চাঁদের সাথে লুকোচুরি

0
Share it, if you like it

এমনিতেই আমি খুব সাহসী। সহজে ভয় পাই না, তবে খুবই সামান্য কিছু জিনিস আছে যা আমার ভয়ের কারণ হিসাবে যথেষ্ট। কিছু দিন আগে আমি আমার গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম, ওখানে গেলে আমার সবচেয়ে বড়ো ভয়ের কারণ জোনাকি পোকা। যার ভয়ে ছোট থেকেই আমি সন্ধ্যার পর আম্মু কে ছাড়া ঘর থেকেই বার হতাম না। স্কুলে ভর্তি হলাম শহরে, তারপর থেকেই গ্রাম ও শহরের বাড়িতে যাওয়া আসা। একরকম মিলিয়ে মিশিয়ে দু জায়গায় থাকি। গ্রামে আম্মু আব্বু থাকেন তাই মাঝে মাঝেই যাই। আজ ফিরে এলাম আমার শহুরে বাড়িতে।

এখানে আম্মু নেই তাই আমি কোনো দিনই আমার ঘরের জানালা রাত্রে খুলে রাখি না। কারণ অন্ধকারের প্রতিও আমার একটু দুর্বলতা আছে। কিন্তু সেদিন রাতে হটাৎ আমার চেনা ঘরে অচেনা এক ঘরে আবিষ্কার করলাম। এক অদ্ভুত অচেনা সৌন্দর্য। আমার এক আফামনি (দিদি) ছিলেন আমার সাথে, সে রাতে আমার ঘরে। সেই জন্যই হয়তো সেরাতে জানালাটা খোলা ছিলো। নিজের অজান্তেই আমি সন্ধ্যা থেকেই খোলা জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলাম, নির্ভয়ে। আকাশের কপালে অর্ধ চন্দ্র মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলছিলো। একবার মেঘের মধ্যে কোথায় যেন মিলিয়ে যাচ্ছে আবার একটু পরে উকি দিচ্ছে। সে এক মায়াবী দৃশ্য। মাঝে আমার মনে হয়েছিলো, আমি যেমন চাঁদকে দেখছি হয়তো চাঁদ ও দেখছে আমাকে, চুপিচুপি গোপনে। এর আগে আমি কখনো আমার ঘর থেকে এমন আকাশের রূপ দেখিনি। সেদিন আফামনি ওই জনলাটি না খুলে রাখলে হয়তো চাঁদ আর আকাশের এমন রূপ আমার কোনদিন আর দেখা দেখা হতো না। আফামনি কে অনেক ধন্যবাদ এমন আকাশের মায়াবী রূপ আমাকে দেখতে সাহায্য করার জন্য …

কবির ভাষায় বলতে গেলে –

“বহুদিন ধরে বহু পথ ঘুরে বহু ব্যয় করে বহুদেশ ঘুরে,
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু,
দেখা হয়নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হৈতে শুধু দুপা ফেলিয়া
একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু”

“বহুদিন ধরে বহু পথ ঘুরে বহু ব্যয় করে বহুদেশ ঘুরে,
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু,
দেখা হয়নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হৈতে শুধু দুপা ফেলিয়া
একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু”

অন্যান্য লেখা

Leave A Reply