কলকাতায় রাস্তার মুখরোচক★খাই খাই(৬)

0
লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন
  • 11
    Shares

কলকাতায় রাস্তার পাশে ফুচকা খেয়েছেন কখনো? আপনি অন্য শহরে থাকেন? সেখানেও ফুচকা তার স্বমহিমায় হাজির। আহা! ভাবুন তো? শীত, গ্রীষ্ম,বর্ষা। ঋতু যাই হোক না কেন; যে কোন সময় যে কোন ভাবে আবাল বৃদ্ধ বনিতার কাছে ফুচকা খুব আদরের খাবার। ভূল বললাম? আমি তো ফুচকার আর একটা নাম জানি- ‘গুপচুপ’। এটা অবাঙালীরা বলেন। আবার অন্যান্য প্রদেশে বলে গোলগাপ্পা। আরে, নাম যাই হোক না কেন ফুচকা যুগে যুগে প্রাসঙ্গিক খাবার। এর মতো মুখরোচক খাবার মনে হয় আর একটাও নেই। ছোট্ট একটা ফুলকো লুচির পেটে ফুটো করে ঐ যে আলু, মটর সব মশলা আর তেঁতুল জল দিয়ে মাখা মন্ড থেকে একটু করে নিয়ে নিপুন হাতে তার ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া; তারপর তেঁতুল গোলা জলে ডুবিয়ে একটা করে আপনার বাঁ হাতে ধরা শাল পাতার বাটিতে পরিবেশন করা– জাস্ট কোন কথা হবে না। ফুচকার কিন্তু রকমফের রয়েছে।

দই ফুচকা, মিস্টি ফুচকা আরও কত কি। দই ফুচকা তো বোঝাই যাচ্ছে টক জলের বদলে দই দিয়ে গার্নিশ করা। মিস্টি ফুচকা হল এক ধরণের মিস্টি চাটনি দিয়ে পরিবেশন করা হয়। এটা একবার খেয়েছিলাম ঢাকুরিয়া দক্ষিণাপনের সামনে। আমার অবশ্য এই খাবারটাই বিশেষ পছন্দের নয়। মনে আছে বিয়ের পর বালিগঞ্জ পেট্রোল পাম্পের সামনে প্রথমবার ফুচকা খাওয়ার কথা। দই ফুচকা তবুও খেতাম বিয়ের আগে। এইরকম তেঁতুল জল দিয়ে অত বড়ো বড়ো ফুচকা আগে কখনো দেখিনি, খাইওনি। খেতে গিয়ে মুখে পুরোটা ঢুকতে পারেনি। মানে এতোটাই বড়ো। সেই ভেঙে টেঙে গিয়ে শাড়িতে জল পরে বিচ্ছিরি অবস্থা! খুব নাকি নামী এই দোকানটা এবং বহু পুরনো। এখনও সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ছোট, বড়, বয়স্ক লোকজন সবাই লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ফুচকা খাওয়ার জন্য। শুনেছি বিবেকানন্দ পার্কের কাছে ফুচকার দোকানটাও খুবই ভালো।

এবার বলি কোলকাতা শহরের সব জায়গায় আপনি পাবেন, ভাড়ে চা। মাটির ভাড়ে চায়ের একটা অন্য রকম স্বাদ, গন্ধ আছে। আর চা খেতে কম বেশি সবাই ভালবাসে। শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে একটি দোকানে মাখন পাউরুটি আর চা বিক্রি করে। দোকানের মালিক দিয়ে সারতে পারে না! এমন বিক্রি।

আরও অনেক কিছু আছে। গলির মুখে ঝালমুড়িওয়ালাদের দেখা পাবেন। ওদের দোকানে আবার বাদাম ভাজা, ছোলা ভাজা সবই পাওয়া যায়। পার্কের সামনে পাবেন ভেলপুরি, পাপড়ি চাট, ঘুঘনি, আলুর দম। এছাড়াও রোল, চাউমিন, চপ, কাটলেট তো সব মোড়ের মাথায় বা পাড়ার মধ্যেই আছে। রোল আবার কত রকমের। এগ রোল, মটন রোল, টিকিয়া রোল এরকম আরও কত কি। এখন দক্ষিণ ভারতীয় খাবার গুলো আমরা বেশ তাড়িয়ে তাড়িয়ে খাই। দোসা, ইডলি, সম্বর, বড়ার মতো খাবারগুলো রেস্তোরাঁ থেকে পাড়ার দোকানে এবং বাঙালি হেঁসেলে ঢুকে গেছে।

আর একটা খাবার খুব প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। কি বলুন তো? মোমো। নানারকম মোমোর সম্ভার নিয়ে অফিস পাড়া থেকে যে কোনো পাড়াতেই এই খাবারটি বাঙালি রসনাকে তৃপ্ত করছে ইদানিং।

অফিস পাড়া অর্থাৎ ডালহৌসি এলাকায় তো খাওয়া দাওয়ার স্বর্গ রাজ্য। চা, কোল্ড ড্রিঙ্কস্, ফ্রুট জুস দিয়ে দিন শুরু করুন। তারপর একে একে বিরিয়ানি, ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন, মোমো, ভাত, ডাল, তরকারি, মাছ, মাংস, ডিম, নিরামিষ সব রকমের খাবারই পাবেন। লম্বা বেঞ্চে বসে বেশ পরিষ্কার করেই আপনাকে পরিবেশন করা হবে। স্বাদ গন্ধ বড়ো বড়ো রেস্তোরাঁর থেকে কোন অংশে কম নয়। বরং দামে সস্তা। অনেকেই এভাবে চলতে চলতে রাস্তার খাবার খেয়ে থাকেন। খেতে বসে এখানে জল লংকা লেবু সবই পাবেন।

আর একটা জিনিসের উল্লেখ করবো। সেটা হল কাটা ফল। গোটা ফল গুলোকে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখে দোকানীরা। আপনার পছন্দের ফল চাইলেই আপনি পেয়ে যাবেন একটা শালপাতা বা থার্মোকলের প্লেটে। কেটেও সাজিয়ে রাখে দোকানিরা।

খাবার পরে পান সিগারেটের দোকান তো হাত বাড়িয়েই পাওয়া যায়। তাদের দোকানে আবার চিপস, বিস্কুট, কেক সবই পাওয়া যায়। মুড়ি তেলে ভাজার দোকান তো সর্বত্র। নানারকম চপ, সিঙারা, কচুরি তরকারি সব জায়গাতেই পাওয়া যায়।

মিস্টি খেতে ভালবাসেন? কুছ পরোয়া নেই। কোলকাতার রাস্তায় মিস্টির দোকানের অভাব নেই। নানা নামী দামী দোকান। যদি মনে হয় এসব দোকানে দাম বেশি তাহলেও কোন সমস্যা নেই। আপনি ট্রেনে আছেন? পাবেন শোন পাপড়ি। এছাড়াও ডালহৌসিতে দেখেছি বনগাঁর মিস্টি। কি সুন্দর করে সাজিয়ে রাখে ট্রেতে। ওপরে কাঁচের ঢাকা দেওয়া। যাতে ধুলা ময়লা না পরে।দামেও সস্তা অনেক। আপনার তৃপ্তিও হলো।

কোলকাতার রাস্তায় পথ চলতি লোকজন কিন্তু এসব দোকানের থেকেই খিদের মুখে পছন্দসই খাবার খেয়ে থাকে। তাতে কেউ অসুস্থ হয়েছে বলে শুনিনি তেমন। এসব খাবারের দোকান গুলো সাধারণ মানুষের জন্যই।রেস্তোরাঁর মতো সাজানো গোছানো না হলেও খুবই ভালো মানের খাবার। দাম যথেষ্ট কম আবার খাবার গুলো বেশ সুস্বাদু। আরও কতরকম যে পাওয়া যায় এখন। লিখে শেষ হবেনা। (চলবে।)

খুব সাধারণ আমি আর পাঁচটা সাধারণ মেয়েদের মতোই। ছোট্ট পরিবার ও সংসার নিয়েই থাকি সারাদিন। শুধু যখন খুব একা হয়ে যাই তখন আমার আমিটা আমাকে লিখতে বলে আমার কথা, আমার চারপাশে নানা লোকজনদের কথা। অন্যায় দেখে অনেকের মতোই গর্জে ওঠে আমার মন। তখনও এই লেখা’ই হয়ে ওঠে আমার প্রতিবাদের ভাষা। আমরা পরিবেশ সংসার সমাজ দেশ দশ সবকিছু বদলাবার কথা বলি। সহমর্মিতার কথা বলি। সবচেয়ে আগে বদলাই যেন নিজেকে। মানবিকতা বোধটা যেন হারিয়ে না ফেলি।।
mouchakraborty1971@gmail.com


লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন
  • 11
    Shares

★আপনার মূল্যবান মন্তব্য দিয়ে আমাদের পথ চলা ধারাকে অব্যাহত রাখুন★

★ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে কমেন্ট করুন★

Leave A Reply