৬য় পর্ব ★ DSLR লেন্স – ক্যামেরা বেসিক্স ★ শুভম পালিত

0
Share it, if you like it

পুজো প্রায় এসে গেল। আর পুজোর ছুটি মানে ভ্রমণ অভিলাষী বাঙালির পৃথিবী দেখার দিন। আর যাঁরা আমার মতো পুজো টা কলকাতায় কাটানোয় বেশী মজা পান, তাঁরাও এই সময় প্যান্ডেল এ প্যান্ডেলে ক্যামেরা হাতে হাজির। মন্ডপের কারুকার্য হোক কি প্রতিমার শিল্প, সুন্দরী তিলোত্তমা হোক কি পাশের সঙ্গিনী – ক্যামেরার শাটার টেপেননি এরকম লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আর যাঁরা এই সময়টা কলকাতার কোলাহল থেকে দূরে, পাহাড়, সমুদ্র বা জঙ্গলে কাটান, তাঁদের কথা তো অার বললাম না।

পুজো উপলক্ষে অনেকেই নিজের সাধের ক্যামেরা কিনতে চান সারা বছরের সেভিংস দিয়ে। কলকাতার ক্যামেরা পাড়ায় তাই পুজোর অনেক আগে থেকেই ভিড় উপচে পরে। E.M.I এর যুগে যদিও ক্যামেরা কেনা অনেক সুবিধাজনক হয়েছে ইদানিং কালে, এর সুযোগ নিতে ক্যামেরার দোকান গুলো ও উপস্থিত। আপনার বাজেট ধরুন ২৫০০০, E.M.I এর গল্প ফেঁদে ৪০০০০ এর ক্যামেরা গছানো বাঁ হাতের খেল। আবার ধরুন আপনি গেছেন আপনার জীবনের প্রথম DSLR টি কিনতে আর বেসিক ১৮-৫৫ লেন্স টি হলেই আপনার চলে যাবে – দোকানে তার সাথে আপনাকে একটা ৫৫-২৫০ ও ধরিয়ে দিল । আপনি ভাবলেন ৮-১০০০০ বেশী দিয়ে দ্বিতীয় লেন্স টি নেওয়া বুদ্ধিমত্তার পরিচয় কারন পরে ওই লেন্সটি নিতে গেলে ১২-১৪০০০ যাবে। কিন্তু বছর ঘুরে যাওয়ার পর দেখলেন লেন্স টি একেবারেই ব্যাবহার হয়নি!

বিগত কয়েক এপিসোডে অনেকেই জানতে চেয়েছেন কি কি লেন্স কেনা উচিত, কোন লেন্স এর কি ব্যাবহার আর কিছু প্রশ্ন পড়ে তো মনে হয়েছে DSLR এর লেন্স নিয়ে অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে। এই এপিসোডে তাই লেন্স নিয়ে একটা প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব যাতে আপনি স্মার্টলি নিজের প্রথম ক্যামেরাটি কিনতে পারেন। Point and Shoot ক্যামেরা ব্যাবহারকারীদের কাছে যদিও এই এপিসোড টা কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে কিন্তু ভবিষ্যতে কাজে লাগলেও লাগতে পারে।

লেন্স এর ব্যাপারে কমপ্লিট ধারণা তৈরি করার জন্যে শুরুতে চট করে লেন্স এর বেসিক কন্সট্রাকশন টাজেনে নেওয়া যাক।

লেন্স ব্যারেল : লেন্স ব্যারেল হল, বাইরের Cylindrical Tube টি যার ভিতর লেন্স এর আসল যন্ত্রপাতি রয়েছে। সাধারণত এই ব্যারেল টি প্লাস্টিক বা মেটাল এর তৈরী। বুঝতেই পারছেন এই ব্যারেলের উপর নির্ভর করছে আপনার লেন্স টি কতটা শক্তপোক্ত। তবে মোটামুটিভাবে Beginners Lens গুলি প্লাস্টিকের তৈরী হলেও কিছুটা শক নিতে সক্ষম।

লেন্স এলিমেন্টস : লেন্স ব্যারেল এর ভিতর সুন্দর ভাবে সাজানো কাঁচের স্তরগুলি হল লেন্স এলিমেন্টস। এই লেন্স এলিমেন্টস কিভাবে সাজানো হয়েছে আর সংখ্যায় কত, তার উপর নির্ভর করছে লেন্স এর ছবি তৈরী করার ক্ষমতা। সাধারণত কম এলিমেন্টস থাকলে ছবি দুর্দান্ত হওয়ার সম্ভাবনা। যেমনটা প্রাইম লেন্সে হয় (পরে বিষদ আলোচনা রয়েছে)।

লেন্স বেয়োনেট : বেয়োনেট বা মাউন্ট হলো লেন্স এর শেষে থাকা সেই জায়গা যেটা ক্যামেরার বডির সাথে লেন্স কে যুক্ত করে। ক্যামেরা বডি যদি তালা হয় তাহলে লেন্স এর বেয়োনেট হল সেই তালার চাবি। এইখানে বলে রাখি, প্রত্যেক ক্যামেরা প্রস্তুতকারক সংস্হার (যেমন Canon, Nikon, Sony), মাউন্ট ভিন্ন হয় যে কারনে Canon এর ক্যামেরায় Nikon এর লেন্স লাগবে না আবার উল্টোটাও সত্যি। Tamron, Sigma, Tokina’র মতো কিছু লেন্স প্রস্তুতকারক সংস্হা রয়েছে যারা Canon বা Nikon উভয়ের জন্যেই লেন্স তৈরী করে। এই সংস্হা গুলির লেন্স কেনার সময় দেখে নিতে হবে যে সেটা যেন আপনার ক্যামেরার সাথে Compatible হয়। কিভাবে দেখবেন? খুব সোজা, লেন্স এর বাক্সে লেখা থাকে যে সেটা Canon এর ক্যামেরার জন্যে না Nikon এর।

জুম রিং: সাধারণত জুম রিং লেন্স ব্যারেল এরই একটা অংশ যা Clockwise বা Anti-clockwise ঘুরিয়ে অাপনি জুম করেন মানে সাবজেক্ট এর কাছে পৌঁছানো যায়।

ফোকাস রিং : গত এপিসোড এ Manual Focussing নিয়ে আলোচনার সময় এর উল্লেখ করেছিলাম। লেন্স এ পাতলা একটা রিং থাকে যা দিয়ে আপনি Manually focus করতে পারেন সেই সব সময় যখন ক্যামেরার Autofocus হাত তুলে দিয়েছে। কিছু লেন্স এ এই রিং টা শুধুমাত্র Manual Focus মোড অন থাকলেই ঘোরানো যায় আবার কিছু লেন্স এ Full Time Manual Override এর ও ব্যাবস্থা থাকে যার থেকে আপনি Autofocus অন থাকলেও Focus ring ঘুরিয়ে সাবজেক্ট কে ফোকাসে আনতে পারবেন।

Aperture Blade: এপিসোড ৩ এ Aperture নিয়ে বিষদে আলোচনা হয়েছে। লেন্স এর Aperture বা ছিদ্র টি আসলে অনেকগুলো ব্লেড দিয়ে তৈরী। ইলেক্ট্রনিকালি, ক্যামেরার মাধ্যমে, এই ছিদ্রের সাইজ বাড়ানো বা কমানো যায়। কিছু কিছু লেন্স এ Maximum Aperture এর সাইজ অনেকটাই বড় রাখা যায় যেমন f/1.8, f/2.8 ইত্যাদি আবার কিছু লেন্স এ Aperture এর সাইজ তথাকথিত ভাবে ছোট যেমন f/5.6, f/6.3 ইত্যাদি। বড় Aperture মানে লেন্স দিয়ে ক্যামেরায় বেশী পরিমান আলো প্রবেশ করতে পারে আর তাই Fast Shutter Speed ব্যাবহার করা যায়। অতএব এই লেন্স গুলি কে “Fast Lens” ও বলা হয়ে থাকে। আর অন্যদিকে ছোট Aperture এর লেন্স গুলি কে “Slow Lens” বলে।
সংখ্যায় কটা ব্লেড রয়েছে তার উপর অন্য একটা জিনিস নির্ভর করে – ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার বা বোকেহ। যত বেশী ব্লেড থাকবে তত ভাল গোলাকার বোকেহ হবে।

Focal Length : লেন্স এর এই অংশ টা বোঝা হয়তো সবচেয়ে জরুরী। Focal Length ক্যামেরার সেন্সর আর লেন্স এর সেই পয়েন্ট এর দূরত্ব যেই পয়েন্টে লেন্স দিয়ে ঢোকা আলো মিলে গিয়ে সাবজেক্ট কে ফোকাস করে। এই দূরত্ব মিলিমিটার এ মাপা হয় যেমন 20mm, 50mm, 100mm বা 600mm। এই Focal Length এর উপর নির্ভর করছে Angle of view বা সিন এর কতটা আপনি ক্যামেরায় কভার করতে পারছেন। সাধারণত ল্যান্ডস্কেপ ফোটোগ্রাফি তে কম Focal Length এর লেন্স ব্যাবহার করা হয় যাদের পোশাকি নাম – Wide Angle Lens কারন এই লেন্স গুলি খুব wide বা বিস্তীর্ণ সিন কভার করতে পারে। Wide angle lens এর ঠিক উল্টো মেরুতে রয়েছে Telephoto lens যা খুব দূরের সাবজেক্ট কে তুলতে সক্ষম। একটা Thumb Rule এর মত দেওয়ার চেষ্টা করেছি নিচে-

১. 8mm – 12mm: Fish Eye বা Ultra wide angle lens. Panorama বা Skyscape তুলতে কাজে আসে।
২. ‍15mm – 24mm: Wide angle lens. ল্যান্ডস্কেপ বা অার্কিটেকচর এর জন্যে আদর্শ।
৩. 35mm/50mm: Standard lens. অল পারপাস ফোটোগ্রাফির জন্যে। Street photography তে বিশেষভাবে।
৪. 85mm – 135mm : Short Telephoto lens. সাধারণত Candid Portrait তোলায় খুব ইউজ হয়।
৫. 135mm – 300mm : Medium Telephoto lens. সাধারণত Indoor Sports এর জন্যে । কিছু কিছু সময় Wildlife এও উপযোগী।
৬. 300mm + : Super Telephoto lens. Wildlife বা Outdoor Sports এর জন্যে।
যদিও উপরে লেন্স এর প্রকারভেদ অনুযায়ী কি কি ক্ষেত্রে কোন লেন্স ব্যাবহার করা হয়ে বলেছি, এটা বুঝতে হবে যে অন্য সবকিছুর মতই, লেন্স নিয়েও Experiment করা যায় ছবিতে নতুন নতুন perspective দিতে। কোনোও একটি লেন্স একটি মাত্র ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যাবহার করুন বিভিন্ন সাবজেক্ট এর জন্যে।

Focal Length নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছে তখন Crop Factor এর ব্যাপার টা ও যেনে রাখা উচিৎ। Full frame ক্যামেরায় সেন্সর 35mm ফরম্যাট এর হয়। কিন্তু APSC বা Crop-Sensor ক্যামেরার সেন্সর এর সাইজ একটু ছোট হয়। লেন্স এ লেখা Focal Length আসলে Full frame ক্যামেরা অনুযায়ী লেখা । তার মানে এই যে যদি দেখেন লেন্স এর গায়ে 50mm লেখা আছে আর আপনি APSC DSLR (Beginners বা Mid level DSLR) ব্যাবহার করেন, তাহলে লেন্স এর Focal length কে Crop Factor (Canon ক্যামেরার জন্যে ১.৬ আর Nikon এর জন্যে ১.৫) দিয়ে গুন করতে হবে এফেক্টিভ Focal Length বার করতে। তার মানে 50mm লেন্স আসলে 75/80mm হয়ে গেল আপনার APSC DSLR ব্যাবহার এর ফলে। এই Crop Factor কে ব্যাবহার করেই সাধারন Point and Shoot Camera তে অনেক জুম প্রদান করা হয়। এই টাইপ এর ক্যামেরায় সেন্সর এর সাইজ Full frame ক্যামেরার ১৬ ভাগ এর ১ ভাগ। তাই একটা 2-100 mm এর লেন্স Effectively 32-1600 mm হয়ে যায় (১৬ দিয়ে গুন) আর তাই খুব Versatile হয়। মানে একটাই ক্যামেরা দিয়ে আপনি ল্যান্ডস্কেপ থেকে ওয়াইল্ডলাইফ সব করতে পারবেন। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে সেন্সর ছোট হওয়ায় ছবির মান ও অনেকটাই কম হয়।

এ তো গেল লেন্স নিয়ে প্রাথমিক আইডিয়া। এরপর আসবে লেন্স এর প্রকার – জুম লেন্স আর প্রাইম লেন্স। জুম লেন্স সেই সকল লেন্স যাতে জুম করার সুবিধা রয়েছে যেমন 18-55mm, 18-135mm, 70-200mm, 75-300mm ইত্যাদি। এই লেন্স এ আপনি wide end (18mm) আর Zoom end (55mm) দুটোতেই ছবি তুলতে পারবেন। তাছাড়া 18 থেকে 55mm এর মাঝের Focal length (19mm, 20mm, 21mm….) এও ছবি তুলতে পারবেন। এরপর আসে প্রাইম লেন্স অর্থাৎ শুধুমাত্র ‍একটি Focal length এর জন্যে স্পেসিফিক লেন্স যেমন 35mm prime, 50mm prime বা 300mm prime. সাধারনভাবে আপনার মনে হতে পারে যে আপনার কাছে 18-55mm লেন্স থাকলে আবার একটা 35mm prime বা 50mm prime এর কি প্রয়োজন কারন ওই ২টো focal length তো 18-55mm এ কভার হয়ে যায়। এর উত্তরে বলি, প্রাইম লেন্স এ জুম লেন্স এর তুলোনায় অনেক কম লেন্স এলিমেন্টস থাকে যার মানে প্রাইম লেন্স এ অনেক গুন ভাল আর শার্প ছবি তোলা যায়। আবার এই লেন্স গুলির maximum aperture জুম লেন্স এর maximum aperture এর চেয়ে সাধারণত বেশী হয় – অতএব কম আলোতে দারুন ছবি তুলতে সক্ষম।
যেকোনো লেন্স কেনার সময় Focal Length এর সাথে তার Aperture ও দেখে নেওয়া আবশ্যিক । ধরুন লেন্স এ লেখা আছে – 18 – 55mm ; f/3.5-5.6. এর মানে লেন্স টি’ র 18mm এ Maximum Aperture F/3.5 আর 55mm focal length এ F/5.6. অন্যদিকে 50mm f/1.8 লেন্স এর একটাই Focal length আর তাই Maximum Aperture ও একটাই। এই Aperture দেখে লেন্স ব্যাবহার করলে আপনি বুঝতে পারবেন কি কি ক্ষেত্রে আর আলোর পরিমান অনুযায়ী কোন লেন্স ব্যাবহার করা উচিত।

লেন্স কেনার সময় আর কি কি মাথায় রাখতে হবে?
সাধারণত নিজের প্রথম DSLR ক্যামেরা কেনার সময় দেখবেন ক্যামেরা বডির সাথে starter kit হিসেবে ১টি বা ২টি লেন্স দেওয়া হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে 18-55mm আর 55-250mm লেন্স দেওয়া হয়। আবার কিছু কিছু ক্যামেরার সাথে শুধু 18-135/140mm লেন্স টি দেওয়া হয়। প্রথমে ভাবুন যে আপনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিসের ছবি তোলেন বা তুলতে ভালবাসেন। যদি দেখেন শুধুমাত্র ল্যান্ডস্কেপ তোলেন, তাহলে বলব ক্যামেরার সাথে শুধুমাত্র 18-55mm লেন্স টি নিয়ে বাড়ির পথ ধরুন। প্রথম লেন্স হিসেবে এটা দারুন। গত ৭ বছর ধরে এই লেন্স টা ব্যাবহার করছি আর আমার কোনোও অভিযোগ নেই লেন্স টা নিয়ে। যদিও 55-250mm লেন্স টার উপযোগীতা আমি এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। আমার সবসময় মনে হয়েছে লেন্সটি ল্যান্ডস্কেপ এর জন্যে খুব লম্বা আর ওয়াইল্ডলাইফ এর জন্যে খুব ছোট!! অন্যদিকে অনেকেই লেন্স পাল্টানোর ঝক্কি থেকে মুক্তি পেতে চান। ক্যামেরা সংস্হা গুলি তাই 18-135/140mm লেন্স ও starter হিসেবে দেওয়া শুরু করেছে। এই লেন্সটির Focal length এর range অনেকটা বেশী হওয়াতে লেন্সটি যথেষ্ট versatile। আমি নিজে যদিও এই লেন্সটি কখনই ব্যাবহার করিনি তাই পার্ফরমেন্স বলার মত জায়গায় নেই।
Starter বা kit lens এর পরবর্তী লেন্স কিনতে, এপিসোড এ দেওয়া লেন্স এর সাধারন ব্যাবহার, আপনাকে একটা বেসিক গাইডলাইন দেবে। যদি অাপনার ছবি তোলার সাবজেক্টের ভ্যারাইটি অনেক বেশী – ধরুন আর্কিটেকচার থেকে ওয়াইল্ডলাইফ, তাহলে একটা লেন্স দিয়ে কভার করা মুশকিল। মাথায় রাখবেন খুব বড় focal length (18-300mm) এর লেন্স সাধারণত বিশেষ ভাল হয়না কারন এত বিশাল range কে সাপোর্ট করতে অনেক লেন্স এলিমেন্টস লাগে। আর আলো যত বেশী এলিমেন্টস এর ভিতর দিয়ে যাবে, ছবির মান তত পরবে। তাই একটু অপেক্ষা করে আলাদা সাবজেক্ট এর জন্যে আলাদা লেন্স কেনাই শ্রেয়।

লেন্স কেনার সময় লেন্স এর ওজন টাও খেয়াল করবেন কারন তার উপর নির্ভর করছে আপনি লেন্স টি হাতে ধরে ছবি তুলতে পারবেন নাকি ট্রাইপড লাগবে। আজকের দিনে আধুনিক লেন্স গুলো তে Image stabilisation (IS) ও থাকে যার থেকে ভাইব্রেশন বা ক্যামেরা শেক হয়ে ছবি কেঁপে যাওয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। লেন্স কেনার সময় এই IS আছে কিনা দেখে নিলে ভাল কারন IS থাকলে কম আলোতে ছবি তোলায় একটু সুবিধা হয়। এত কিছুর পর যদি দেখেন পছন্দের লেন্স টি বাজেট এর বাইরে তাহলে কম দামের Sub optimal বা অন্য Focal length এর লেন্স না কিনে অপেক্ষা করে ঠিক লেন্স টি কেনাই যুক্তিযুক্ত । Second hand lens কেনা টাও একটা অপশন কারন লেন্স এ টুকটাক ফাঙ্গাস ছাড়া বিশেষ কোনো ক্ষতি হয়না।

আশা করি বোঝা গেল যে একটু সচেতন না থাকলে ক্যামেরার দোকানে আপনাকে লেন্স গছিয়ে দিয়ে আপনার বাজেট কে ধাক্কা লাগানো যেতে পারে। সর্বোপরি ওই ১০০০০ টাকা দিয়ে একটা এক্সট্রা লেন্স (যেটা হয়তো আপনার কাজে লাগবেনা) না কিনে আপনি একটু বেটার ক্যামেরা মডেল কিনতে পারতেন। তাই দোকানে ঢোকার আগে সাধু সাবধান! হোমওয়ার্ক করে যান বাড়ি থেকে আর পাড়া মাতিয়ে দিন পুজোতে। যাঁরা ঘুরতে যাবেন তাঁদের থেকে দুর্ধর্ষ ছবির আশা রাখব।

কয়েকটা নেট থেকে নেওয়া ছবি দিয়ে লেন্স এর ব্যাপার টা বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

ক্যামেরা বেসিক্স এ আপাতত সময় একটু বিরতির। আগামী সপ্তাহে চললাম আমার দ্বিতীয় বাড়ি বান্ধবগড়ে। তারপর তো পুজোর আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা। পুজোর পর আবার ফিরব নতুন কিছু আলোচনা নিয়ে। ভাল থাকবেন।

অন্যান্য পর্ব নিচের লিঙ্কে পাবেন

All Other Post By Shubham Palit

Shubham Palit

Author’s Facebook Profile Link:
Shubham Palit

অন্যান্য লেখা

Leave A Reply