জমজ সন্তান / টুইন প্রেগনেন্সি

জমজ সন্তান কেন হয়?

অনেক মা ই প্রসবের সময় এক সাথে দুই বা কখনো তার অধিক সন্তানের জন্ম দিয়ে থাকেন। এ নিয়ে অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন জাগে। গর্ভে একের অধিক সন্তান ধারণ করা অস্বাভাবিক কিছু নয় আর এজন্য স্বামী বা স্ত্রী কে দায়ী তা নিয়েও গবেষণার প্রয়োজন নেই। ধরে নিতে হবে এটা প্রকৃতি প্রদত্ত এবং এর পেছনে অন্য কিছুর হাত নেই; তবে চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী কৃত্রিম ভাবে সন্তান ধারণ করতে গেলে অনেক সময় একই সাথে অনেক গুলো সন্তান গর্ভে আসতে পারে। এই আলোচনায় আমরা প্রাসঙ্গিক কারণেই তাদের নিয়ে আলাপ করতে যাচ্ছিনা।

টুইন বা জমজ সন্তান আবার দুই ধরণের হতে পারে –
১) বাইনোভুলার বা ডাইজাইগোটিক (Binovular/ Dizygotic)
২) ইউনিওভুলার বা মনোজাইগোটিক (Uniovular/ Monozygotic)

বাইনোভুলার বা ডাইজাইগোটিক (Binovular/ Dizygotic):
মায়ের গর্ভে আসন গেড়ে নেয়া এমন শিশু দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি ডিম্বানু থেকে জন্ম নেয় আর এদের নিষিক্ত করা শুক্রানু দুটিও পুরো ভিন্ন ভিন্ন। যার অর্থ একই সাথে সম্পুর্ণ ভিন্ন দুটি শিশু ঘটনাক্রমে একই সময় জরায়ুতে বড় হচ্ছে। ফলে শিশু দুটির আলাদা আলাদা দুটি ফুল বা প্লাসেন্টা থাকে এবং এদের লিঙ্গ (sex) ও ভিন্ন হতে পারে। এমন দুটি শিশুর একসাথে লেগে থাকার সম্ভাবনা ও থাকেনা। জন্ম নেয়া টুইন বাচ্চাদের দুই তৃতীয়াংশই এমন ভাবে জন্ম নেয়া। যার ফলে দেখা যায় জমজ হলেও এদের লিঙ্গ, রক্তের গ্রুপ, গড়ন, গায়ের রঙ বা অন্যান্য অনেক বৈশিষ্ট এক নয়। তবে দুজন একই রকম হওয়াটাও কিন্ত অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা অস্বাভাবিক নয়।

ইউনিওভুলার বা মনোজাইগোটিক(Uniovular/ Monozygotic):
একটি মাত্র ডিম্বানু নিষিক্ত হয়ে যদি দুটি শিশুর জন্ম হয় তাহলে তাকে মনো জাইগোটিক টুইন বলা হয়। নিষিক্ত ডিম্বানুটি পরবর্তীতে বিভাজিত হয়ে দুটি পূর্ণাঙ্গ শিশুতে পরিণত হয়। এর ফলে দুটি শিশুর জন্য কেবল একটি মাত্র ফুল বা প্লাসেন্টা থাকে। শিশু দুটির লিঙ্গ এবং সকল শারীরিক এবং মানসিক বৈশিষ্ট ও এক হয়ে থাকে। যেহেতু শিশু দুটি পুরোপুরি একই জীন (Gene) বহন করে এবং সকল বৈশিষ্ট একই রকম হয় তাই এদের কে অনেক সময় আইডেন্টিকাল টুইন (Identical twin) বলা হয়। জমজ শিশুদের মধ্যে এই প্রকার শিশুরা শুধুমাত্র এক তৃতীয়াংশ। অনেক সময় এ ধরনের জমজ শিশু একজন অপরজনের কাছ থেকে পুরোপুরি আলাদা হয়না এবং জন্মের পরও এদের কিছু কিছু অঙ্গ সংযুক্ত থাকে (Siamese twin)। শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে এ সকল শিশুকে আলাদা করে একটি অর্থবহ জীবন দান করা বর্তমান বিশ্বে এখন আর অসম্ভব কিছু না।

জমজ সন্তান হওয়া স্বাভাবিক একটি ঘটনা হলেও জমজ সন্তান ধারন করলে গর্ভবতী মাকে একটু বাড়তি সাবধানতা গ্রহন করতে হয়। এসকল মায়ের এনিমিয়া, এক্লাম্পসিয়া, এন্টিপারটাম হেমোরেজ, ম্যাল প্রেজেন্টেশন, প্রিটার্ম লেবার সহ নানাবিধ সমস্যা হবার সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকে। এজন্য এসকলক্ষেত্রে শুরু থেকেই একজন স্ত্রী ও প্রসুতি রোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকলে মা এবং শিশু দুজনেরই জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেন

পাগলের প্রলাপ

আমার নিঃশব্দ কল্পনায় দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি, আমার জীবনের ঘটনা, আমার চারপাশের ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে লেখার চেষ্টা করি। প্রতিটি মানুষেরই ঘন কালো মেঘে ডাকা কিছু মুহূর্ত থাকে, থাকে অনেক প্রিয় মুহূর্ত এবং একান্তই নিজস্ব কিছু ভাবনা, স্বপ্ন। প্রিয় মুহূর্ত গুলো ফিরে ফিরে আসুক, মেঘে ডাকা মুহূর্ত গুলো বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ুক। একান্ত নিজস্ব ভাবনা গুলো একদিন জীবন্ত হয়ে উঠবে সেই প্রতীক্ষাই থাকি।

Create Account



Log In Your Account