একজন আক্কাস মিয়া পঁচিশ টাকা এবং একটা পাঞ্জাবির গল্প

লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন
  • 25
    Shares

আক্কাস মিয়া, কত সুন্দর একখানা নাম, মাঝে মধ্যে তিনি বেশ গৌরব বোধ করেন তাহার এই নাম লইয়া। আর গৌরব বোধ হইবেই না কেন? হাটে মাঠে জঙ্গলে যেইখানেই যান বেশ সম্মান পান এই নামখানার জন্য। শুধু বউটা তাহার এই নাম লইয়া বিরক্ত হইয়া মাঝে মাঝে বলিয়া ওঠে ” কিরপনের বাচ্চা কিরপন! আমার বাপের জন্মে তোর মতো কিরপন চহে দেহি নাই, তোর নাম ধুইয়া পানি খা!” তবে ইহা লইয়া আক্কাস মিয়ার চিকন একটা দুঃখ থকিলেও উহা কখনই পাত্তা না দিয়া তাহার মিতব্যায়ি মনোভাব লইয়া কৃপণতার চর্চা করিতে থাকেন নির্দ্বিধায়।

একটা ঘটনা বর্ণনা করিলেই বুঝিতে পারিবেন আক্কাস মিয়ার দুঃখখানা কোথায়- একদা তিনি নিজ কার্যালয় হইতে বাহির হইয়া হাটবাজার শেষ করিয়া এগারো নাম্বার গাড়িতে করিয়া বাড়ির উদ্দেশ্যে যাইতেছিলেন পথে হঠাৎ এক খানা হকারের চিৎকার শুনিয়া ভিরমি খাইয়া ল্যাম্পপোস্ট এর ন্যায় দাঁড়াইয়া গেলেন, ডানে বামে সামনে পিছনে উত্তমরূপে পর্যবেক্ষণ করিলেন কোন খানে এমন মধুর চিক্কুর শোনা যাইতেছে, লক্ষ্য করিলেন তাহার পিছন হইতে এই হাঁক ডাক এর শব্দ বাতাসে ভাসিয়া আসিতেছে। তিনি দেখিলেন একখানা হকার শুধু একখানা পাঞ্জাবি হাতে লইয়া বলিতেছে “এই একখানাই রহিয়াছে যিনি আগে আসিবেন তিনিই পাইবেন এই পাঞ্জাবি খানা, খালি সস্তায় খালি সস্তায়!” আক্কাস মিয়া ক্ষানিক্ষন নিজের পরনের বসনের দিকে তাকাইলেন,কারন তাহার একখানা নতুন বসনের বড় প্রয়োজন কারন বর্ণনা করিতে গেলে বলিতে হইবে যে- তাহার পরনে যে জামা খানা রহিয়াছে সেইটার হাল একেবারে বেহাল দশা, রাস্তায় চলিতে গিয়া যদি কাহারো সাথে একবার ঘশা লাগে তৎক্ষণাৎ উহা শরীর হইতে খসিয়া পড়িবে, আর কোন কিছু না ভাবিয়া অতি দ্রুত ছুটিয়া গেলেন ওই হকার’এর দিকে- শুরু হইল দর কষাকষি একশ টাকার রশি শেষে গিয়া ছিঁড়িল পঁচিশ টাকায়, পাঞ্জাবি খানা লইয়া অতিব প্রসন্ন চিত্তে নৃত্য করিতে করিতে নিজ বাড়িতে পৌঁছাইলেন।

তাহার পরের দিন তাহার শরীরে ওই পাঞ্জাবি প্রবেশ করিল, আর দিন দিন মাস মাস করিতে সময় পৌঁছাইল বছরের কোঠায়, এদিকে পাঞ্জাবির অবস্থা একেবারে যায় যায়- শরীরের অংশের কাপড় যদিও সহ্য হয় কিন্তু হাতের অংশ খসিয়া যাইবার উপক্রম হইল, উপায় না দেখিয়া ওই পাঞ্জাবি খানার হাতের অর্ধেক কাটিয়া ছাঁটিয়া হাফ হাতা ফতুয়া বানাইলেন। কখনো লোকাল কখনো মেল গাড়ির ন্যায় আবারো দিন চলিতে লাগিল। এভাবে কয়েক মাস কাটিয়া গেলো তারপর একদিন সেই ফতুয়া গেঞ্জিতে রূপান্তরিত হইল। গেঞ্জি খানাও আক্কাস মিয়ার শরীর আঁকড়াইয়া রহিল আরও কয়েক মাস। এইখানেই যদি তিনি ক্ষান্ত দিতেন ওই পাঞ্জাবি হইতে রূপান্তরিত গেঞ্জিখানাকে, তাহা হইলে ওই আক্কাস মিয়ার মিতব্যায় নামক অত্যাচার হইতে রক্ষা পাইত ওই সুন্দর পোশাক হইতে রূপান্তরিত গেঞ্জি খানা, কিন্তু না, এইখানেই শেষ হইল না আক্কাস মিয়ার ওই কাপড়ের নিয়া গবেষণা! এইবার তিনি ওই গেঞ্জি খানাকে কাটিয়া রুমাল বানাইলেন একখানা। এইবার ওই রুমাল তিনি পাজামার বাম পকেটে গুজিয়া মহাসুখে ঘুরিয়া ফিরিলেন আরও তিন মাস। তারপর একদিন প্রচণ্ড গরমে ছেঁড়া ছাতার ফাঁক গলিয়া যে রদ্দুরের ছটা আক্কাস মিয়ার শরীরে লাগিতেছিল তাহাতে তাহার গা ঘামে চুবিয়া উঠিল আর ঘাম মুছিবার লক্ষ্যে যেই তাহার অতিব সাধের রূপান্তরিত রুমাল দিয়া কপল মুছিতে লাগিলেন আর তখনই রুমাল খানা ছিঁড়িয়া গেলো! আর পঁচিশ টাকার শোকে বিহ্বল আক্কাস মিয়া তাহার গর্বিত মুখ খানা হাড়ির ন্যায় করিয়া নিজ গৃহে ফিরিয়া আসিলেন।

গৃহে ফিরিতেই তাহার অতিব আদরের গিন্নীর চিৎকারে তাহার প্রাণ জিহ্বা হইতে ওষ্ঠে আসিয়া থামিয়া গেলো। গৃহে জ্বালানি নাই চুলা আজ আর জলিবে না, তাহার আদরের গিন্নী তাহাকে কণ্ঠ বাণে অবহিত করিল আর খনিক শাসাইল বটে। তৎক্ষণাৎ আক্কাস মিয়ার মাথায় ছেড়া রমাল খানার কথা মনে আসিল,তাহার গিন্নির হস্তে ওই ন্যাকড়া মার্কা বস্তু খানা হাতে ধরাইয়া দিয়া মধুর সুরে কহিলেন “ওহে এই লও তোমার আজকের জ্বালানি” চুলা জ্বলিল রান্না অতঃপর খাওয়া দাওয়া। সেই দিনের মতো অকথ্য গালাগালি হইতে রক্ষা পাইয়া অতি সুখে নিদ্রা যাপন করিলেন তিনি। সকাল হইল, দাঁত মাজিতে মাজন খুঁজিতে গিয়া দেখিলেন মাজন নাই, তাহার মনে পড়িল চুলার কথা, চুলার ছাই! অতিব উত্তম মাজন। অতঃপর তিনি চুলা হইতে রুমাল পোড়া ছাই লইয়া দাঁত মাজিতে মাজিতে ছুটিলেন পুকুরের উদ্দেশ্যে। পুকুরে নামিয়া কুলি করিবার পর মনে পড়িল তাহার পঁচিশ টাকার কথা, আর মনে পড়িতেই চিৎকার করিয়া কাঁদিয়া উঠিলেন তিনি, অকস্মাৎ এহেন চিৎকার শুনিয়া পাড়ার আবাল বৃদ্ধ বনিতা জড়ো হইয়া গেলো এবং তাহাকে প্রশ্ন করিতেই তিনি পুকুর লক্ষ্য করিয়া কাকসরে চিৎকার দিয়া বলিয়া উঠিলেন ” আমার পঁচিশটা টাকাই জলে গেলো”!!!

আমি শিল্পের কারিগর। আমি প্রথাগত রাজনীতি থেকে বিরত যে রাজনীতি মানুষের জন্য অকল্যাণকর আমি তা সমর্থন করি না…

★আপনার মূল্যবান মন্তব্য দিয়ে আমাদের পথ চলা ধারাকে অব্যাহত রাখুন★

★ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে কমেন্ট করুন★

Leave A Reply