এই শীতে পিকনিকের সেরা ঠিকানা

লেপের আমেজ কাটিয়ে ধোঁয়া ওঠা কফিতে চুমুক দিয়েই রং-বেরংয়ের শীতের পোশাক গলিয়ে সাত-সকালে বেরিয়ে পড়া। সঙ্গে অবশ্যই নেওয়া চাই ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট বা এই জাতীয় খেলার সরঞ্জাম। বাস বা গাড়িতে খুব দূরে নয়, আবার খুব কাছাকাছিও নয় এমন একটি জায়গা বেছে নিয়ে দেদার মস্তি করার অবাধ ছাড়পত্র মেলে এই দিনটিতে। এই হল পিকনিক। পিকনিক মানেই ‘ডেস্টিনেশন ফান’। সব মিলিয়ে অসাধারণ এক অনুভূতি। আসলে শহুরে একঘেয়েমি থেকে একটু দূরে, নিজেদের মতো করে সময় কাটানোই মূলমন্ত্র। আর পিকনিক শেষে খোড়বড়ি খাড়া জীবনে ফিরে গিয়ে ফেসবুকে সেই ছবি আপলোড করলে তার রেশ রয়ে যায় অনেকদিন… কলকাতা ও আশপাশের জেলার এমন কয়েকটি চেনা-অচেনা-অল্প চেনা পিকনিক স্পটের হদিশ দেওয়া হল এখানে।

মোহনা 
খোদ কলকাতার মধ্যেই এমন একটি পিকনিক স্পটের সন্ধান পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়! নাগরিক কোলাহলের এত কাছে চারদিক খোলামেলা এমন একটি জায়গা যে আছে, তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই! ই এম বাইপাসে চিংড়িঘাটার কাছে মেট্রোপলিটন হাউজ়িং সোসাইটির বিপরীতে মোহনা অবস্থিত। মাথার উপর নীল আকাশ আর সবুজের ছায়া-মাখানো মেঠো পথ। পাশেই বিশাল নীল জলের ভেড়ি। সেখানে মাছেরা খেলা করছে। ইচ্ছে করলে সেই জলে নৌকা নিয়েও ভেসে যাওয়া যায়। জায়গাটির ইউএসপি এটাই। শুধু তাই নয়, রান্নার ফাঁকে খেলার শখ হলে পাশেই রয়েছে উন্মুক্ত মাঠ। সেখানে ক্রিকেট কিংবা ফুটবল চলতে পারে। সব মিলিয়ে সারাদিন কাটানোর পক্ষে জায়গাটির কোনও তুলনাই হয় না। এছাড়া কপালে থাকলে ডিম থেকে মাছের পোনা তৈরির জায়গাটিও দেখা যায়। পিকনিকের জন্য এখানে তিনটি জায়গা রয়েছে। প্রতিটি স্পটের ভাড়া ৮০০ টাকা, পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নুনের ভেড়ি মত্‌স্যজীবী উত্‌পাদন গোষ্ঠী (২ নম্বর)। রান্নার সরঞ্জাম, ঠাকুর বা কেটারারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এজন্য আগাম জানাতে হবে।
কীভাবে যাব: নিজেদের গাড়ি বা বাসে এলে ই এম বাইপাস ধরে নামতে হবে মেট্রোপলিটন। বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে মোহনা। যোগাযোগ: ৯৪৩৩৩৭৮০৪৬

মুদিয়ালি নেচার পার্ক
কলকাতার এত কাছে এমন একটি সুন্দর পিকনিক স্পটের কথা অনেকেরই অজানা। তারাতলা থেকে মাত্র তিন কিমি দূরে অবস্থিত মুদিয়ালি নেচার পার্ক। সবুজের গালিচায় মোড়া এই পার্কের অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হল অঢেল জায়গা, যেখানে খুশি বসে পড়া যেতেই পারে! ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫টি পিকনিক স্পট এখানে রয়েছে। পার্কের মধ্যে চারটে জলাশয়, যেখানে শীতের সময় অসংখ্য পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। পিকনিক স্পটের ভাড়া শুরু ৫০০ টাকা থেকে। আগে থেকে জানিয়ে রাখলে রান্নার সরঞ্জাম ও ডেকরেটর এখানেই পাওয়া যায়। তবে পার্কের মধ্যে ছোট্ট রেস্তরাঁও আছে। পিকনিকের আনন্দের সঙ্গে বাড়তি পাওনা মিনি চিড়িয়াখানা, স্পিড বোটিং, প্যাডেল বোটিং। পার্কের প্রবেশ মূল্য মাথাপিছু ১৫ টাকা। সব মিলিয়ে কলকাতা থেকে খুব কাছের এই জায়গাটি পিকনিকের জন্য একেবারে পারফেক্ট চয়েস।
কীভাবে যাব: শিয়ালদহ থেকে বজবজগামী ট্রেনে বেসব্রিজ় স্টেশনে নামতে হবে। এখান থেকে হাঁটা পথে এই পার্ক। গাড়িতে এলে তারাতলা থেকে মহেশতলার দিকের রাস্তা ধরে বেসব্রিজ় ক্রস করেই মুদিয়ালি নেচার পার্ক। যোগাযোগ: ৯৮৩১৫৩০৬৩৫

ফুলেশ্বর
হাওড়া জেলায় পিকনিক করার জায়গাগুলোর মধ্যে ফুলেশ্বর অফবিট ডেস্টিনেশন। পিকনিকের হাই সিজ়নেও এখানে খুব কম ভিড় হয়। নিরিবিলি জায়গা যাদের পছন্দ, তাদের পক্ষে একেবারে আদর্শ ফুলেশ্বর পিকনিক স্পট। ভাগীরথীর গা ঘেঁষে এই জায়গাটি কলকাতা থেকেও খুব দূরে নয়। এখানে দু’ভাবে পিকনিক করা যেতে পারে। নদীর ধারে খোলা মাঠ রয়েছে, পছন্দমতো যে-কোনও জায়গায় বসে পড়লেই কেল্লাফতে! তবে অচেনা জায়গায় এভাবে খোলা মাঠের মধ্যে পিকনিক পছন্দ না হলে অন্য ব্যবস্থাও আছে। মাঠের পাশেই একটি গেস্ট হাউজ রয়েছে। শোনা যায়, এই গেস্ট হাউস আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত। তবে এখন এটি সেচ দপ্তরের নিয়ন্ত্রণে। গেস্ট হাউজে থাকতে হলে আগে থেকে বুক করতে হয়। তবে শুধু পিকনিক করতে হলে বুক করার কোনও প্রয়োজন নেই। দিগন্তবিস্তৃত জলরাশি, ছোট-ছোট মাছ ধরার নৌকো। যেমন আর পাঁচটা নদীর ধারের পিকনিক স্পটে দেখা যায়, এখানেও তার ব্যতিক্রম হয় না। পাড়ে বসে থাকলে সময় যে কোথা থেকে চলে যায় টেরই পাওয়া যায় না। পিকনিকের হই-হুল্লোড়ের ফাঁকে নিজের সঙ্গে একটু সময় কাটানোর জন্যও জায়গাটি একেবারে খাসা!
কীভাবে যাব: হাওড়া থেকে পাঁশকুড়া বা খড়গপুরগামী যে-কোনও লোকাল ট্রেনে ফুলেশ্বর স্টপেজে নামতে হবে। এখান থেকে রিকশায় পিকনিক স্পট।

মাতৃনিবাস পিকনিক গার্ডেন
হুগলি জেলায় ব্যান্ডেল স্টেশনের ধারে সবুজের সমারোহে গড়ে ওঠা চমত্‌কার পিকনিক স্পট মাতৃনিবাস পিকনিক গার্ডেন। ভিতরে সারিবদ্ধ সবুজ গাছের সারি ও নানা ধরনের মরশুমি ফুল। পিকনিকের জন্য বেশ কয়েকটি ছোট-বড় স্পট এখানে রয়েছে। শীতের সিজ়নে অবশ্যই অগ্রিম বুকিং বাঞ্ছনীয়। স্পটের ভাড়া শুরু ১০০০ টাকা থেকে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য অবশ্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। পিকনিকের সাজ-সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়ে আসাই শ্রেয়। তবে ব্যান্ডেল স্টেশনের কাছেই বেশ বড় বাজার রয়েছে, সেখানেও সবকিছু মিলে যায়। রাত কাটানোর ব্যবস্থাও আছে এখানে। পিকনিকের আনন্দ আরও দ্বিগুণ হয়ে যায় এর হেরিটেজ ফ্যাক্টরের জন্য। মাতৃনিবাসের খুব কাছেই দেবানন্দপুর, শরত্‌চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান। সময় থাকলে পায়ে-পায়ে এক চক্কর সেখান থেকেও ঘুরে আসা যেতেই পারে।
কীভাবে যাব: হাওড়া স্টেশন থেকে ব্যান্ডেলগামী লোকালে চেপে নামতে হবে ব্যান্ডেল স্টেশন। এখান থেকে অটোয় রাজহাট মোড়। এছাড়া দক্ষিণেশ্বর থেকে মাতৃনিবাসের দূরত্ব ৪০ কিমি। কলকাতা থেকে গাড়িতে বালি ব্রিজ পেরিয়ে জি টি রোড বা দিল্লি রোড ধরে আমার পি সি ফ্যাক্টরি, চুঁচুড়া ক্রস করে রাজহাট মোড় থেকে সোজা মাতৃনিবাস পিকনিক গার্ডেন। যোগাযোগ: ৯৮৩০১২৭৯২৫

অছিপুর পূজালি পিকনিক স্পট
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অবস্থিত পিকনিকস্পটগুলোর মধ্যে ইদানীং খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পূজালি পার্ক। তারাতলা থেকে মাত্র সাড়ে ২২ কিমি দূরে এই পিকনিক স্পট। এই জায়গাটিও গঙ্গার গা ঘেঁষে। চারিদিকে শুধু জল আর জল। দেখা যায় অসংখ্য ছোট-বড় মাছ ধরার নৌকো। মাঝিদের আসা-যাওয়া, শান্ত, সবুজ প্রকৃতি সব মিলিয়ে এক নিমেষে মন ভাল করে দেয়। পুরসভার নিয়ন্ত্রণে এই গঙ্গার ঘাট। পিকনিক লনের ভাড়া শুরু ৪০০ টাকা থেকে। এ ছাড়া থাকার জন্য গেস্ট হাউসেরও ব্যবস্থা রয়েছে। গেস্ট হাউসে ডবল বেডরুমের ভাড়া ৮০০ টাকা, কটেজ ৪০০ টাকা। তবে রুম বুক করলে আলাদা করে পিকনিক লনের ভাড়া লাগে না। আছে রান্না ও তার সরঞ্জামের ব্যবস্থাও। আর বাড়তি পাওনা, মোটর বোট নিয়ে গঙ্গায় ঘোরা! গঙ্গার বুকে সূর্যাস্তও সত্যিই দারুণ লাগে। তাই কলকাতার কাছেই পূজালি পার্কে এবারের পিকনিকের আয়োজনটা সেরে ফেলাই যায়!
কীভাবে যাব: শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে বজবজ স্টেশন। সেখান থেকে অটোয় অছিপুর পূজালি পার্ক। গাড়িতে তারাতলা থেকে সোজা বজবজ ট্রাঙ্ক রুট ধরে মহেশ তলা, পূুজালি পুরসভা পেরিয়ে অছিপুর গঙ্গার ঘাট। যোগাযোগ: (০৩৩) ২৪৮২২২৬৭, ৯৮৭৪৬৭২৩৩৪

ইকো ফ্রেশ এয়ার পার্ক
সুন্দর সাজানো এই পার্ক তিন বিঘে জমির উপর দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর স্টেশনের কাছাকাছি অবস্থিত। স্পটটি এতই সুন্দরভাবে সাজানো-গোছানো যে, একবার এলে ফিরে যেতে মন চাইবে না। অসংখ্য গাছপালা দিয়ে ঘেরা জায়গাটির আকর্ষণ বাড়িয়েছে নানা মরসুমি ফুল ছাড়াও বিশালাকার পুকুর। মাছ রয়েছে পুকুরে আর পাড়ে বসার জন্য বাঁধানো জায়গা করা আছে। পুকুরের মাঝখানে কৃত্রিম আইল্যান্ড, সেখানে রয়েছে বুদ্ধিস্ট প্যাগোডার অনুকরণে তৈরি মন্দির। আর দু’পাশে হুগলি দ্বিতীয় সেতুর অনুকরণে নির্মিত দু’টো ব্রিজ়। সব মিলিয়ে জায়গাটিকে অসাধারণ করে তুলেছে। এছাড়া বোটিংয়ের আকর্ষণও রয়েছে। এয়ার পার্কের পিকনিক স্পটের ভাড়া ১০,০০০ টাকা। ভাড়া একটু বেশি হলেও এর সঙ্গে তিনটে রেস্ট রুম একেবারে ফ্রি পাওয়া যায়। পিকনিকের বাকি সাজ-সরঞ্জামের জন্য সোনারপুর বাজার থেকে সব কিনে নিজেরাই রান্না করা যেতে পারা যায়। অথবা আগে জানিয়ে দিলে কর্তৃপক্ষই কেটারিংয়ের ব্যবস্থা করে রাখতে পারে।
কীভাবে যাব: শিয়ালদহ থেকে লোকাল ট্রেনে সোনারপুর স্টেশন। এখান থেকে অটোয় নয়াবাদের দিকে চার কিমি এগোলেই পড়ে এই পার্ক। এছাড়া রুবি হাসপাতাল থেকে ১২ কিমি দূরে এই পার্ক। গাড়িতে রুবি হাসপাতালের পাশ দিয়ে মেঘনাদ সাহা কলেজ, খেয়াদহ হাইস্কুলকে ডানদিকে রেখে চার কিমি এগোলেই তিহুরিয়া নয়াবাদে পড়ে এই পার্ক। যোগাযোগ: ৯৮৩০৬১১২৮৬

সবুজ দ্বীপ
হুগলি জেলায় অবস্থিত সবুজ দ্বীপ পিকনিক মানচিত্রে খুব চেনা নাম। বেহুলা ও হুগলি নদীর সঙ্গমে চর জেগে এই দ্বীপ গড়ে উঠেছিল। কলকাতা থেকে ৭৫ কিমি দূরে এই দ্বীপটি পিকনিকের জন্য ভারী সুন্দর। শান্ত, স্নিদ্ধ, প্রকৃতির উষ্ণতাভরা এই অঞ্চল। একদিকে নদীতে ছোট-ছোট নৌকায় মাছ ধরার দৃশ্য, অন্যদিকে গোটা দ্বীপটাকে ঘিরে রয়েছে অর্জুন, শাল, সেগুন, মেহগনি, দেবদারু ও আরও নানা গাছের সারি। আর এর সঙ্গে নাম না জানা পাখির কোলাহল। শীত পড়তে শুরু করলেই এই দ্বীপের কাছে পরিযায়ী পাখিরা আসতে শুরু করে। গঙ্গার চরে ঝাউবনের ভিতর পিকনিক করতে-করতে কোথায় যেন হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। পিকনিকের কোলাহল ছাপিয়ে যার আকর্ষণ কোনও অংশে কম নয়। এছাড়া ফ্রি টাইমে নৌকায় ভ্রমণও এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা! এখানে স্পট ভাড়া মাথাপিছু ৫০ টাকা। দ্বীপের মধ্যেই বেশ কয়েকটি মাঝারি মানের হোটেল রয়েছে। তবে নিজেদের ব্যবস্থা করতে হলে সঙ্গে সব জিনিস নিয়ে আসতে হবে। কারণ, দ্বীপের মধ্যে কোনও বাজার নেই।
কীভাবে যাব: হাওড়া থেকে ব্যান্ডেলগামী লোকালে ব্যান্ডেল স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে ব্যান্ডেল-কাটোয়া লাইনে সোমড়াবাজার স্টেশনে নেমে রিকশায় গঙ্গার হরীতকী ঘাট। এখান থেকে যন্ত্রচালিত নৌকায় সবুজদ্বীপ। যোগাযোগ: হুগলি জেলা পরিষদ (০৩৩)২৬৮০২১৩৯, বলাগড় পঞ্চায়েত সমিতি (০৩২১৩) ২৬০২৩৬

টাকি
উত্তর ২৪ পরগনায় ইছামতী নদীর কোলে অবস্থিত টাকি পিকনিকের জন্য বেশ ভাল। পরিবেশ ও প্রকৃতির সুষ্ঠু মেলবন্ধনে এই জায়গাটি পিকনিকের জন্য একেবারে আদর্শ। ইছামতী নদীর এপাড়ে টাকি আর অন্যপাড়ে বাংলাদেশ। প্রকৃতিও যেন দু’হাত ভরে সাজিয়ে দিয়েছে এই জায়গাটিকে। নদীর ধারেই পুরসভার ‘বনবীথি’তে পিকনিকের সুব্যবস্থা রয়েছে। বনবীথির পাশেই টাকি গেস্ট হাউজ। এখানেও পিকনিকের যাবতীয় ব্যবস্থা রয়েছে। চড়ুইভাতির উপরি মজা হিসেবে ইছামতীতে নৌকোবিহার আর সময় কুলিয়ে উঠতে পারলে পুরনো জমিদার বাড়ি, রামকৃষ্ণ মিশন, কুলেশ্বরী কালিমন্দির এসব জায়গাতেই একবার ঢুঁ মারা যেতে পারে। টাকির বেসরকারি ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে প্রাচীন জমিদার বাড়ির বাড়ির বাগান। রান্নার সরজ্ঞাম এবং রাঁধুনি টাকির ডেকরেটররা ভাড়া দেন।
কীভাবে যাব: শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদগামী ট্রেনে টাকি রোড স্টেশনে নামতে হবে। এখান থেকে অটো বা রিকশায় ইছামতীর তীরে পৌঁছানো যায়। এছাড়া গাড়িতে সায়েন্স সিটি উলটোদিকে ঘটকপুর হয়ে এখান টাকির দূরত্ব ৭৫ কিমি।

লোকনাথ পিকনিক গার্ডেনস
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে কাটা খালের কাছাকাছি দেড় বিঘে জমির উপর অবস্থিত লোকনাথ পিকনিক গার্ডেনস। পরিষ্কার গ্রাউন্ড, বসার জায়গা, পুকুর ও শান বাঁধানো ঘাট সব মিলিয়ে জায়গাটি পিকনিকের পক্ষে বেশ ভাল। এখানে থাকার জায়গা নেই, তবে শৌচাগারের ভাল বন্দোবস্ত রয়েছে। স্পট ভাড়া ৩০০০ টাকা (শনি ও রবি), অন্যান্য দিন ২৫০০ টাকা। রান্নার সরঞ্জাম ও ডেকরেটরের ব্যবস্থা এখান থেকেই করে দেওয়া হয়। তবে নিজেরা সঙ্গে নিয়ে এলেও কোনও আপত্তি নেই। কাছাকাছি বাজার বলতে বারুইপুর বাজার। অগ্রিম বুকিং ছাড়া এখানে প্রবেশ করা যায় না। সব মিলিয়ে জায়গাটি মোটের উপর মন্দ নয়!
কীভাবে যাব: শিয়ালদহ থেকে লোকাল ট্রেনে বারুইপুর স্টেশনে নামতে হবে। এখান থেকে চম্পাহাটিগামী অটোয় ৬ কিমি এগোলেই পড়ে এই স্পট। এ ছাড়া গাড়িতে বারুইপুর ফাইওভার দিয়ে কুন্তলার মোড় থেকে বাঁদিকে চম্পাহাটির দিকে এগিয়ে কাটা খাল ধরে খানিকটা এগোলেই লোকনাথ পিকনিক গার্ডেনস। যোগাযোগ: ৯৮৩৬০৮৭৩৭৮

নন্দীবাগান বাড়ি
একটা সময় পর্যন্ত পিকনিকের জন্য নদীর পাড় বা খোলামাঠই ছিল একমাত্র অপশন। তারপর এর সঙ্গে যুক্ত হল, বাগানবাড়ি। এই ধরনের বাড়িগুলোতে পিকনিকের চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে। আসলে বাগানবাড়ি নামটির মধ্যেই কেমন একটা ভাল লাগা জড়িয়ে থাকে। ব্যারাকপুরের দেবপুকুরে এমনই একটি বাগানবাড়ি হল, নন্দীবাগান বাড়ি। কলকাতা থেকে খুব দূরে নয়, ধর্মতলা থেকে মাত্র ৪২ কিমি দূরে। এর সুন্দর মনোরম পরিবেশের জন্য অনেকেই এই জায়গাটিকে বেছে নেয়। রান্না করা থেকে পরিবেশন সব কিছুরই সুব্যবস্থা রয়েছে। সেই সঙ্গে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য দু’টি রুমও পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ভাড়া পড়ে ৭০০০, তবে শনি ও রবিবার ৮০০০ টাকা লাগে। এখানে একবারে কেবল একটি গ্রুপকেই ভাড়া দেওয়া হয়। তবে একসঙ্গে ৫০০ জনের পিকনিক করার সুবিধে রয়েছে। মেঠো পথ, ফুলের বাগান, পুকুর সব মিলিয়ে এখানে গ্রাম্য পরিবেশের আমেজ পাওয়া যায়। এছাড়া খেলার জন্য রয়েছে বিশাল মাঠ। তা হলে আর দেরি কিসের!
কীভাবে যাব: শিয়ালদহ থেকে লোকাল ট্রেনে ব্যারাকপুর স্টেশন। এখান থেকে ব্যারাকপুর-বারাসাতগামী অটোয় দেবপুকুর স্টপেজে নামতে হবে। দূরত্ব পাঁচ কিমি। এছাড়া কলকাতা থেকে গাড়িতে বি টি রোড ধরে এগিয়ে ব্যারাকপুর-বারাসাত রোডে দেবপুকুর বাসস্টপেজ। যোগাযোগ: ৯৮৩১৩৫৬০০৮

গাদিয়াড়া – হাওড়া জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পিকনিক স্পট৷ কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিমি৷ ধর্মতলা থেকে বাসে মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা৷ সব থেকে বড় কথা, হুগলি নদীর তীরে বসে পিকনিক করার সুযোগ৷ রাজ্য সরকারের পর্যটন উন্নয়ন নিগমের রূপনারায়ণ ট্যুরিস্ট লজ রয়েছে থাকার জন্য৷ ফোন– ৯৭৩২৫১০০৭৬৷

মাইথন – পিকনিকের পাশাপাশি দু’-এক দিনের ছুটি নিয়ে দামোদরের তীরে মাইথনের ঘুরে আসতে পারেন৷ কাছেই রয়েছে কল্যাণেশ্বরী মন্দির৷ নানারকমের গাছপালায় ঘেরা এক অপূর্ব জায়গা৷ আসানসোল বা বরাকর থেকে মাত্র আট কিমি দূরে মাইথন৷ রয়েছে রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগমের মাইথন ট্যুরিস্ট লজ (ফোন– ৯৭৩২১০০৯৪০) এছাড়াও যুব আবাস, পিডবলুডি বাংলো,  হোটেল শান্তিনিবাস ইত্যাদি রয়েছে৷

কল্যাণী পিকনিক গার্ডেন – কল্যাণী সীমান্ত স্টেশন থেকে কাছেই এই গার্ডেন৷ প্রবেশমূল্য রয়েছে৷ পিকনিক করতে চাইলে আগে থেকে কথা বলে নিতে হবে৷ ফোন–  ৯৩৩৯৮৭৬৮২৩৷

পানিত্রাস – এই স্পটের সব থেকে বড় বৈশিষ্ট্য– এখানেই রয়েছে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি৷ কাছেই রূপনারায়ণ৷ নদীর কাছে বিশাল মাঠ বা নদীর তীরে পিকনিক হয়৷ কাছেপিঠে অনেক গেস্ট হাউস রয়েছে৷ আগে থেকে বুক করে নিতে হবে৷ কোলাঘাটের আগের স্টেশন দেউলটি৷ এখান থেকে অটো বা গাড়িতে পানিত্রাস যেতে পারবেন৷ প্রসঙ্গত বলতে হয়, কোলাঘাটও একটা ভাল পিকনিক স্পট৷ নদীর ধারে মন খুলে ঘোরা যায়৷

মায়াপুর – জলঙ্গি আর গঙ্গার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত মায়াপুর ইসকনের মন্দিরের জন্য বিখ্যাত৷ অসাধারণ সুন্দর এই মন্দিরটি দেখার সঙ্গে সঙ্গে পিকনিকের সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না৷ নদীর তীরে শীতকালে পিকনিক এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা৷ বাড়ি ভাড়ার সুবিধা আছে, খরচ খুবই কম৷কলকাতা থেকে সোজা বাস যায় মায়াপুর৷ আবার কৃষ্ণনগর থেকে অটোয় মায়াপুর ঘাটে এসে নৌকায় নদী পার হলেই মায়াপুর।

গড় মান্দারণ – কামারপুকুর থেকে ঘাটাল যাওয়ার পথে আড়াই থেকে তিন কিমি গেলেই গড় মান্দারণ৷ বিশাল এলাকা জুড়ে ঘন গাছের সারিতে ঢাকা এক মনোরম পিকনিক স্পট৷ ফোন– ০৩২১১-২৪৪৫৭০৷

দুর্গাপুর ব্যারেজ – দামোদর নদের ধারে গাছের ছায়ায় পিকনিকের পক্ষে আদর্শ স্থান৷ খুব কাছেই দুর্গাপুর ব্যারেজ, দামোদরের অন্য তীরে বাঁকুড়া জেলা, দুর্গাপুরে আছে রাজ্য সরকারের পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল৷ ফোন– ৯৭৩২১০০৯৩০৷

গড়চুমুক – হাওড়ার শ্যামপুর এলাকায় একটি অন্যতম জনপ্রিয় স্পট৷ একটু দূরেই এশিয়ার বৃহত্তম গেটের অন্যতম আটান্ন গেট৷ সামনেই দামোদর নদ৷ আছে জেলা পরিষদ পরিচালিত হলিডে হোম৷ ফোন– ০৩৩-২৬৩৮৪৬৩৩৷

বাকসি – হাওড়ার বাগনান স্টেশন থেকে বাসে খানিকটা পথ গেলেই বাকসি৷ বাগনান থেকে বাস আছে৷ নদীর ধারে পিকনিক করা যায়৷ তবে, আগে থেকে যোগাযোগ করে নিলে সমস্যা হবে না।

নিউ দিঘা – মেছেদা থেকে দীঘাগামী ট্রেনে দীঘা,  সেখান থেকে অটো করে প্রায় দশ মিনিটের পথ৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে এখানে গড়ে উঠেছে সমুদ্রের ধারে সুন্দর পিকনিক স্পট।

চেকলিস্ট
পিকনিকে যাওয়ার আগে ভাল করে রুট প্ল্যানিং, খাবারের ব্যবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে নিও।
যতই ভাল বন্দোবস্ত থাক না কেন, ট্র্যাভেল রুটে সঙ্গে রাখতে হবে শুকনে এবং ফল। আর অবশ্যই থাকবে বেশ কয়েকটি জলের বোতল।
সঙ্গে রাখো কিছু বেসিক মেডিসিন। বদ হজম, মাথা ব্যথা ইত্যাদি জাতীয় ওষুধ।
কোনও খাবারে অ্যালার্জি থাকলে সেটা ট্রাই না করাই ভাল।
সঙ্গে অবশ্যই রাখা দরকার সচিত্র পরিচয়পত্র।
রোদে বেশি ঘোরাঘুরি করা উচিত নয়।
অচেনা লোকজনদের সঙ্গে বেশি আলাপ না করলেই ভাল হয়।
অযথা বেশি রাত না করে হাতে সময় নিয়ে ঘরপানে ফেরা শ্রেয়।

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেন

পাগলের প্রলাপ

আমার নিঃশব্দ কল্পনায় দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি, আমার জীবনের ঘটনা, আমার চারপাশের ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে লেখার চেষ্টা করি। প্রতিটি মানুষেরই ঘন কালো মেঘে ডাকা কিছু মুহূর্ত থাকে, থাকে অনেক প্রিয় মুহূর্ত এবং একান্তই নিজস্ব কিছু ভাবনা, স্বপ্ন। প্রিয় মুহূর্ত গুলো ফিরে ফিরে আসুক, মেঘে ডাকা মুহূর্ত গুলো বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ুক। একান্ত নিজস্ব ভাবনা গুলো একদিন জীবন্ত হয়ে উঠবে সেই প্রতীক্ষাই থাকি।

Create Account



Log In Your Account