যেন মাছি তাড়ানোর মতো তাড়িয়ে দিতে চাইলেন দুর্বল মুহুর্তগুলোকে

0
Share it, if you like it


ক্ষীণ শরীর। পরণে সাদা শার্ট। কালো প্যান্ট। পায়ে চপ্পল। বয়স সত্তরের ওপর। অষ্টমীর সকালেও তাঁকে দেখলাম ডাউন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের এসি কামরায়। দামি কলম, নেল কাটার, মোবাইলের কভার, এসব পসরা নিয়ে হাজির তিনি।
…এই বয়সে, আজকের দিনেও বেরিয়েছেন কেন?
ম্লান হেসে বৃদ্ধের জবাব,
….ক্যানসারে মারা গেছেন স্ত্রী। তিন লক্ষ টাকা ধার করে তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। এখনও কুড়ি হাজার টাকা ঋণ শোধ করতে হবে। পুজোর দিন তিন মেয়েই এসেছে বাড়িতে। বিক্রি থেকে গতকাল যা আয় হয়েছিল, মেয়েদের জন্য খরচ করেছি। ছোট জামাইয়ের কারখানা বন্ধ। মেয়েটা বড় কষ্টে আছে। বিকেলে যদি নাতিরা আবদার করে? মোগলাই বা বিরিয়ানি খেতে চায়? পকেট ঝেড়েঝুড়ে সব তো খরচ হয়ে গেছে। টাকা পাবো কোথায়? তাই পুজোর দিনেও বেরোতে হল। তিন-চারশ টাকা হলেই ফিরে যাব। ব্যান্ডেলে নেমে বারো মাইল সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরব।…

কথা শেষ হতেই পরিচিত এক যাত্রী জানতে চাইলেন, শরীর কেমন?
….কেমন আর থাকবে? চারশ সুগার। এই অবস্থায় যেমন চলে তেমনই চলছে।
…মেয়েরা কালই চলে যাবে। তারপর ফাঁকা ঘরে একাই কাটাতে হবে দিন। অসুস্থ হলে এক গ্লাস জলও নিজে গড়িয়ে খেতে হবে।

ম্লান হাসিতে শেষ করলেন নিজের কথা। তারপর একটা ঝটকায় শরীরটাকে টান টান করে দাঁড়ালেন। যেন মাছি তাড়ানোর মতো তাড়িয়ে দিতে চাইলেন দুর্বল মুহুর্তগুলোকে। আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলেন পরের কামরায়। এগিয়ে তো যেতেই হবে। বাড়িতে নাতিরা অপেক্ষা করে আছে যে…

★★ Please make a comment using Facebook profile ★★

অজানা লেখক

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এই লেখাটি নেওয়া হয়েছে। এই প্রবন্ধ বা পোষ্ট লেখকের পরিচয় যতটুকু পেয়েছি, লেখার নীচে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এই লেখাটির লেখকের সন্ধান বিস্তারিত জেনে থাকেন, দয়া করে অবশ্যই জানাবেন। আমাদের email করুন এই ঠিকানায়, i@pagolerprolap.in অথবা লেখার নীচে কমেন্টে করুন।

অন্যান্য লেখা

Leave A Reply