অনভিজ্ঞ মুর্খ লোকের দ্বারা রক্তদান শিবির

0
Share it, if you like it

গত রবিবারে (১০-০৭-২০১৮) সল্টলেকের রিক্সাওয়ালা মিলে একটা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিল। আমার বাবাও সে অনুষ্ঠানে সামিল ছিলেন, এই রক্তদান শিবিরে বাবাই সব চেয়ে বেশি active Member ছিলেন। এই কাজের জন্যে তিনি নিজে দিন দশেক কাজেও যায়নি। যাইহোক, অনেক গুলো অনভিজ্ঞ মুর্খ লোকের দ্বারা রক্তদান শিবির সফলতার সাথেই সম্পুর্ন হলো। রক্তদান চলার সময়, জনৈক নার্সিংহোমে থেকে কিছু লোক আসে যায় রক্ত গুলো কিনে নেওয়ার জন্যে। কিন্তু পকেটা ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও, টাকার লোভ গরিব মানুষ গুলোর সংকল্পকে ভাঙ্গতে পারেনি।

বাবা দৃঢ় কণ্ঠে তাদের না বলে বিদায় করে দিয়েছিলেন এবং রক্ত ব্লাড ব্যাঙ্কেই দিয়ে এসেছিলেন। দীর্ঘ দিন এই চেষ্টাটা বাবা করছিলেন। গত বছর আমায় দুর্ভাগ্য বসত অসুস্থতার কারনে হসপিটালে ভর্তি থাকতে হয়েছিলো। যখন আমি হসপিটালে ভর্তি ছিলাম, আর আমার রক্ত দরকার ছিলো, যথারীতি তা পেতে রীতিমত বেগ পেতে হয়। ঠিক তখন থেকেই বাবার এ পরিকল্পনার শুরু। মুর্খ মানুষ তো, এভাবেই বুঝেছে রক্তের প্রয়োজনীয়তা।

বাবা যে এতখানি ভেবে তার সংকল্প সার্থক করলেন তা থেকে বেশ কিছু জিনিস শিখলাম-
উপকার করার ইচ্ছা থাকলেই, ফাঁকা পকেটেই করা যায়। বাবাকে অনেকে অনেক রকম ভাবে রক্ত বিক্রির পরামর্শ দেওয়া সত্ত্বেও, কারোর কথা তিনি শোনেনি। সংকপ্ল দৃঢ় হলে কোনও বাধাই বাধা না। যদি রক্ত গুলো বিক্রি হতো, তা আদতে বিক্রি হতো মান আর হুস।। জানি না এর আগে এই রকম ভাবে কত মানুষ তার মান আর হুস বিক্রি করেছে, ভুয়ো রক্তদান শিবির করে নেতারা দেওয়ালে নিজের নাম তুলে ফেলে। কিন্তু সদিচ্ছা থাকলে ও ঠিক কাজ করলে, দেওয়ালে নাম তোলার চিন্তা মাথায়ও থাকে না।

আজ প্রশ্ন হলো আদতে শিক্ষিত কে?? আর মুর্খ কে????

★★ Please make a comment using Facebook profile ★★

অন্যান্য লেখা

Leave A Reply