২য় পর্ব ★ মিররলেস ক্যামেরা (Mirrorless Cameras) ★ শুভম পালিত

3
Share it, if you like it

প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই সে সকল বন্ধুদের যাঁরা এই ব্যাস্ততার মাঝেও সময় করে আগের এপিসোড টা পড়েছেন ও তাঁদের মতামত জানিয়েছিলেন। গত এপিসোড টায় আমি Point and Shoot আর DSLR ক্যামেরা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম আর শেয়ার করেছিলাম এই ২ রকম ক্যামেরা নিয়ে নিজের এক্সপিরিয়েন্স। সেই পোস্ট এ অনেকেই আমায় Mirrorless ক্যামেরা নিয়ে একটু আলোচনা করতে বলেন। প্রথমেই বলে রাখি যে আমি নিজে Mirrorless ক্যামেরায় ছবি তুলিনি। এই পোস্ট টা বিভিন্ন website, বই আর বন্ধুদের থেকে পাওয়া (Re)view এর Summary বলতে পারেন। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আমার নিজস্ব মতামত ও রেখেছি যদিও সেটা অনেকটাই অনুমান নির্ভর।

কি এই Mirrorless Camera?
ভাবতে গেলে সাধারন সেলফোন ক্যামেরা, পুরনো কোড্যাক KB10 , আজকের Point and Shoot, সবই Mirrorless ক্যামেরা। তাহলে এই ক্যামেরা তে নতুন কি আছে যে এত হই-হল্লা? নতুন ব্যাপার এই যে ওপরের একটা ক্যামেরাতেও Lens পরিবর্তন করার উপায় নেই (যেমনটা আপনি DSLR এ করতে পারেন) – যেটা আপনি পাবেন এই নতুন প্রযুক্তির Mirrorless Camera তে। তাই এর আসল নাম – Mirrorless Interchangeable Lens Camera বা সংক্ষেপে MILC।
গত এপিসোডে DSLR নিয়ে আলোচনার পর আশা করি অনেকেই বুঝতে পেরেছেন যে DSLR সব সময় ক্যারি করা কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার- সাথে ২-৩টে লেন্স থাকলে তো কথাই নেই। এইখানেই MILC ‘র বাজিমাত। অসম্ভব ছোট সাইজ আর দুর্দান্ত রেজাল্ট – পকেট হারকিউলিস।

1. DSLR এর সাথে পার্থক্য কোথায়?
খুব বেশী optics এ না ঢুকে, DSLR বা Digital Single Lens Reflex ক্যামেরার mechanism লক্ষ্য করলে আমরা দেখব যে এতে ১টা Translucent Mirror বা আয়না রয়েছে। লেন্স দিয়ে ঢোকা আলো এই আয়না তে রিফলেক্ট করে একটা Prism এ পুনরায় ধাক্কা খেয়ে ভিউ-ফাইন্ডার (Optical view finder বা OVF) এ রাখা আপনার চোখে আসে যেটা দেখে আপনি ছবিটা কমপোজ করেন। এই আয়না টা Translucent হওয়ায় কিছুটা আলো আয়নার ভিতর দিয়ে ক্যামেরায় প্রবেশ করে অটোফোকাস পেতে সাহায্য করে। শাটার টেপার সময় এই আয়না টা ওপরে উঠে গিয়ে আয়নার পেছনে সেন্সর টি কে রিভিল করে যার ওপর ছবিটা ক্যাপচার হয়।

MILC তে এই Mirror-Prism এর যাঁতাকল টাই নেই। লেন্স দিয়ে ঢোকা আলো ডাইরেক্ট সেন্সর এ পড়ছে আর সেন্সর থেকে সোজা ইলেকট্রনিক ভিউ-ফাইন্ডার / LCD এর মাধ্যমে আপনার কাছে পৌঁছচ্ছে। ক্যামেরার ভেতর এই DSLR এর ন্যায় Mirror-Prism box না থাকার দরুন আপনি পেয়ে যাচ্ছেন অত্যন্ত ছোট আর হাল্কা একটা ক্যামেরা বডি। উপরন্তু লেন্স পরিবর্তন এর সুজোগ থাকায় আপনার কাছে বিভিন্ন সাব্জেক্ট এর জন্য specialised লেন্স ব্যাবহার করার সুবিধাও থাকলো- এক্কেবারে DSLR এর মতন।

2. অটোফোকাস
এই অংশ টা বোঝানো সবচেয়ে কঠিন। মোটামুটি জানতে হবে যে ক্যামেরা তে ২ভাবে অটোফোকাস করা হয়। ১. Phase Detect ২. Contrast Detect আর Phase Detect autofocus is faster than Contrast Detect. আগেকারদিনের Mirrorless ক্যামেরায়, ধরুন এই শতাব্দীর প্রথম দশকে, Contrast Detect Autofocus সিস্টেম থাকতো। তাই এইক্ষেত্রে Mirrorless ক্যামেরা গুলি DSLR এর থেকে অনেকটা পিছিয়ে ছিল। তফাৎ টা বেশি করে ধরা পড়তে লাগল সেই সব সময় যখন অারো বেশী স্পীড এর প্রয়োজন আর প্রয়োজন Continuous Autofocus বা Subject Tracking এর ( ধরুন একটা বাঘ হেঁটে চলেছে বা পুরোদমে মেসি ড্রিবল করছে) – অ্যাকশন, স্পোর্টস বা ওয়াইল্ডলাইফ ফোটোগ্রাফি। কিন্তু ইদানিং এই Mirrorless নিয়ে এতো আবিষ্কার হয়েছে যে Phase Detect Autofocus সমৃদ্ধ MILC ও বাজারে উপস্থিত যা ধীরে ধীরে DSLR আর MILC’র স্পীড এর পার্থক্য মুছে দিচ্ছে আর অনেকের অভিমতে Sony A9 ক্যামেরা টি পার্থক্য টা একেবারে মুছে দিয়েছে। এরম ই কিছু অসম্ভব গতি সমপন্ন MILC’র রিভিউ আপনি নিচের লিংক এ পড়তে পারেন।

Best Mirrorless Cameras for Wildlife and Birds in 2018

যদিও এগুলির দাম এখনো প্রায় মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার অনেকটাই বাইরে। লিস্ট এ দেওয়া ক্যামেরা গুলির মধ্যে সবচেয়ে কম দামী ক্যামেরাটির দাম প্রায় ৬০ ছুঁই -ছু্ঁই!!!

এন্ট্রি বা মিডিয়াম লেভেল এর MILC’র স্পীড নিয়ে একেবারেই যদি আমার ব্যাক্তিগত মতামত বলতে হয়, তাহলে আমি বলব যে আমি এখনো ১০০% নিশ্চিত নই আর যেহেতু আমি প্রাথমিক ভাবে wildlife করি আমি এখনো এন্ট্রি বা মিডিয়াম লেভেলে DSLR এর স্পীড আর Continuous focussing এর ওপর ই ভরসা করব।

এখানে আরো ১টা ব্যাপার আমার মনে হয়েছে যে সাইজ খুব ছোট হওয়াতে ১টা বড় সাইজের লেন্স (১০০-৪০০ জাতীয় ) ক্যামেরায় লাগালে ভারসাম্যের অভাব হতে পারে যা কিনা একটা শক্তপোক্ত DSLR এ হবেনা। কিছু MILC ক্যামেরা এই ভারসাম্যের অভাব মেটাতে যদিও সেন্সর সাইজ ছোট রেখে একটা আয়তন এ ছোট ৭০-২০০ লেন্স কে ১৪০-৪০০’র মতো করতে পারে (2x crop factor)।

আগামী দিনে প্রযুক্তির উন্নতির সাথে Autofocus speed আর Balance হয়তো ভাল হবে। কিন্তু একটা ক্ষেত্রে MILC’r DSLR কে হারানোর চান্স কম – Battery Life. যেহেতু সারাক্ষন এটা Live view মোড এ থাকে তাই Battery ক্ষয় বেশি হয়। এটাও wildlife এর ক্ষেত্রে MILC না ব্যাবহার করার একটা মুখ্য কারন যেহেতু wildlife এ সারাক্ষন ক্যামেরা অন রাখতে হয়।

তাহলে MILC কখন ভাল?
ধরুন আপনার চাই একটা অল টাইম সাথে রাখার মতন ক্যামেরা যেটা নিয়ে আপনি রাস্তায় ছবি তুলতে বের হলে কেউ দৃষ্টিপাত করবে না। বা Point and Shoot এর চেয়ে ঢের ভাল DSLR কোয়ালিটি ছবি তোলা যায় এমন একটা ক্যামেরা যা কিনা আপনার Travel Bag এ প্রায় কোনো অতিরিক্ত যায়গা নেবেনা। তখন MILC আপনার সলিউশন।
আপনি যদি স্টিল ছবির চেয়ে ভিডিও তে বেশী ইন্টারেস্টেড হন, তাহলেও MILC আপনার কাছে DSLR এর থেকে বেশী উপযোগী মনে হবে। ভিডিও তোলার সময় DSLR কেও OVF থেকে লাইভ ভিউ মোড এ আনতে হয় । এতে ব্যাটারির অ্যাডভান্টেজ টা শুন্য হয়ে যাবে। আর MILC প্রস্তুতকারক মুখ্য সংস্হা গুলি যেমন Sony / Panasonic, এরা ভিডিও ক্ষমতা নিয়ে প্রচুর মাত্রায় রিসার্চ করতে থাকে যার কারনে MILC সবসময় ভিডিও তোলায় DSLR এর থেকে এগিয়ে থাকবে।

আগামি উইকএন্ডে ক্যামেরা বেসিক্স নিয়ে এট্টু আলোচনা হয়ে যাক?

এই এপিসোড টা যাঁদের ছাড়া লেখা হতো না-
১. সুমন্ত মুখোপাধ্যায়
২.অরিত্র মুখোপাধ্যায়
৩. Digital Trends Website
৪. Better Photography magazine
৫. India today ‘র একটা MILC নিয়ে আলোচনা
৬. আরো কিছু সার্ফ করতে করতে দেখা website

অন্যান্য পর্ব নিচের লিঙ্কে পাবেন

All Other Post By Shubham Palit

Shubham Palit

Author’s Facebook Profile Link:
Shubham Palit

অন্যান্য লেখা