবেন। বরফকেলি শেষ হলে ফিরে আসুন ফরচুনায়। ও হ্যাঁ, ইউমেসাডং যেতে গামবুট ভাড়া নিতে ভুলবেন না ইয়ুমথাং থেকে। এরপর হোটেলে একটু ফ্রেশ হয়ে হয় রাত কাটান নয় রওনা দিন গ্যাংটক । রাত নটার মধ্যে পৌঁছে যাবেন। পরদিন সকালটা দলের মেয়েদের MG Market এ ঘোরা আর কিছু কেনাকাটার সুযোগ করে দিলেই সকলে চাঙ্গা হয়ে যাবে আর আপনার অ্যামেচার ট্যুর ম্যানেজারীও সফল। এরপর তো ঘরে ফেরার পালা। মনখারাপের ঝোলাটা তাই বন্ধই থাক।

উপরের সব স্পট গাড়ী বিভ্রাট আর ট্রাভেল এজেন্টের অপদার্থতায় কভার করতে পারিনি বলেই এতটা লেখা যাতে আর কারো অসুবিধা না হয়।

প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র আর ওষুধপত্র নিতে ভুলবেন না । আর কোনো ট্রাভেলস বা এজেন্সির পাল্লায় পড়বেন না । নিজের প্রয়োজন আর রেস্ত মতো নিজেই ব্যবস্থা করে নিন কারণ আপনিই আপনাকে সবচেয়ে ভাল বোঝেন।

Njp থেকে গাড়ী ভাড়ার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন রবিকে (8972694958) আর উত্তর সিকিম ঘোরার গাড়ী পেতে প্যাট্রিক প্রধান (9474980646)।

আরো অনুপ্রাণিত করতে কিছু ছবিও সাথে দিলাম আর একটানেই লেখাটা শেষ করলাম কারণ ভ্রমনার্থীদের সুবিধাটাই অগ্রগণ্য ।

সবশেষে photography r প্রশংসা দেখে photographer er ছবি যোগ না করে পারলাম না। ঋতপ্রভ – আমার ছেলেরই এটা প্রাপ্য।

শুভযাত্রা ☺☺☺🌹


লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন
  • 9
    Shares

★আপনার মূল্যবান মন্তব্য দিয়ে আমাদের পথ চলা ধারাকে অব্যাহত রাখুন★

★ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে কমেন্ট করুন★

Leave A Reply