বুড়িমার চকলেট বোম। কে এই বুড়িমা ? জেনে নিন তার ইতিহাস

বুড়িমার চকলেট বোম। কে এই বুড়িমা ? জেনে নিন তার ইতিহাস

বুড়িমার চকলেট বোম। কে এই বুড়িমা ? জেনে নিন তার ইতিহাস

বুড়িমার চকলেট বোম না হলে কালীপূজো ঠিক জমে না। কালীপূজোর রাতের জন্য প্রথমে আপনি হয়তো এই বাজিকেই বেছে নেবেন।

দুর্গাপূজোর পর থেকে বাজি কেনা শুরু। কালীপূজো মানেই ডজন ডজন বাজি চাই। শুধুই কালীপূজো নয়, ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচেও তো ‘বুড়িমা’-ই গর্জে ওঠে। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতেও ভরসা সেই বুড়িমা।

আপনি কি জানেন কে এই বুড়িমা ? এই সর্বজনীন বুড়িমার আসল নাম অন্নপূর্ণা দাস। জন্ম বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। দেশভাগের পর হাওড়া জেলার বেলুড়ে পার্মানেন্ট ঠিকানা হয় এনার। মাঝে ছিল অনেক লড়াই। গরিব ঘরের লড়াকু মেয়ে পরবর্তী জীবনে সফল ব্যবসায়ী ‘বুড়িমা’ হয়ে ওঠে।

স্বামী সুরেন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর ১৯৪৮ সালে বাংলাদেশ ছেরে তিনি আশ্রয় নেন বেলুড়ে। তিন মেয়ে ও এক ছেলের মা অন্নপূর্ণা। বাজারে রাস্তায় উচ্ছে, ঝিঙে, পটল, মুলো বিক্রি করে সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিয়েছিলেন অন্নপূর্ণা।

তিনি কিছুদিন বিড়ি বাঁধার কাজ করেছিলেন। আর সেই কাজ করতে করতেই শুরু করে দেন বিড়ির ব্যবসা। একদিন সত্যিই স্বপ্নের মতো তাঁর নিজের বিড়ি কারখানা গড়ে ওঠে।

বেলুড়ের প্যারিমোহন মুখার্জি স্ট্রিটে একটা দোকান-সহ বাড়িও কেনেন তিনি। ব্যবসাও বাড়তে লাগে। বিড়ির সঙ্গে যুক্ত হয় আলতা, সিঁদুরের ব্যবসা। শুধু তাই নয়, বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি, দোলের রং, কালীপুজোর বাজি এমন ছোটখাটো নানা ব্যবসাই শুরু করেন তিনি। তবে তখন নিজে তৈরি করতেন না, অন্যের থেকে কিনে এনে বিক্রি করতেন।

ততদিনে তিনি রীতিমতো বুড়ি হয়ে গিয়েছিলেন। এই সময়েই নাকি তাঁর দোকানে এসে অনেকে অন্নপূর্ণাদেবীকে ‘বুড়িমা’ বলে সম্বোধন করতেন। আর তার পরেই কেমন করে যেন তিনি সবার ‘বুড়িমা’ হয়ে গেলেন।

এক সময়ে অন্নপূর্ণাদেবী দেখলেন বাজি কিনে বিক্রির থেকে অনেক বেশি লাভ বাজি তৈরি করে বিক্রি করতে পারলে। শুরু করলেন বাজি কারখানা। নিজের নতুন নামেই তৈরি করলেন ব্র্যান্ড। ‘বুড়িমা’ হয়ে উঠল বাজির জগতে এক বিখ্যাত নাম। ব্যবসা বাড়তে লাগল। এক সময়ে ছেলে সুধীরনাথও যুক্ত হলেন মায়ের ব্যবসায়ে। ততদিনে তিনি নানা রকমের আতসবাজি বানানো শুরু করেছিলেন, কিন্তু বিখ্যাত হয়ে যায় ‘বুড়িমার চকলেট বোম।’

এর পরেও থমকে যাননি বুড়িমা মানে অন্নপূর্ণাদেবী। তামিলনাড়ুর শিবকাশীতে একটি দেশলাই কারখানা তৈরি করেন। এই রাজ্যে ডানকুনিতে চলতে থাকে তাঁর বাজির কারখানা। ব্যবসায় আসেন নাতিরাও।

এখন শব্দবাজি নিয়ে অনেক কঠোর প্রশাসন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার শব্দবাজির তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করে সরকার। কিছুটা হলেও থমকে যায় ‘বুড়িমা’-র চাহিদা। কিন্তু সেই দিন দেখতে হয়নি অন্নপূর্ণদেবীকে। কারণ, তার ঠিক আগের বছরেই চোখ বুজেছেন তিনি। বাঙালি মেয়ে হিসেবে ব্যবসায় সাফল্যের এক অনন্য নজির গড়েছেন অন্নপূর্ণা দাস। তৈরি করেছেন এক সত্যিকারের রূপকথা।

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেন

পাগলের প্রলাপ

আমার নিঃশব্দ কল্পনায় দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি, আমার জীবনের ঘটনা, আমার চারপাশের ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে লেখার চেষ্টা করি। প্রতিটি মানুষেরই ঘন কালো মেঘে ডাকা কিছু মুহূর্ত থাকে, থাকে অনেক প্রিয় মুহূর্ত এবং একান্তই নিজস্ব কিছু ভাবনা, স্বপ্ন। প্রিয় মুহূর্ত গুলো ফিরে ফিরে আসুক, মেঘে ডাকা মুহূর্ত গুলো বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ুক। একান্ত নিজস্ব ভাবনা গুলো একদিন জীবন্ত হয়ে উঠবে সেই প্রতীক্ষাই থাকি।

Create Account



Log In Your Account