চোখ নেই বলে কেনো নিজেকে বিকলাঙ্গ বলবো?

0
Share it, if you like it

গোল-গাপ্পা দাদা,গোল-গাপ্পা, লজেন্সে পাবে ফুচকার স্বাদ।হ্যাঁ কখনো লক্ষীকান্তপুর লোকাল,কখনো বারুইপুর লোকাল, কখনো ক্যানিং লোকালে দেখেছেন লোকটাকে।একটু ভুল হয়ে গেলো।লোক গুলোকে দেখেছেন।এরা চোখে দেখতে পায় না তাতে কি?তাঁদের দাবি চোখ নেই বলে কেনো নিজেকে বিকলাঙ্গ বলবো? কেনো অন্যের উপর নির্ভরশীল হবো?দুচোখে অন্ধ হয়েও যে কিছু করা যায় তার চাক্ষুষ প্রমান ইনি বা এনারা।
শেয়ালদাহতে ট্রেনটা ডুকেছে সবাই নামবে।লোকটাকে বালিগঞ্জ থেকে দেখে আসছি।বললাম শুনুন আপনার সাথে দুমিনিট কথা বলতে পারি? উনি বললেন হ্যাঁ কেনো নয়।ততোক্খনে শেয়ালদাহ স্ট্রেশনে সবাই নেমে গিয়েছে আমি ওনাকে বসালাম ট্রেনের সিটে বললাম আপনার
নাম কি?
-কবির হোসেন ।
বাড়ী কোথায় আপনার?
-বীরভূূমে বাড়ী।
কলকাতায় এলেন কি করে ?
-পড়াশোনার জন্য এসেছিলাম।তারপরে দেখলাম কিছু একটা করা দরকার। আর কতদিন পরিবারের ভরসায় পরে থাকবো!তারপর এই ব্যাবসা শুরু করলাম।
বাড়িতে কে কে আছে?
-একটু ইতস্তত হয়ে বললো সবাই আছে মা বাবা দাদা বউদি ভাইপো। আমি দেখলাম কতদিন সবার উপর নির্ভরশীল থাকবো।এবার নিজের কিছু করা দরকার।
কতদিন করছেন এই ব্যাবসা?
-বিগত তিন বছর করছি।

হ্যাঁ তিনি বলেছেন তাঁর অসুবিধা খুব হয় না। কারন তাঁর মতে যে মানুষ পথ চেনে না কিন্তু চোখে দেখতে পায় ।সে মানুষ কাউকে না কাউকে জিঙ্গাসা করে পথ চলে।তাই তাঁরও কোনো সমস্যা হয় না।তবে প্রথম প্রথম সমস্যা হতো। তবে এখন ঠিক আছে।না এনারা একা নয় এদের মতো আরও অনেকে আছেন।এনাদের একটা দল আছে।যাঁরা এক সাথে থাকে।এনারা হাত পেতে ভিক্ষা চায় না। জিনিস এবং পরিশ্রমের বিনিময়ে টাকা নেয়।

কিন্তু এদের ব্যাপারে এতগুলো কথা কেনো লিখলাম?এবার আসা যাক আসল ব্যাপারে।ট্রেনে কম বেশি প্রায় সবাই বাড়ীর বাচ্চার জন্য লজেন্স কেনেন।কেউ বা কেনেন নিজেদের খাওয়ার জন্য। এক মাসি মাকে দেখলাম অদ্ভুত আচারন করতে। মাসিমায়ের সাথে থাকা বাচ্চাটা লজেন্স খাওয়ার জন্য কাঁদছে ওনি কিনে দিলেন না। কিন্তু পরক্খনে অন্য একজন লজেন্স বেপারি এলে উনি কিনে দিলেন বাচ্চাটাকে(তখনও কিন্তু অন্ধলোকটি লজেন্স বিক্রি করছিলেন ট্রেনে)।পরেরটা আরও আর্কষনীয় এই অন্ধদের কাছে লজেন্সের বিনিময়ে টাকা দিতে সমস্যা।কিন্তু কম বয়সী ছেলেটা ঠাকুরের ফটো দেখিয়ে হাত পাতছে। তাকে টাকা দিতে সমস্যা নেই।পূন্যি করছেন কি? সত্যি করে বলুন তো?ভগবান কখনও বলেছে কি আপনাকে? যে নিজেদের অক্ষমতাকে যার হাতিয়ার না বানিয়ে নিজের পেটে চালানোর চেষ্টা করছে ।তাদের পেটে লাথি মারো?
অনুরোধ একটাই ঘরের বাচ্চার জন্য তো লজেন্স কেনেন?পূজার ধূপ কাঠি কেনেন তো? সেই যখন কেনেন তাহলে এদের কাছে কিনতে সমস্যা কোথায়?বিশ্বাস করুন ওরা চুরি করছে না,লোকের কাছে ভিক্ষাও চায়ছে না।ওরা লড়াই করে পরিশ্রম করে উপার্জন করতে চায়ছে। আমাদের উচিত নয় কি ওদের পাশে থাকা? নিজেকে এবং নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করুন।।
আর এই বিষয়ে সচ্চার হোন অন্যকে সচ্চার করুন।নিচে মানুষটির কিছু ফোটো আর একটা ভিডিও দিলাম।

Dyuti Purkait

Author’s facebook profile link:

Dyuti Purkait

অন্যান্য লেখা

Leave A Reply