বিরিয়ানির সাথে লাল কাপড়ের কি সম্পর্ক?

0
লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন
  • 10
    Shares

লাল রং মানে বিপদ!! লাল রং মানে থামুন!! বিরিয়ানি! নাম শুনলেই জিভে জল! শহর কিংবা মফস্বল বিরিয়ানির দোকান দিন দিন বাড়ছে।বাঙালির খাবার তালিকায় বিরিয়ানি থাকবে না তাই কখনও হয়!

তাহলে এই বিরিয়ানি পাত্রে লাল কাপড় জড়ানো কেন? প্রশ্ন অনেকেরই, একটা বড় হাঁড়ি, তার গায়ে একটা লাল কাপড় জড়ানোর আসল কারন কি?
এটুকু থাকলেই যথেষ্ট। ওটাই বিরিয়ানি প্রেমীদের আসল ‘সিগন্যাল’।

১) লাল কাপড় দেখে বিরিয়ানি প্রেমীরা স্পেনীয় ষাঁড়ের মতো দৌড়বেন, এমনটাই কি ভাবেন পরিবেশকরা?

২) নাকি সুস্বাদু বিরিয়ানি কে , খারাপ নজর থেকে বাঁচানোর জন্য এই লাল কাপড়?

৩) কোনো দেশে লাল শৌর্য, আক্রমণ, বিপদ অর্থে ব্যবহৃত হয়। ভাগাড়ের মাংসের বিরিয়ানির হাড়িতে লাল কাপড় জড়িয়ে কি সেই বিপদের সিগন্যাল দেওয়া হতো? যেমন আবার ট্রেনের বা রাস্তার সিগনালে লাল ব্যবহার করা হয়। ফুটবল খেলার মাঠে রেফারি প্রথমে সতর্কতা হিসেবে হলুদ পরে বিপজ্জনক আচরণের জন্য লাল কার্ড ব্যবহার করেন।

৪) নাকি অভিজাত্য, বনেদি, উষ্ণতা প্রকাশের রীতি অনুসরণ করা হচ্ছে সেই প্রাচীন প্রথা মেনে?

তবে লাল রংকে সাধারণত ধরা হয় সৌভাগ্য, উষ্ণতা, আনন্দ-উৎসব ও ভালোবাসার আবেগের প্রতীক। হৃদয়ের রং লাল। উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রকাশের ক্ষেত্রেও হৃদয়ের লাল রং ব্যবহার হয়।

মুঘল সম্রাট হুমায়ুন যখন রাজ্য হারিয়ে ইরানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তখন তাকে পারস্য সম্রাট লাল গালিচার উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। খাবার পরিবেশনে দরবারি রীতিগুলোতে রূপালি পাত্রের খাবারগুলোর জন্য লাল কাপড় আর ধাতব ও চিনামাটির জন্য সাদা কাপড় দিয়ে ডেকে নিয়ে আসা হতো। যা মুঘলরাও তাঁদের দরবারে চালু করেন। শুধু তাই নয় সম্মানিত ব্যক্তি বা আধ্যাত্মিক সাধকদের জন্য ছিল লাল পাগড়ির ব্যবস্থা।

বিরিয়ানি ভারতবর্ষে পা রাখে মুঘল আমলে। খাবার পরিবেশনে এই প্রথা ও রঙের ব্যবহার শহর লক্ষ্মৌয়ের নবাবরাও অনুসরণ করতেন। সমাজ জীবনে তাই অভিজাত্য, বনেদি, উষ্ণতা প্রকাশে লাল কাপড়ের ব্যবহার চলে আসছে যুগ যুগ ধরে।

গল্প যখন বিরিয়ানি নিয়ে,বাঙালি তখন এক থেকে পাঁচ এর ঘরে। লাল রং যে কারণেই হোক আমরা বিরিয়ানি খাই, খাচ্ছি, এবং খাবো।

লিখে পাঠাতে চান নিজের অভিজ্ঞতা বা লেখা ? পাঠান এই ইমেল-ঠিকানায়: i@pagolerprolap.in অথবা নিচে কমেন্ট করুন !

আপনার মতামত

About Author

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এই লেখাটি নেওয়া হয়েছে। এই প্রবন্ধ বা পোষ্ট লেখকের পরিচয় যতটুকু পেয়েছি, লেখার নীচে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এই লেখাটির লেখকের সন্ধান বিস্তারিত জেনে থাকেন, দয়া করে অবশ্যই জানাবেন। আমাদের email করুন এই ঠিকানায়, i@pagolerprolap.in অথবা লেখার নীচে কমেন্টে করুন। -- সঞ্জয় হুমানিয়া

Leave A Reply