নগ্ন সত্য – বিজন অধিকারী

0
Share it, if you like it

(ঊনবিংশ শতাব্দীর রূপকথা অনুসারে)
একদা সত্য ও মিথ্যা বাস করত কোন এক নগরে। একদিন মুখোমুখি দেখা হ’ল দু’জনের। মিথ্যা সত্যকে ডেকে বলল, “দেখ, কী মনোমুগ্ধকর দিন আজ!” মিথ্যার কথা শুনে সত্য আকাশের দিকে তাকাল, গভীর শ্বাস ফেলে জানাল, “সত্যিই বড় মনোরম দিন আজ!” তারপর সত্য-মিথ্যা দু’জনে একসাথে সারাদিন ঘুরে বেড়াল নগরের সর্বত্র! অবশেষে তারা এসে পৌঁছাল নগরপ্রান্তে একটা বড় কূয়োর ধারে। সারাদিনের পথশ্রমে দু’জনেই ক্লান্ত! কুয়োর পরিষ্কার টলটলে জল দেখে দু’জনেই খুব আনন্দিত। মিথ্যা সত্যর উদ্দেশে বলল, “এসো এই স্বচ্ছ সুন্দর জলে দু’ জনে একসাথে স্নান করি, শরীরের সমস্ত ক্লান্তি দূর করি!” সত্যের মনে খানিকটা সন্দেহ জাগলেও জল পরীক্ষা করে দেখল যে, কূয়োর জল সত্যিই খুব সুন্দর। তাই জামাকাপড় ছেড়ে কূয়োর পাশে রেখে দু’ জনেই নেমে পড়ল কূয়োর ঠান্ডা জলে শরীরের ক্লান্তি দূর করতে! হঠাৎ মিথ্যা উঠে পড়ল কূয়ো থেকে।

তারপর সত্যের জামাকাপড় পরে নিয়ে চম্পট দিল সেই স্থান থেকে! ক্রদ্ধ সত্য উঠে এল কূয়ো পাড়ে, তারপর নগ্নদেহে দৌড়তে লাগল মিথ্যার পিছু পিছু। মিথ্যা ততক্ষণে সত্যের নাগালের বাইরে! উলঙ্গ সত্য সর্বত্র দৌড়তে লাগল মিথ্যার খোঁজে, নিজের হারানো পোশাক ফিরে পেতে! সারা পৃথিবী দেখতে পেল নগ্ন সত্যকে, লজ্জায়-ঘৃণায়-রাগে মুখ ফিরিয়ে নিল নগ্ন সত্যের দিক থেকে! বেচারি সত্য ফিরে গেল সেই কূয়োর মধ্যে। আত্মাভিমানী সত্য চিরতরে আত্মগোপন করে রইল নির্জন কূয়োর মধ্যে, লোকচক্ষুর অন্তরালে!

আর সেই থেকেই সত্যের ঝলমলে পোশাক পরে বহাল তবিয়তে সাড়ম্বরে রাজ করে চলেছে মিথ্যা সারা পৃথিবী জুড়ে!
আধুনিক মানুষের আজ আর কোন প্রয়োজন নেই সত্যের, সে যে বড় নগ্ন!

★★ Please make a comment using Facebook profile ★★

অজানা লেখক

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এই লেখাটি নেওয়া হয়েছে। এই প্রবন্ধ বা পোষ্ট লেখকের পরিচয় যতটুকু পেয়েছি, লেখার নীচে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এই লেখাটির লেখকের সন্ধান বিস্তারিত জেনে থাকেন, দয়া করে অবশ্যই জানাবেন। আমাদের email করুন এই ঠিকানায়, i@pagolerprolap.in অথবা লেখার নীচে কমেন্টে করুন।

অন্যান্য লেখা

Leave A Reply