বিবাহ অভিযান

0
লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন

বিবাহ অভিযান – যা দেখিলে বিয়ের সাধ জন্মায়, [বরযাত্রী ও বাসর, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়]। সাদা-কালো আমাদের সেকেলে টিভিটার কোম্পানীর নাম ছিল ‘ক্যাপ্টেন’- হ্যাঁ, কেউ এমন ধারা কোম্পানীর নাম শুনেছে কিনা সন্দেহ! কিন্তু, ১৪ ইঞ্চির ক্যাপ্টেনের অনেক ক্ষমতা ছিল; দুটি মাত্র চ্যানেলে আমূল সুরভি থেকে ছুটিছুটি, জাঙ্গলবুক, ডাকটেলস, ব্যাটম্যান-সুপারম্যান-ফ্যান্টম, দ্যা স্ট্রীট-হক ইত্যাদি হয়ে ওদিকে আবার তেরো-পার্বন (আমি দেখিনি, আফসোস!) , স্বপ্নের বাজার, কুয়াসা যখন, জননী, জন্মভূমি ইত্যাদি নিয়ে তার ম্যারাথন দৌড় ছিল! ক্যাপ্টেনের চৌদ্দ ইঞ্চির চৌহদ্দিতে যা ধন-সম্পদ ছিল, তা দেখলে আমি নিশ্চিত, আঙ্কল স্ক্রুজও ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়তেন। শেষদিকে বৃদ্ধ ক্যাপ্টেনের মধ্যে অবশ্য দৃঢ়তা কমে গেছিল, ভোল্টেজ কমে এলে, বা অনেকক্ষন চললে সে হাঁপাত, তার ছবি কাঁপত, কোনা মুড়ে যেত। এসব ক্ষেত্রে নির্দয় হয়ে তাকে চড়-চাপাটি মারতেই হত! কিন্তু, সে যাই হোক, ক্যাপ্টেনের কাছে আমরা ঋণীই ছিলাম, এখনো আছি।

এই ক্যাপ্টেনের সুবাদেই দেখেছিলাম ‘বিবাহ-অভিযান’ নামের সিরিয়ালটি! যতদুর মনে পড়ে ১৯৯৩ এর সপ্তাহান্তের শুক্রবার গুলিতে, রাত দশটায় গ-গনশা, রাজেন, ঘ-ঘোৎনা, গোঁরা, তিলু আর কে. গুপ্তা এসে উদয় হয়েছিল আমাদের জীবনে। সিরিয়ালের শুরুতে লম্বা হুঁউশ হুউশ করে শব্দ হত, তারপর প্যাঁপা-প্যাঁপ-প্যাঁ এরকম আওয়াজে সিরিয়াল শুরু হত! সিরিয়ালটা অমন হাসির হওয়া সত্ত্বেও ওই হুউশ শব্দে শুরু হওয়ার কেমন গা শিউরে উঠত!

গনশা, রাজেন, ঘোৎনা, গোঁরা, তিলু আর কে গুপ্তা, শিবপুরের বাসিন্দা। বিয়ে-পাগলা এই ছয়জনের হিজিবিজি কাজ-কারবার ছিল অফুরন্ত হাসির উৎস! এদের মধ্যে গনশা (শঙ্কর চক্তবর্তী) দলনেতা বিশেষ, তার একটু তোতলামির একটু দোষ আছে বটে, তবে তাতে তার ধার বেড়েছে বই কমেনি! সে বয়েসে জানতাম না, জানার কথাও নয়, সিরিয়ালটি হয়েছিল দেবকুমার বসুর পরিচালনায়। অভিনেতাদের কাউকে চিনতাম না, আর দু-জন বাদে আর কেউ তেমন পরিচিত হয়েও উঠতে পারেনি। শঙ্কর চক্রবর্তী গনশাকে, আর শুভাশিস মুখার্জি রাজেনকে চিরকালের জন্য মনে গেঁথে দিয়ে গেছে। এই দুজন ছাড়া আর যারা ছিলেন, রাহুল বর্মন, জয় বাদলানী, দীপন তপাদার, আর রঞ্জন ব্যানার্জী, এদের মুখ মনে আছে, কিন্তু পরে আর কোথাও তাদের দেখেছি বলে মনে পড়ে না।

বিবাহ-অভিযান সিরিয়ালটি কোন অজ্ঞাত কারনে সম্পূর্ণ হয় নি, শেষ মনে আছে কে গুপ্তা দু-হাতের করতল জোড়া করে বুড়ো আঙুল দুটো নাড়িয়ে পুঁটিমাছ এর ইঙ্গিত করছিলেন, পুঁটি হল গনশার হবু বউ! এই সিরিয়ালটি টোরেন্টে বা সিডিতেও পাওয়া যায় না, তাই বহুদিন ধরে জানতে পারিনি যে এর গল্পের উৎস বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এর বই ‘বরযাত্রী ও বাসর’! সেকালের গল্পে তো উৎকট চড়া দাগের রসিকতা থাকত না, সিরিয়ালেও ঘনঘন বাজ পড়ার শব্দ হত না বা ধিন-তা-না-ধি-তা-না বেজে উঠত না। ফলে বিয়ে-পাগলা এই ছয়জনের কাজ-কারবার আজকের হিসেবে খুব অভূতপূর্ব না হলেও, আমাদের জন্য ছিল অফুরন্ত হাসির উৎস!

এ বই এর খুঁত ধরা আলোচনা সম্ভব, কিন্তু আমি করব না। এ বই শুধুই নির্মল আনন্দের আকর। সেই একটু সেকেলে, একটু বোকা-সোকা, কিন্তু একটু চালিয়াৎ গোটা কতক ছোকরার প্রেম, বিয়ে ইত্যাদি নিয়ে নাজেহাল হয়ে যাওয়ার গল্প এই বইটি। অবসর সময়ে স্মৃতিকাতরতায় ডুবে যাওয়ার জন্য এ বই আফিম বিশেষ!

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এই লেখাটি নেওয়া হয়েছে। এই প্রবন্ধ বা পোষ্ট লেখকের পরিচয় যতটুকু পেয়েছি, লেখার নীচে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এই লেখাটির লেখকের সন্ধান বিস্তারিত জেনে থাকেন, দয়া করে অবশ্যই জানাবেন। আমাদের email করুন এই ঠিকানায়, i@pagolerprolap.in অথবা লেখার নীচে কমেন্টে করুন।


লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন

★আপনার মূল্যবান মন্তব্য দিয়ে আমাদের পথ চলা ধারাকে অব্যাহত রাখুন★

★ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে কমেন্ট করুন★

Leave A Reply