জিম করবেট অমনিবাস – রিভিউ

1
লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন
  • 7
    Shares

জিম করবেট অমনিবাস ॥ ভূমিকা প্রথমেই চোখ কাড়বে যা এক কালে পশ্চিমবঙ্গ মুখ্য বনপাল কৃষ্ণচন্দ্র রায় চৌধুরীর লেখা যেখানে পরিস্কার বলা আছে গল্পগুলি সবই হিমালয়ের পটভূমিকায় রচিত । শ্রেনী হিসেবে স্বতন্ত্র ও উচ্চমানে আরোপিত ও বর্নিত এই শিকার কাহিনী গুলি ॥

বইপোকার অনেকেই জানবেন তবু বলি জিম করবেট ১৮৭৫ খ্রীস্টাব্দে নৈনিতালে জন্মান। পিতা আইরিশ ॥ ১৮৯৫ সালে তিনি রেলে কাজ নেন । শিকার কাহিনী লিখলেও তাঁর মূল ভূমিকা ছিল অরন্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আন্দোলনে । ১৯৫৫ সালে তাঁর মৃত্যু হয় ॥

করুনা প্রকাশনীর দৃষ্টান্তমূলক কাজ এই অনুবাদ । আমার কাছে ১৯৮৬ সালের মুদ্রন রয়েছে । তখন মূল্য ছিল দু খন্ডে ১২০ টাকা । এই বত্রিশ বছরে দাম বেশি বাড়ে নি । যতদূর জানি দুশো টাকা । দু খন্ডের প্রতিটিতে চার শতাধিক পাতা ।অখন্ড হয়েছে কিনা জানা নেই ।

এবার মূল পুস্তক প্রসঙ্গে আসি । বইটি তে আছে রুদ্র প্রয়াগের নরখাদক চিতা , আমার ভারত , জাংগল লোর , মন্দিরের বাঘ এবং কূমাযূনের আরো মানুষ খেকো , কুমাযুণের নরখাদক , থ্রী টপস এবং অপ্রকাশিত রচনা ।

লেখা গুলি কেবল শিকার কাহিনী নয় এবং নির্যাস বাঘ মাত্রেই মানুষ খেকো নয় ও তাঁরা নরখাদক হয় কিছু পারিপার্শ্বিক বিষয় থেকে । শিকার অপরিহার্য না হলে শিকার নয়, দরকার সংরক্ষণ – এই ছিল করবেটের মানসিক আধার ।এর মধ্যে আমার ভারত এক অসাধারন আলেখ্য যা অন্য মাত্রা পেয়েছে জন্মসুত্রে ভিনদেশির কলমে আর অন্য লেখা গুলিতে বারবার ফুটে উঠেছে বাঘ স্বাভাবিক আহার না পেলে মানুষের দিকে ঝোঁকে । তবুও এই নরখাদক শিকার করতে হয় ” সদা জাগ্রত চক্ষু কর্ণ ” ও সাহসে বলীয়ান হয়ে , প্রতি ছত্রে তারই প্রমান মিলবে । তবে প্রতিটি লেখা জীবনবোধে বড় মর্মস্পর্শী আর চোখের প্রান্ত ভেজে অজান্তেই । আর পরতে পরতে প্রকৃতি দর্শন মুগ্ধ করবেই আপনাকে ।

আর শেষে আসি মহাশ্বেতা দেবীর কথায় । তাঁর জীবনের অন্যতম কাজকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যে বাংলাভাষী পাঠক কে তিনি চিরঋনী করে গেলেন । প্রাঞ্জল আর চিত্তাকর্ষক , যেমন ভাষা , অনুবাদ তেমন বাঁধুনি । আমার মনে হয়েছে মূল রচনা কেও বাংলা ভাষায় কিছু ক্ষেত্রে ছাপিয়ে গেছেন মহাশ্বেতা দেবী ।

বইটি না পড়লে আপনি জানবেন না আপনি কি হারাইতেছেন আর পড়লে জানবেন মৃত্যূর ৬৩ বছর পরেও যখন বাঘ পিটিয়ে মারার উৎসব চলে লালগড়ে বা ভারতে তখন কি ভীষন প্রাসঙ্গিক জিম করবেট। ॥


লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন
  • 7
    Shares

★আপনার মূল্যবান মন্তব্য দিয়ে আমাদের পথ চলা ধারাকে অব্যাহত রাখুন★

★ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে কমেন্ট করুন★

1 Comment

Leave A Reply