রিটা হেওয়ার্থ অ্যান্ড শশাঙ্ক রিডেম্পশান

::: বই রিভিউ ::: রিটা হেওয়ার্থ অ্যান্ড শশাঙ্ক রিডেম্পশান

বইয়ের নাম: রিটা হেওয়ার্থ অ্যান্ড শশাঙ্ক রিডেম্পশান।
রিভিউ লিখেছেন ঃ Khalid Mahmud

মূল লেখক: স্টিফেন কিং,
অনুবাদ: Mohammad Nazim Uddin,
প্রচ্ছদ: ডিলান,
প্রকাশনী: বাতিঘর,
প্রকাশকাল: জুন, ২০১৭
পৃষ্ঠা: ১২৭
মুদ্রিত মূল্য: ১৪০ টাকা।

অ্যান্ডি ডুফ্রেইন, ব্যাংকার। স্ত্রী লিন্ডা কলিন্স ডুফ্রেইনকে নিয়ে তিনি ততদিন পর্যন্ত সুখিই ছিলেন, যতদিন না তার স্ত্রী ফেলমাউথ হিলস কান্ট্রি ক্লাবে গলফ শেখার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলো। সময়টা ছিলো ১৯৪৭ এর জুন। লিন্ডার প্রশিক্ষক ছিলো ফেলমাউথ হিলসের গলফ ট্রেইনার গ্লেন কুয়েন্টিন। ১৯৪৭ এর আগষ্টের শেষের দিকে অ্যান্ডি জানতে পারে কুয়েন্টিন আর তার স্ত্রী লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করছে। ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে অ্যান্ডি আর লিন্ডা এ নিয়ে প্রচন্ড বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। তাদের ঝগড়ার বিষয় ছিলো লিন্ডার ‘অবিশ্বস্ততা’।

ঝগড়ার এক পর্যায়ে এসে লিন্ডা অপ্রত্যাশিতভাবে বলে, সে ডিভোর্স নেয়ার পরিকল্পনা করছে। অ্যান্ডির প্রতুত্তর ছিল, ডিভোর্স দেবার আগেই তাকে জাহান্নামে পাঠাবে। এক পর্যায়ে লিন্ডা রেগেমেগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়, আর রাত কাটাতে উঠে কুয়েন্টিনের ভাড়া করা এক বাংলো বাড়িতে। ১১ সেপ্টেম্বর সকালে কুয়েন্টিনের গৃহপরিচারিকা লিন্ডা আর কুয়েন্টিনকে বিছানায় মৃত অবস্থায় পায়। দু’জনকেই চারটা করে গুলি করা হয়েছে।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যার্টনি খুব নাটকিয় ভঙ্গিতে অ্যান্ডির বিরুদ্ধে অভিযোগনামায় বলে, “এই অ্যান্ডি ডুফ্রেইন কেবলমাত্র রাতে উন্মত্ত হয়েই তার স্ত্রীর উপর প্রতিশোধ নেয় নি, বরং সে বেশ ঠান্ডা মাথায় হিসেব করে চমৎকার একটা পরিকল্পনার সাহায্যে প্রতিশোধ নিয়েছে। জুরিদের দিকে তাকিয়ে জোড় দিয়ে বলে অ্যার্টনি – চার আর চার, মোট আটটা গুলি পাওয়া গেছে নিহত দু’জনের স্থির দেহ থেকে। অথচ বন্দুকে থাকে ছয়টা গুলি! তারমানে বন্দুক খালি করে আবার গুলি ভরে নেয় খুনি, যেন দু’জনকে আরো গুলি করতে পারে।” ফলে হিসেব আরো সহজ হয়ে যায়, যাবজ্জীবন হয় অ্যান্ডি ডুফ্রেইনের। মেইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলে হয়তো ফাঁসিতেই ঝুলতে হতো তাকে।

ভয়ঙ্কর জেলখানা ‘শশাঙ্কে’ প্রবেশ করতেই বিভীষিকা নেমে আসে অ্যান্ডির জীবনে। কিন্তু অদ্ভুৎ একটা কারনে সে ছিলো সবসময়ই স্থির। তার ভাবভঙ্গি এমন, যেন উইকেন্ড কাটাতে এসেছে দৃষ্টিনন্দন কোথাও। দাগি আসামি হিসেবে একদমই বেমানান সে। সেখানেই পরিচয় ঘটে আরেক যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি রেডের সাথে। এই রেডের মুখ থেকেই আমরা পুরো ঘটনাটা জানতে পারি, আসলে কি ঘটেছিলো পুরো সময়টা জুড়ে। কেন বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিলো অ্যান্ডি শশাঙ্কের জেলে।

মাস তিনেক আগে মুভিটা দেখে স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম অনেকটা সময়, ভাবটা – এ কি দেখলাম! 😶 এত বেশি নাড়া দিয়েছিলো “The Shawshank Redemption – 1994” মুভিটা, বলার ভাষা নেই। তারপর তো অনেকদিন, এই সেদিন বাতিঘরে ঢুঁ না দেয়া পর্যন্ত জানতামই না মুভিটা স্টিফেন কিং’এর এই বইটা থেকে নেয়া! “দ্য ওয়ার্ল্ড বেস্ট ওয়ান!” হয়ে বিশ বছরেরও অধিক সময় ধরে হলিউড কাঁপিয়ে নিজের স্ব অবস্থান ধরে রাখা মুভিটার কাহিনি যখন বই আকারে পেলাম হাতের কাছে, না পড়াটা তখন ভীষণ অন্যায় মনে হলো। ভালো ছিলো! 😊😊

রেটিং: মুভিটাকে যদিও ১০/১০ দেই, তবে বইটা পাবে ৮/১০

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেন

পাগলের প্রলাপ

আমার নিঃশব্দ কল্পনায় দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি, আমার জীবনের ঘটনা, আমার চারপাশের ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে লেখার চেষ্টা করি। প্রতিটি মানুষেরই ঘন কালো মেঘে ডাকা কিছু মুহূর্ত থাকে, থাকে অনেক প্রিয় মুহূর্ত এবং একান্তই নিজস্ব কিছু ভাবনা, স্বপ্ন। প্রিয় মুহূর্ত গুলো ফিরে ফিরে আসুক, মেঘে ডাকা মুহূর্ত গুলো বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ুক। একান্ত নিজস্ব ভাবনা গুলো একদিন জীবন্ত হয়ে উঠবে সেই প্রতীক্ষাই থাকি।

Create Account



Log In Your Account