পল্লীসমাজ

0
লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন
  • 40
    Shares

সবাই ঘুরতে যায়,পাহাড় কিংবা সমুদ্র অথবা জঙ্গল।আমারও মন কদিন ধরে বড্ড পাহাড় পাহাড় করছিল,কিন্তু কেউ নিয়েই গেল না।বরাবর আমার পাহাড় খুবই প্রিয় , সত্যি বলতে সমুদ্র অতটা টানে না,আর রইলো জঙ্গল,সে আর কপালে কই ? যাইহোক,অবশেষে কেউ যখন কোথাও নিয়েই গেল না,একা একা বেরিয়ে পড়াই উচিত।
যদি আমার ডাক শুনে কেউ নাই নিয়ে যায়,তবে একলা চলো রে। নিজের গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম,গন্তব্য সিউড়ি, নিজেস্ব কাজ সেরে এবার রওনা তারাপীঠ। তবে এ তারাপীঠ ভ্রমণ চিরাচরিত ওই মন্দির-পুজো-পাঁঠা নয় একটু অন্যরকম।বিরচন্দ্রাপুর ভ্রমণে বেড়ালাম, ওখানে দেখার জিনিস প্রচুর নিত্যানন্দ মন্দির,গৌরীয় মঠ,এবং সর্বোপরি গুপ্তবৃন্দাবন ।

কথিত আছে , পঞ্চপাণ্ডব ও কুন্তী মাতা এখানে আত্মগোপন করেছিলেন , এখানেই ব্যাসদেবের আশ্রমে,দেখার কিছু নেই,তবে মন্দিরটা তৈরি হচ্ছে।এছাড়া একটি পুরি মন্দির আছে। একদম জগন্নাথ দেবের মন্দির অনুকরণে।
তারাপীঠ খুবই জনপ্রিয় সতী পীঠ,তবে পাশেই আরেকটি পীঠ একদম জনমানব হীন হয়ে পড়ে,নলাটেশরী, সবাই তারাপীঠ নিয়ে ব্যাস্ত খুব,এটিকিন্তু খুবই সুন্দর।

বীরভূম ভ্রমণ সেরে এবার যাবার পালা,মুর্শিদাবাদ। উদ্দেশ্য,হাজারদুয়ারী। তা সে তো পৌছালাম দেখলাম। হাজারদুয়ারী নিয়ে বলার কিছুই নেই , এক কথায় অনবদ্য।এর পর এলাম , কান্দি ।বহরমপুরের কাছেই একটি জায়গা এবং সেই জায়গার একটি গ্রাম চরগাছি।আমার এবারের উদ্দেশ্য ছিল পল্লীসমাজ।সেটা তো গ্রাম না হলে হবে না,পাহাড়ের মতো রূপ নেয় তবে,গঙ্গার পাশেই এই গ্রামে আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই,পার হীন , নরম মাটিতে পা ফেলে এক বুক গঙ্গাজলে স্নান,যে করেনি সে বুঝবে না এই স্বর্গীয় আনন্দ। গ্রামের এক বাড়িতেই, আলুপোস্ত বিউলির ডাল সহযোগে পাটশাক মাখা ভাত আর তারপর মাটির ঘরে ভাত ঘুম।সত্যি বলছি,এ স্বর্গ।

যাইহোক এবার রওনা বোলপুর।তবে,শান্তিনিকেতন নয়,গোয়ালপাড়া।এক একটি গ্রাম এক এক রকম সুন্দর।গোয়ালপাড়ার লাল মাটি কিন্তু এবার চরগাছীর গঙ্গা মাটির মতো নয়।একই ভাবে দেশি মুরগির ঝোল আর ভাত সহযোগে পেট পুজো করে,কোপাই ,সোনাঝুড়ি,সব সেরে আবার রওনা। যাইহোক,এরাম আয়েশ করে আবার রওনা এবার যাত্রা বর্ধমান গুসকরা,এই জায়গার মিষ্টি অত্যন্ত দারুন।গুসকরা দিয়ে বেশ দূরে,চাণক্য গ্রাম।এর পাশে নদী নেই তবে আদি দিগন্ত খেত আছে।পুকুরপাড়ে শান্ত দুপুর কিংবা জাম গাছে থেকে ফল পাড়া জানিনা আমার যেন আসতেই ইচ্ছা করছিল না। সব ছবি ক্যামেরায় থাকার দরুন দিতে পারলাম না , যা ফোনে ছিল দিলাম। সব শেষে এ ভ্রমণ ভিন্ন এবং অন্য ।

(আগেই বলেছি , এ ভ্রমণ কোনো ভ্রমণ কাহিনী নয় । এখানে কোনো থাকার জায়গা নেই , কোনো টুরিসম নেই । তবে বিরচন্দ্রাপুর ঘুরতেই পারেন তারাপীঠ দিয়ে । আর গোয়ালপাড়া ঘুরতে গেলে বোলপুর দিয়ে ঘুরতে হবে । গঙ্গার পাড়ে স্নান করতে গেলে হাজারদুয়ারীর কাছেই পারেন , আলুপোস্ত খেতে গেলে বর্ধমানের যে কোনো সাধারণ হোটেলেই পারেন । আমি শুধু নিজের উপলব্ধি বলেছি , কোনো ট্যুরিস্ট স্পট শেয়ার করছিনা । )

সায়ন্তিকা দত্ত

সায়ন্তিকা দত্ত
বাড়ি , কলকাতা
বায়ো কেমিস্ট্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী
গুরুদাস কলেজ
বয়েস 19 বছর


লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন
  • 40
    Shares

★আপনার মূল্যবান মন্তব্য দিয়ে আমাদের পথ চলা ধারাকে অব্যাহত রাখুন★

★ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে কমেন্ট করুন★

Leave A Reply