কিছু অদ্ভুত তথ্য

গৌতম বুদ্ধের ছয়টি উপদেশঃ-

ভালবাসা সারিয়ে তোলে  
বুদ্ধের শিক্ষার সারমর্ম হল প্রেম এবং খোলা মন| আসলে, যখন আপনি প্রেমে ভরপুর থাকেন, আপনি কদাপি কোন নেতিবাচক শক্তিকে মনে স্থান দিতে পারেন না|

মুহূর্তের দাম
বুদ্ধ, অতীতের মাঝে বসবাস বা ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার পরিবর্তে বর্তমানে বেঁচে থাকার জন্য উৎসাহ দিতেন| বস্তুত, এই পাঠ কর্পোরেট বিশ্বে আমাদের লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করতে সাহায্য করতে পারে|

নিজের ভিতরে দেখ
বুদ্ধ মানুষকে নিজের ভিতরে অনুসন্ধান করতে বলেছেন। কারণ তিনি আধ্য়াত্মিক ধন নিজের ভিতরে খুঁজে পেয়েছিলেন, বাইরে নয়| শান্তি এবং আনন্দ কখনই অর্জন করা যায় না, তা নিজের মধ্যেই পাওয়া সম্ভব|

মুক্ত করে দাও
জীবনে স্বস্তি পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হল সব ইচ্ছা মুক্ত করে দাও| আমাদের ইচ্ছেগুলোকে আঁকড়ে ধরে রাখাটা স্বস্তির পথে হাতকড়ার ন্যায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়|

মস্তিষ্কের শৃঙ্খলা
মন যখন নিয়ন্ত্রিত না থাকে, তখন তা আমাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এবং এভাবেই আমরা ফাঁদে পড়ি| মন, একটি শক্তিশালী অস্ত্র। তাই যদি একে প্রশিক্ষণ দেওয়া না যায় তাহলে এটি একটি বিপজ্জনক ফাঁদ হতে পারে। তাই মনকে সুশৃঙ্খল করা উচিত|

অন্যের জন্য সমবেদনা
প্রতিটি অস্তিত্ব, জীবন্ত বা জড়, পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত| তাই অন্যদের সমর্থন ছাড়া আমরা বেঁচে থাকতেও পারি না| এমন একটি জগতে স্বার্থপরতার কোন অর্থই হয় না| শুধু অন্যদের প্রতি সত্য সমবেদনা এই বিশ্বের আরোগ্য করতে পারে| বুদ্ধের ভালবাসার শিক্ষা, সমবেদনার উপর পরিক্রমণ করে এবং শুধুমাত্র এই মানব বৈশিষ্টই মানব জাতিকে ব্যাপক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে

মহাভারতের কিছু অদ্ভুত ঘটনা যেগুলি হয়ত অনেকের জানা নয়ঃ-

দুর্যোধনের বর
পাণ্ডবরা যখন আত্মগোপন করে ছিল তখন গান্ধর্ব্যদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন দুর্যোধন। সেখানে আটকে রাখা হয় তাঁকে। সেইসময় অর্জুন গিয়ে লড়াই করে দুর্যোধনকে মুক্ত করেন। ক্ষত্রীয় হিসাবে সেই ঘটনায় খুশি হয়ে অর্জুনকে বর দিতে চান দুর্যোধন। যখন খুশি তা চেয়ে নিতে পারেন অর্জুন সেটাই ঠিক হয়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময়, পিতামহ ভীষ্ম ছিলেন দলনায়ক। পাণ্ডবদের হত্যা করতে তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, দুর্যোধন এমন অভিযোগ করলে পঞ্চপাণ্ডবকে খতম করতে পাঁচটি মন্ত্রপুতঃ তির তুলে নেন ভীষ্ম। অর্জুনের সারথি কৃষ্ণ এই ঘটনা জানতে পেরে অর্জুনকে সেই বর চাইতে বলেন। বর হিসাবে দুর্যোধনের কাছে সেই পাঁচটি তির চান অর্জুন। ক্ষত্রীয়রা কথা দিতে ফেরাতে পারে না। এইজন্য সেই তিরগুলি দিতে বাধ্য হন দুর্যোধন। পরে ভীষ্মের কাছে তিনি জানতে পারেন, ওরকম তির আর পিতামহের ঝুলিতে নেই, বেঁচে যায় পঞ্চপাণ্ডব।

ইরাবনের আত্মত্যাগ
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পূর্বে মা কালীর কাছে কাউকে আহূতি দিতে হত যাতে যুদ্ধে জেতা নিশ্চিত হয়। অর্জুন পুত্র ইরাবন নিজের প্রাণ তাতে উৎসর্গ করেন। তবে ইরাবনের ইচ্ছা ছিল যুদ্ধের আগে বিয়ে করার। এই ইচ্ছা পূর্ণ করা কঠিন ছিল কারণ কোনও মহিলাই বিয়ের পর বিধবা হতে রাজি ছিল না। ফলে শ্রীকৃষ্ণ মোহিনীর বেশে হাজির হয়ে ইরাবনকে বিয়ে করেন। তামিলনাড়ুর কোভাগম গ্রামে প্রতিবছর ইরাবনকে মাথায় রেখে উৎসব হয়। ১৮ দিনের এই উৎসবে রূপান্তরকামীরা জড়ো হয়ে একদিনের জন্য ঈশ্বরকে বিয়ে করেন।

উডুপির রাজা
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময়ে সব রাজারাই কোনও না কোনও পক্ষে যোগদান করেছিলেন। তবে একমাত্র উডুপির রাজা নিরপেক্ষ ছিলেন। তিনি জানান, যুদ্ধে ব্যস্ত দুপক্ষকেই তিনি খাবার সরবরাহ করবেন। যুদ্ধ শুরু হলে দেখা যায়, কোনও দিনই খাবার কম পড়ে না, আবার বেশিও হয় না। ফি দিন বহু সৈন্য মারা যাচ্ছে অথচ সবার জন্য একেবারে ঠিকঠাক খাবারের আয়োজন কিভাবে সম্ভব ছিল? জিজ্ঞাসা করা হলে রাজা জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন রাতে তিনি ভগবান কৃষ্ণকে এক বাটি বাদাম ভোগ দেন। তারমধ্যে থেকে ১০টি বাদাম ভগবান গ্রহণ করা মানে তিনি বুঝে যেতেন পরের দিন ১০ হাজার সৈন্য মারা যাবে। সেই অনুযায়ী পরের দিন তিনি সৈন্যদের জন্য খাবার বানাতেন।

দাতা কর্ণ
মহাবীর কর্ণ ‘দাতা কর্ণ’ রূপেও পরিচিত। বহুরূপী ইন্দ্রকে তিনি কবচ ও কুণ্ডল দান করেছিলেন তা সবাই জানেন। তবে এটা অনেকেই জানেন না যখন কুরুক্ষেত্রে শেষ নিঃশ্বাস পড়ছে কর্ণের তখন ভগবান কৃষ্ণও ব্রাহ্মণের বেশে হাজির হন কর্ণের সামনে। তাঁর কাছে একটু সোনার দাবি করেন। তা শুনে কর্ণ তাঁর সোনা বাঁধানো দাঁত দিতে চান। ব্রাহ্মণ হয়ে দাঁত ভেঙে তা নিতে অস্বীকার করেন শ্রীকৃষ্ণ। তখন কর্ণ নিজে থেকে পাথর দিয়ে দাঁত ভেঙে দেন। তাতে রক্ত লেগে থাকায় তাও নিতে অস্বীকার করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তখন আকাশে তির মেরে বৃষ্টি নামিয়ে তাতে দাঁত ধুয়ে তা কৃষ্ণকে দেন দাতা কর্ণ। এরপর ভগবান নিজের বেশে হাজির হয়ে কর্ণকে বর চাইতে বলেন। জীবনের শেষ লগ্নে ভগবানের দেখা পাওয়াই সবচেয়ে বড় বর, এই জবাব দিয়েই কর্ণ মারা যান।

দুর্যোধনের বিশ্বাস
দুর্যোধনের স্ত্রী ভানুমতী ও কর্ণ একদিন পাশা খেলছিলেন। কর্ণ বসেছিলেন দরজার দিকে পিছন করে। খেলায় হেরে যান ভানুমতী। সেইসময়ই দুর্যোধন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেই ভয় পেয়ে ভানুমতী পালিয়ে যেতে যান। সেসময়ে পরপুরুষের সঙ্গে সময় কাটানো অলৌকিক ব্য়াপার ছিল। দুর্যোধন য়ে ঘরে এসে গিয়েছে, কর্ণ তা না বুঝেই পালাতে যাওয়া ভানুমতীর হাত চেপে ধরতে যান। তখন ভানুমতীর গলার মতির হার ছিঁড়ে ছত্রাকার হয়ে যায়। দুর্যোধন সব দেখেও না দেখার ভান করে মতি কুড়োতে ব্যস্ত হয়ে যান। কারণ কর্ণকে তিনি অন্ধের মতো বিশ্বাস করতেন এবং জানতেন তিনি কোনও খারাপ কাজ করতে পারেন না।

কিছু চরিত্র রামায়ন ও মহাভারত উভয় মহাকাব্যেই ছিলঃ-

জাম্বুবান
রামায়ণ: জাম্বুবান ভাল্লুক সেনা। রামের সেনার এক অন্যতম সদস্য। সীতার খোঁজ নিতে যখন হনুমানকে পাঠানোর কথা হয় তখন কোনও এক অভিশাপের জেরে নিজের শক্তি সম্পর্কে ভুলে গিয়েছিলেন হনুমান। তখন ডাম্বুবানই হনুমানকে তাঁর পরিচয় ও শক্তি সম্পর্কে অবহিত করেন।

মহাভারত: কৃষ্ণর আসল পরিচয় না জেনেই তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করেন জাম্বুবান। যখন কৃষ্ণ নিজের পরিচয় প্রকাশ করে বলেন রাম ও তিনি একই , তখন লজ্জায় মাথা নিচু করে ক্ষমা চান ডাম্বুবান। এবং নিজের মেয়ে জামবতীর সঙ্গে কৃষ্ণর বিবাহ দেন।

হনুমান
রামায়ণ: রামায়ণে হনুমানের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ভগবান রামের একনিষ্ঠ ভক্ত হনুমান। বারণের লঙ্কা জ্বালানো থেকে সীতা উদ্ধারে হনুমান ছিলেন অত্যন্তভাবে প্রাসঙ্গিক।

মহাভারত : সুগন্ধিকা পুষ্প আনার সময় পথে এক বৃদ্ধ বাঁদর দেখেন ভীম। ভীম দেখে ওই বৃদ্ধ বানরের লেজে রাস্তা আটকে রয়েছে। ভীম ওই বৃদ্ধ বানরকে নিজের লেজ সরানোর অনুরোধ করেন। বানর বলেন, তিনি বৃদ্ধ, নিজের লেজ নাড়ানোর ক্ষমতাও তাঁর নেই। তাই ভীমকেই সেউ লেজ সরিয়ে দিতে হবে। ভীমের নিজের শক্তির উপর অগাধ বিশ্বাস ও অহঙ্কার ছিল। সেই অহঙ্কার চূর্ণ হয় যখন সে বৃদ্ধ বানরের লেজ নড়াতে অপারগ হয়। ভীম বৃদ্ধ বানরের আসল পরিচয় জানতে চান। তখন নিজের পরিচয় দেন ভগবান হনুমান।

পরশুরাম
রামায়ণ : সীতার স্বয়ম্বর সভায় রাম মহাদেব শিবের ধনুক ভেঙেছেন এই খবর জানতে পেরে উদ্বিগ্ন পরশুরাম রামকে প্রতিযোগিতার জন্য আহ্বান জানান। কিন্তু পরে যখন তিনি জানতে পারেন রাম আসলে নারায়ণের অবতার তখন তিনি ক্ষমাপ্রার্থণা করেন, পাশাপাশি রামকে আশীর্বাদও দেন।

মহাভারত :মহাভারতে পিতামহ ভীষ্ম ও কর্ণের গুরু হিসাবে পরশুরামের উল্লেখ রয়েছে।

বিভীষণ
রামায়ণ : রাবণের ছোট ভাই বিভীষণ, যিনি রামের তরফে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর লঙ্কার রাজার পদে বসেন বিভীষণ।

মহাভারত: পাণ্ডবরা যখন রাজাসুয়া যজ্ঞের আয়োজন করেন তখন বিভীষণ তাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। এবং তাঁদের বহুমূল্য সমস্ত সামগ্রী ও উপহার প্রদান করেন।

মায়াসূর
রামায়ণ : মায়াসুর বারণের শ্বশুর। রাবণের স্ত্রী মন্দোদরী আসলে মায়াসুরের কন্যা।

মহাভারত : যখন পাণ্ডবরা দণ্ডকারণ্য জ্বালিয়ে দিয়েছিল তখন একমাত্র মায়াসূরই বেঁচে গিয়েছিল। কৃষ্ণ তাঁকের মারতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে অর্জুণের কাছে প্রাণভিক্ষা চায়। পরে এই মায়াসূরই ইন্দ্রপ্রস্থ তৈরি করেন।

মহর্ষি দুর্বাসা
রামায়ণ : মহর্ষি দুর্বাসাই সেই ব্যক্তি যিনি রাম ও সীতার বিচ্ছেদের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।

মহাভারত : মহর্ষি দুর্বাসার মন্ত্রেই কুন্তী পাঁচ সন্তানের (পাণ্ডব) মা হয়েছিলেন।

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেন

পাগলের প্রলাপ

আমার নিঃশব্দ কল্পনায় দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি, আমার জীবনের ঘটনা, আমার চারপাশের ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে লেখার চেষ্টা করি। প্রতিটি মানুষেরই ঘন কালো মেঘে ডাকা কিছু মুহূর্ত থাকে, থাকে অনেক প্রিয় মুহূর্ত এবং একান্তই নিজস্ব কিছু ভাবনা, স্বপ্ন। প্রিয় মুহূর্ত গুলো ফিরে ফিরে আসুক, মেঘে ডাকা মুহূর্ত গুলো বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ুক। একান্ত নিজস্ব ভাবনা গুলো একদিন জীবন্ত হয়ে উঠবে সেই প্রতীক্ষাই থাকি।

Create Account



Log In Your Account