মহাস্থানগড় – বগুড়া

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

মহাস্থানগড় – বগুড়া – বাংলাদেশ 😍😍

লেখা ও ছবি: Khalid Mahmud

রাতে জয়পুরহাট থেকে পরদিন ২৮ তারিখ খুব সকালে আমাদের বগুড়া যাত্রা শুরু হয়েছিলো… উদ্দেশ্য মহাস্থানগড় ও তারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাচীণ নিদর্শনগুলি দেখা! রাতে ফ্রেশ ঘুম হওয়ায় পরদিন সকাল থেকেই সো অ্যানার্জেটিক ছিলাম আমি আর ইরফান… 😎😎

গোকুলমেধ!

মহাস্থানগড় নিয়ে কিছু বলি – এটি বহু নিদর্শনসমৃদ্ধ একটি প্রাচীণ নগররাষ্ট্র, বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। প্রসিদ্ধ এই নগরী ইতিহাসে পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর নামেও পরিচিত ছিল। যিশু খ্রিষ্টের জন্মেরও আগে অর্থাৎ প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে এখানে সভ্য জনপদ গড়ে উঠে, এর প্রমাণ প্রত্নতাত্ত্বিক ভাবেই মিলেছে। ২০১৬ সালে এটি সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হয়…

কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত মহাস্থানগড় পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সামন্ত রাজাদের রাজধানী ছিল। তৃতীয় খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে পঞ্চদশ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অসংখ্য হিন্দু রাজা ও অন্যান্য ধর্মের রাজারা রাজত্ব করেছেন এখানে… তাছাড়া এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল। বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ তার ভ্রমণ ধারাবিবরণীতেও এখানকার প্রকৃতি ও জীবনযাত্রার উল্লেখ করে বর্ণনা দিয়েছেন। হিউয়েন সাঙ ৬৩৯ থেকে ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে পুন্ড্রনগরে এসেছিলেন!

জিয়ৎ কুণ্ড – মহাস্থানগড় সংলগ্ন একটি বড় কুপ, যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। কথিত আছে এই কুপের পানি পান করে পরশুরামের আহত সৈন্যরা সুস্থ হয়ে যেত। যদিও এর কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি!

মহাস্থানগড় ও তার আশেপাশে বহু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এগুলি হচ্ছে হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র:) এর মাজার, মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, খোদার পাথর ভিটা, মানকালীর ঢিবি, বৈরাগীর ভিটা, স্কন্ধের ধাপ, মঙ্গলকোট স্তুপ, গোকুল মেধ, ট্যাংরা বৌদ্ধ স্তুপ, বিহার ধাপ, ভাসু বিহার, ভিমের জঙ্গল, কালীদহ সাগর, শীলাদেবীর ঘাট, জিয়ৎ কুন্ড, বেহুলার বাসর ঘর, গোবিন্দ ভিটা ও পরশুরামের প্রাসাদ। প্রতিটি স্থানেরই নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে… আর সবগুলোই পাশাপাশি অবস্থিত! আমরা স্বল্প সময়ে যতটুকু সম্ভব দেখার চেষ্টা করেছিলাম… 😊😊

এখানকার জাদুঘরটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। মহাস্থান গড় খননের ফলে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন ও অন্যান্য রাজবংশের হাজার বছরের পুরানো অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন সোনা, রুপা, লোহা, ব্রোঞ্জ, পাথর, কাঁসাসহ বিভিন্ন মূল্যবান ধাতব পদার্থ, পোড়ামাটির তৈরি মূর্তি, কালো পাথরের মূর্তি, বেলে পাথরের মূর্তি, মাটি দিয়ে তৈরি খোদাই করা ইট, স্বর্ণবস্তু, বিভিন্ন শিলালিপি, আত্মরক্ষার জন্য ধারালো অস্ত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় তৈজসপত্র ও নানা ধরনের প্রাচীন অলংকারসহ ইত্যাদি সামগ্রী পাওয়া যায়, যা গড়ের উত্তরে অবস্থিত জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। মহাস্থান গড় ছাড়াও আরও বিভিন্ন স্থানের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এখানে সংরক্ষিত আছে!! এটা ভালো ছিলো…

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেন
0%
0%
Awesome
Share.

About Author

বলার কিছু নাই ... প্রোফাইলে যেমন দেখতেছেন, তেমনই আমি!! https://www.facebook.com/profile.php?id=100005604526551

Leave A Reply