আসছে খুশির ঈদ

চলছে কেনা কাটার ধুম, আসছে খুশির ঈদ-
শপিং মল আর বড় বড় কাঁচে ঘেরা দোকান গুলতে ঢোকাই যাচ্ছেনা। সার বেঁধে সাজানো সুন্দর ড্রেস পরানো ডামি। কোনটা ছেলেদের তো কোনটা মেয়েদের- সফিকের চোখ সরছেনা। এত সুন্দর সুন্দর জামা কাপড়! সফিক ভাবছে- ভাবছে… এমন সময় হোঁচট খেয়ে স্বপ্নভঙ্গ, কাজের সাথী বন্ধু রবিন বলে ওঠে
-কিরে কি দেখছিস সফিক,,
-না, মানে ওই দেখ ওই জিন্স প্যান্টটা; কত দাম হবে বলতো- কাচের মধ্যে সাজানো আছে… শালা পুরো সালমান খানের মতো দেখাচ্ছে রে ভাই। সামনেই তো ঈদ তাই ভাবছি আমি ওই প্যান্ট নেবো…এত পছন্দ হচ্ছে।
-হো হো করে হেসে ওঠে রবিন। করিস তো যোগাড়ের মিস্ত্রী তার উপরে সালমান খানের ভাব- দেখ দেখিনি!
-তোর একমাসের রোজকার দিলেও হবেনা , চল ভাগ এখান থেকে। অপমানিত সফিক রেগে যায় বন্ধুর উপর!
-না রে ভাই, এই প্যান্ট আমার চাইই চাই। চল জিজ্ঞেস করি কত দাম –
একবুক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে একটা দোকানে দুজনে ঢুকে গেল ওরা,
-কি চাই? কি নেবেন আপনারা, ভ্রু বাঁকিয়ে বেশ কেমন ভাবে জিজ্ঞেস করে এক কর্মচারী,
আমাদের দেশে খরিদদারের আচরণ আর পোশাক দেখে কর্মচারীরা অনুমান করতে পারে এর ক্ষমতা কতটা, অভিজ্ঞতা এমনই একটা জিনিষ।
-না মানে এই প্যান্টটার দাম কত?
-ওই প্যান্ট, ২২০০ টাকা। দেব নাকি একটা?
– না মানে এমনি দাম জিজ্ঞেস করতে এলুম, থাক এখন না- পরে নেব।
-আমি দেখেই বুঝতে পেরেছি, নিতে আসোনি। যাও যাও যখন নেবে তখন আসবে, কোত্থেকে যে হাজির হয়, শখ দেখে আর বাঁচিনে- গন গন করে দোকানের লোকটা।
অপমানে ম্লান মুখে ফিরে আসে কিশোরদ্বয়।
মনের মধ্যে জেদ চাপে সফিকের ঈদ আসার আগে যেভাবেই হোক ওই প্যান্ট নিতেই হবে… চোয়াল সক্ত করে বলে সফিক।
-দ্যাখ সফিক, আমাদের মত গরিব-গুর্বো খেটে খাওয়াদের এসব সাজেনা, তার উপর তোর মা অসুস্থ নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারিস না, বোনটার পড়ার খরচ দিতে পারিস না,, রবিনের কোন কথাই মাথায় যায়না সফিকের। কিন্তু এর আগে রবিনের সব কথা শুনে চলে সফিক, অথচ রবিন তার ভাই নয় আত্মিয় নয় স্বজাতের কেউ নয় শুধু অভিন্নহৃদয় বন্ধুত্ব। সফিক তার পরিবারের জন্য যতটা উদাসীন রবিনের টেনশন ততটাই,, কারণ সফিকের মা ছেলের এমন বেখেয়ালি হওয়ার জন্য তার কাছে কান্না কাটি করে বোঝাতে বলে, বাপ মরা বোনটাকে খেয়াল রাখতে বলে। বলে ‘তুই আমার আরেকটা ছেলে’ সেসব কথা মাথায় রেখে রবিন বোঝাতে থাকে। বাস্তব কত যে কঠিন অভাব কত যে নিষ্ঠুর… কতবার রবিন তাদের হেল্প করেছে! কিন্তু স্বভাবে একগুঁয়ে সফিকের মাথায় সেসব নেই, স্বার্থপরের মত নিজের চিন্তাই করে যাচ্ছে সে,
এই মাসে খরচ বাঁচিয়ে ১৫০০ হয়েছে।
-কাল কাজ শেষে ১০০০ টাকা অগ্রিম নেব ম্যানেজারের কাছ থেকে, ব্যাস কেল্লা ফতে। বাড়ি ফিরে রাত্রে ঘুম আসছেনা, জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছে সেই প্যান্ট পরে কেমন লাগছে তার… নাহ্ আর তর সইছে না, সকাল হলেই সে কাজ সেরে দোকানে যাবে নতুন জিন্স কিনতে। গত দুই বছরে ভালো কিছু কেনা হয়নি, অথচ দুই দিন পরেই ঈদ। এবার ভালো কিছু কেনা হবে- এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যায় সে। সকালে বেরুতে গিয়ে দেখে ছোট বোনটা কেন জানি কাঁদছে! এসব বিরক্তি তার সহ্য হয়না, সফিক চলে যায়। সারাদিন প্রচন্ড খাটুনি শেষ করে চলে যায় নিউ মার্কেট।

★বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে আমাদেরকে আর্থিক সাহায্য করুন★

আস্তে আস্তে কাঁচের দরজা খুলে বেশ বড় এক দোকানে ঢোকে সফিক আর রবিন। এত এত জামা প্যান্ট শাড়ী জিনিষপত্র উফ! মাথা ঘুরে যাওয়ার অবস্থা। অথচ কত মানুষ যেন মুড়ি মুড়কির মত কিনে নিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার টাকার পোশাক-আসাক। অপরকে না দেখালে ধনি মানুষের বিলাসিতা পুরো হয় না। এসব ভাবছে আর অবাক চোখে দেখছে বিলের লাইন যেন ব্যাংকের থেকেও বেশি।
পছন্দের জিন্সটা খুঁজতে থাকে সফিক, কেমন যেন ছিল ডিজাইনটা- এর মাঝে সে চমকে ওঠে, একটু ঘাবড়ে যায়- মনে মনে বলে এই দোকানে পরী এল কিভাবে! চোখ ঝলসানো জরির কাজ করা ফ্রক পরে দাঁড়িয়ে আছে একটা ফুটফুটে মেয়ে! ঠিক যেন পরীর বাচ্চা। চোখ ফেরানো যাচ্ছে না- বাহ দারুন তো! মনে মনে কি যেন ভাবে সফিক। একটু হাসি পায় তার। মানুষ নিজের সাথে কথা বলতে বলতে যদি হেসে ফেলে তাহলে বুঝতে হবে সে পরিতৃপ্ত এবং সুখের কারণ;
কেনাকাটা সেরে বাড়ি ফেরে সফিক।
সকালে মায়ের সঙ্গে হাসি খুশি গল্প করে সে,
-জানো মা ওই মেয়েটার জামার নাম জিজ্ঞেস করলে বলে নাকি ‘আনারকলি’ জামা- হা হা হা। খুব বিক্রি এবার
তাই নিয়ে এলাম ২১০০ টাকা নিলো… হা হা হা।
ঘুম চোখে ছুটে এসে পিছন থেকে গলা জড়িয়ে ধরে সফিকের বোন।
-কি মজা কি মজা ‘আনারকলি’ জামা। কি মজা…
আনন্দে পাখির মত লাফাতে থাকে বাচ্চা মেয়েটা।
মায়ের চোখ দুটি চিক চিক করে ওঠে, ভারী গলায় বলে
-কয়েকদিন ধরে সে কান্নাকাটি করেছে এই জামা নেবে বলে। সফিক হাসে
– তাই নাকি! হা হা হা…
মায়ের কম দামী শাড়ি আর কিছু লাচ্চা-সিমাই ঘরের কোনে অপেক্ষারত, আসছে খুশির ঈদ…।

★বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে আমাদেরকে আর্থিক সাহায্য করুন★

About Author

Appy Hans Hossen

Ami ke...? ami janina., ashole 'ami' kew na, amar jibonta dom deya ghorir moto cholche matro... jokhon theme jabe...!!! vabo to tokhon ki ami r ami(man) thakbo...? tokhon amake keu nam dhore dakbe ki...??. haha... tai bondhu, ami keu na... kodin age chilam na prithibite., kodin poreo thakbo na., majhe shudhu kichudin ei vubone 'ami'r vumika palon... Appy Hans Hossen Mobile phones: 085380 12445 Address: Barasat, India

3 Comments

  1. শুভেচ্ছা জানাই পাগলের প্রলাপ কে। শুভেচ্ছা সবাইকে

  2. শুভেচ্ছা জানাই পাগলের প্রলাপ কে। শুভেচ্ছা সবাইকে

Leave A Reply

★বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে আমাদেরকে আর্থিক সাহায্য করুন★