বাংলার রাখিপুর্ণিমা

0
Share it, if you like it

সাংস্কৃতিক উৎসবের ধর্মীয় রঙ হয় কিন্তু কোন কোন সময়ে তা ধর্মীয় রঙ ছাড়িয়ে রাজনৈতিক রুপও ধারন করে। তেমনি একটি উদাহরন হল রাখীবন্ধন উৎসব, যা সমগ্র উপমহাদেশে এখনো প্রাসঙ্গিক।

শ্রাবণের শেষ পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় রাখীবন্ধনের অনুষ্ঠান । এই রাখী বন্ধনের প্রথম সূচনা কবে,তা’ আজ আর জানার উপায় নেই । এ নিয়ে নানা ধরনের মত বিদ্যমান । তবে পৌরানিক এক কাহিনী থেকে জানা য়ায়, দেবতা ও অসুরদের সংগ্রামে দেবতারা পরাজিত হলে, দেবরাজ ইন্দ্র জয়লাভের পথ খুঁজতে দেবগুরু বৃহস্পতির কাছে যখন যাচ্ছিলেন, সেইসময় ইন্দ্রের পত্নী ইন্দ্রানী দেবরাজকে বললেন, তিনি জানেন কি উপায়ে অসুরদের পরাজিত করা য়ায় । আর সেই উপায় হিসাবে পরদিন শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমাতে ইন্দ্রানী স্বামীর হাতে বেঁধে দিয়েছিলেন ‘রক্ষাকবচ‘। এবার ইন্দ্র অসুরদের পরাজিত করতে সমর্থ হলেন । এই রক্ষাকবচটি ছিল একটি ‘রাখী‘। পৌরানিক কাহিনীতে স্ত্রী স্বামীর হাতে রাখী বেঁধে দিয়েছিলেন । পরবর্তীকালে রীতির পরিবর্তন হয়, এবং সাধারণতঃ বোনেরা ভাইদের হাতে রাখী বেঁধে দেয়, বা প্রিয়জন ।

এটা একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব । কেউ কেউ বলেন, আর্যদের প্রভাবেই এই বাংলায় রক্ষাবন্ধন প্রচলিত হতে শুরু করে এবং পরবর্তীকালে । অবাঙালী ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়ের আগমন ও বঙ্গভূমিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের ফলে তাদের দেখাদেখি রাখীবন্ধন এই বাংলায় জনপ্রিয় হতে থাকে । এমন একটা সময় ছিল, যখন আমাদের দেশের পুরোহিত প্রধানরা তাঁদের শত শত শিষ্যের হাতে রাখী পরিয়ে দিতেন । পুরাণ কাহিনী থেকে জানা যায়, শ্রীকৃষ্ণের কল্যান-কামনায় মা যশোদা, রাখীপূর্ণিমার দিন পুত্রের হাতে রাখী পরিয়ে দিতেন । প্রাচীনকাল থেকেই নারীরাই পুরুষের হাতে রাখী পরিয়ে দিয়ে আসছেন । বোন ভাইকে রাখী পরায় অথবা ভাই ভেবে বরণ করে নিতে চায়,এমন কাউকেই রাখীর বন্ধনে জড়িয়ে নেয় ।

রাখিবন্ধনকে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করা হয়। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে রাখি বন্ধন কর্মসূচি ১৭ সেপ্টেম্বর কোলকাতার সাবিত্রী লাইব্রেরী স্বধর্ম সমিতির বিশেষ অধিবেশনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সভাপতির ভাষণে প্রস্তাব রাখেন । ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তারিখ থেকে ব্রিটিশ সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ওই আইন কার্যকর হলে সেদিন কোন বাড়িতে রান্নাবান্না হবে না। বাঙালি জনসাধারণ অরন্ধন পালন করে উপোষ থাকবে। বাঙালির ঐক্য বজায় রাখার জন্য দেশজুড়ে হবে রাখিবন্ধন উৎসব। দিনটিকে মিলন দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রাজনীতিকরা ওই তারিখে রাজধানী কলকাতায় হরতাল আহ্বান করে।

সূত্র: google

অজানা লেখক

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এই লেখাটি নেওয়া হয়েছে। এই প্রবন্ধ বা পোষ্ট লেখকের পরিচয় যতটুকু পেয়েছি, লেখার নীচে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এই লেখাটির লেখকের সন্ধান বিস্তারিত জেনে থাকেন, দয়া করে অবশ্যই জানাবেন। আমাদের email করুন এই ঠিকানায়, i@pagolerprolap.in অথবা লেখার নীচে কমেন্টে করুন।

অন্যান্য লেখা

Leave A Reply