নাট্রোন লেক, আফ্রিকা মহাদেশের তানজানিয়ার অত্যন্ত প্রত্যন্ত একটি অঞ্চল

0

আফ্রিকা মহাদেশের তানজানিয়ার অত্যন্ত প্রত্যন্ত একটি অঞ্চল। সেখানে রয়েছে এক আজব হ্রদ যার নাম নাট্রোন লেক। লাল টুকটুকে রঙের জলের এক অসাধারণ সুন্দর হ্রদ। এতই লাল যে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। আশেপাশের পাহাড় থেকে বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিপুল পরিমানে এখানে নেমে আসায় এই জল লাল দেখায় । কিন্তু এত সুন্দর জলাশয় অথচ একটি প্রাণীও নেই সেখানে। শুধু তাই নয় কোন পশুপাখিই এই হ্রদের ধারে কাছও দিয়েও যেতে চায় না। অবাক কান্ড তাই না ? আসলে ব্যাপার হল আগ্নেয়গিরির ছাই মিশে এই হ্রদের জলকে অসম্ভব ক্ষারীয় করে তুলেছে। এর সাথে জলে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত লবন । এই দুইয়ে মিলে এমন অবস্থা হয়েছে যা কল্পনাই করা যায় না। ফলস্বরুপ সবসময় প্রায় ১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট মাত্রার গরম জল থাকে এখানে।

প্রচুর পরিমানে সোডিয়াম কার্বনেট আর লবন থাকায় এই জলের সংস্পর্শে আসা মাত্রই যে কোন পশু পাখি প্রস্তরীভূত বা জীবাস্মে পরিনত হয়ে যায়। প্রাচীন মিশরিয়রা মমি বানাতে এই সোডিয়াম কার্বনেট ব্যবহার করত। এই কারনে এখানে পাথর হয়ে যাওয়া জীবজন্তুর দেহগুলি কখনোই নষ্ট হয়ে যায় না। হয়তো ক্ষারের কারনে চামড়া এবং চোখ গুলি নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু তবুও সারা দেহই থাকে অবিকৃত। শুধু রক্তমাংসের প্রানীর দেহগুলি পাথরে পরিনত হয় । প্রখ্যাত আলোকচিত্রি নিক ব্রাউন বিস্তারিত ভাবে এই হ্রদ এবং ফসিল গুলির ছবি তার ক্যামেরায় ধরে রেখেছেন। কিন্তু প্রাণীগুলির মৃত্যু কিভাবে হয়েছে তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে সংশয় থাকার কারনে বিষয়টি রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে। এই হ্রদের পার্শ্ববর্তী এলাকা আফ্রিকার লেজার ফ্লেমিঙ্গোদের প্রজনন ক্ষেত্র। এর কারন পাহাড় থেকে নেমে আসা সেই লাল ব্যাকটেরিয়াই ফ্লেমিঙ্গোদের প্রধান খাদ্য। এত সুন্দর একটি জায়গা অথচ এমন এক মৃত্যুপুরী সত্যিই পৃথিবীর একটি আশ্চর্য এবং বিষ্ময়ের স্থানই বটে।
🌍 সংগৃহিত এই প্রবন্ধ সমন্ধে আপনার মতামত জানান ।

Share.

About Author

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এই লেখাটি নেওয়া হয়েছে। এই প্রবন্ধ বা পোষ্ট লেখকের পরিচয় যতটুকু পেয়েছি, লেখার নীচে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এই লেখাটির লেখকের সন্ধান বিস্তারিত জেনে থাকেন, দয়া করে অবশ্যই জানাবেন। আমাদের email করুন এই ঠিকানায়, i@pagolerprolap.in অথবা লেখার নীচে কমেন্টে করুন।

Leave A Reply