★ Great offer only for you ★

বিন্দাস বেঙ্গলি

0
Share it, if you like it

বাঙালী ছেলের নাম বিক্রম থেকে হয়েছে “ভিকি,”
মেয়ের নাম গুঞ্জন থেকে “গুঞ্জা”
জামাইবাবু এখন “জীজু”
দাদা হয়ে গিয়েছে “ভাইয়া”
পিসীও এখন “বুয়া”
কাকাও হয়েছে ‘আঙ্কেল” বা “চাচ্চু”

মা তো কবেই “মম” হয়েছে, বাবা হয়ে গিয়েছে “ড্যাড”।

তবে শুধু মাসীমা, মামিমা, মামা ইত্যাদি বদলে যায়নি, কাকিমা “আন্টি” হয়েছে, কাকুও “আঙ্কেল” হয়েছে।

অর্থাৎ মামাবাড়ীর দিকটা এখনো কিছুটা সুরক্ষিত আছে কিন্ডারগার্ডেন আর ইংলিশ মিডিয়ামের দাপটে। আমরা কসমোপলিটান হয়ে উঠছি, বিশ্ব নাগরিক হয়ে উঠছি।

সকালে উঠে তাই দাঁত এখন আর মাজি না, “ব্রাশ” করি। জল-খাবার তো কবেই পাট চুকিয়েছে,
এসে গিয়েছে “ব্রেকফাস্ট”। এভাবেই আমাদের বাঙালী থেকে ধীরে ধীরে “বেঙ্গলী”তে উত্তরণ ঘটছে। সেদিন দেখলাম ফেসবুকে B*B নামক এক গ্রূপে, পুরো নাম “BE*GA*I IN BANGALORE” (* =গুপ্ত অক্ষর)। গ্রূপে কেউ বাংলায় কথা কয় না, সবাই ইঞ্জেরীতে কথা বলে।

প্লেনে চড়া স্বপ্ন নেই আর, হিল্লি দিল্লী “ফ্লাইটে” যাচ্ছি। জন্মদিনের “পায়েস” উঠে গিয়ে বউ বাচ্চাকে নিয়ে “ক্যাণ্ডেল লাইট ডিনার” জায়গা করে নিচ্ছে। বিছানায় বসে দুলে দুলে জোরে জোরে বই পড়ার দিন শেষ, এখন ছেলেমেয়ে “স্টাডি রুমে” কানে হেড ফোন দিয়ে “স্টাডি” করে।

এখন আর কেউ হাগতে বা পায়খানায় যায় না,
“টয়লেটে” যায়, “ওয়াশ রুমে” যায় বা রেস্ট রুম যায়। রান্না ঘরটা “কিচেনে” রূপান্তরিত হয়েছে,
বৈঠকখানা রূপান্তরিত হয়েছে “হল” বা “ড্রইংরুমে”।

তবে অনেকেই ডিকশনারি ঘেঁটে বা স্টার টিভির সিরিয়াল দেখে বাংলা হিন্দি দুর্বোধ্য বাংলায় ছেলে মেয়ের “আনোখা” নাম রাখছেন। দাঁত ভেঙে যাবে ঠিকঠাক উচ্চারণ করতে।

তবে এই নাম রাখার ব্যাপারে বাঙালী বরাবরই উদার। বাড়ির পোষা কুকুর বা বিড়ালের নাম ব্রিটিশদের নামে দেওয়ার চল অনেক আগে থেকেই, যেমন “টমি,” “জিমি”, “রকি” ইত্যাদি।
বদলে যাচ্ছি আমরা। খুব দ্রুত গতিতে বদলাচ্ছি।

মুখে ব্রণ হলে ওটাকে “পিম্পলস” বলতেই হবে
থাই-ছেঁড়া জিন্স পরতে হবে।
ট্যাক্সি ধীরে ধীরে “ক্যাব” হচ্ছে।
ভালো থাকার নাম “বিন্দাস” হয়েছে।
খাবার আগে “স্টার্টার” আর খাবার পরে “ডেসার্ট” খেয়ে বাঙালী এখন পুরো দস্তুর “মড” প্রজাতির।
পিঠেপুলি খাবার জন্য হাহুতাশ করে স্ট্যাটাস দিয়ে কিন্তু পাস্তা, পেস্ট্রি, পিৎজা মাত্র “আ ফোন কল অ্যাওয়ে” ।

ভেতো বাঙালীর খোলশ ছেড়ে বেরিয়ে মাথায় ফেট্টি বেঁধে এখন ডিজে বাজিয়ে মাতারাণীর জাগরণ করি, কিন্তু ভাদ্র মাসের কালী পূজোয় রাত জাগতে বড্ড ঘুম পায়, পরের দিন অফিস যাবার তাড়াও থাকে।

সব শেষে আবার সেই রবীন্দ্রনাথের শরণাপন্ন হতেই হয় বাঙালীকে।
“ব্রেক আপের” পরে
“আমি তোমার বিরহে রহিব বিলীন,
তোমাতে করিব বাস,
দীর্ঘ দিবস,
দীর্ঘ রজনী,
দীর্ঘ বরষ, মাস” শুনতেই হয়!
তাই আমিও স্মরণ করলাম বাঙালীর একমাত্র অবলম্বনকে,

“আমরা চলি সমুখ পানে,
কে আমাদের বাঁধবে,
রইল যাঁরা পিছুর টানে, কাঁদবে তাঁরা কাঁদবে….”

” জয় বাংলা, হায় বাঙালী।”

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেন

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এই লেখাটি নেওয়া হয়েছে। এই প্রবন্ধ বা পোষ্ট লেখকের পরিচয় যতটুকু পেয়েছি, লেখার নীচে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এই লেখাটির লেখকের সন্ধান বিস্তারিত জেনে থাকেন, দয়া করে অবশ্যই জানাবেন। আমাদের email করুন এই ঠিকানায়, i@pagolerprolap.in অথবা লেখার নীচে কমেন্টে করুন।

Share it, if you like it
★Related Posts / articles★

Leave A Reply

★ Great offer only for you ★
★ Great offer only for you ★