দেড় হাজার টাকার গল্প

0
Share it, if you like it

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একবার তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীকে নিয়ে চলেছেন ট্রেনে করে। তাঁর স্ত্রী ছিলেন পরমা সুন্দরী। ট্রেনের কামরায় রয়েছেন অনেক লোক জন। বঙ্কিমচন্দ্রের স্ত্রী ঘোমটায় ঢেকে রেখেছেন তাঁর মুখ। তখনকার দিনে বিবাহিতা রমনীরা মুখে ঘোমটা ঢেকে বাইরে বের হতেন। বঙ্কিমচন্দ্ৰ ট্রেনে স্ত্রীর পাশে বসে সংবাদপত্রে চোখ বোলাতে বোলাতে পর সংবাদপত্রের পাতা থেকে চোখ তুলে দেখলেন একজন নব্যযুবক আড়াচোখে তার স্ত্রীর ঘোমটা ঢাকা মুখের দিকে তাকাচ্ছে। ব্যাপার দেখে বঙ্কিমচন্দ্ৰ মনে মনে হাসলেন। কিছু বললেন না। খানিক পরে আলাপ জমাতে শুরু করলেন সেই নব্যযুবকটির সঙ্গে। জিগ্যেস করলেন, ‘কী করা হয়?’

আচমকা বঙ্কিমচন্দ্রের প্রশ্ন শুনে কিঞ্চিৎ বিচলিত হয়ে যুবকটি উত্তর দিল আজ্ঞে একটা কেরানীর চাকরি করি।’
বঙ্কিম আবার জিগ্যেস করলেন, ‘তা মাইনে কত পাও?’
যুবকটি কুষ্ঠিত হয়ে বলল,’ বেশি নয়, মাত্ৰ বত্ৰিশ টাকা।’
তখন বঙ্কিমচন্দ্ৰ বললেন, ‘আমি তখন থেকে লক্ষ্য করছি, তুমি এই মহিলার দিকে বারবার আড়াচোখে তাকাচ্ছ! আমি এর ঘোমটা খুলে দিচ্ছি। বরং ভালো করেই দেখে নাও। হ্যা। আর একটা কথা বলি ভালো করে শুনে রাখে -আমি একজন ডেপুটিম্যাজিষ্ট্রেট এবং সাহিত্যিক। নাম বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। আটশো টাকা মাইনে পাই। বইপত্র লিখেও ভালো আয় হয়। তা ধরো কমকরে সর্ব মিলিয়ে মাসে প্রায় দেড় হাজার দুহাজার! পুরো টাকাটাই আমি সমর্পণ করেছি, এই মহিলাকে। কিন্তু দুঃখের কথা, তবু এঁর মন আমি পাইনি!! আর তুমি কিনা বত্ৰিশ টাকার কেরানী হয়ে এর মন পেতে চাও! দেড় হাজারকে সরিয়ে! বাঃ!’
এক কামরা লোকের সামনে বঙ্কিমচন্দ্রের মুখে এহেন কথা শুনে নব্যযুবকটি লজায় রাঙা হয়ে আর বসে থাকতে পারল না। সে পরের স্টেশনেই চলে গেল অন্য কামরায়। বঙ্কিমচন্দ্ৰ নিশ্চিন্ত হয়ে পুনরায় মন দিলেন সংবাদপত্র পাঠে।

★★ Please make a comment using Facebook profile ★★

অন্যান্য লেখা

Leave A Reply