পন্ডিত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের একটি দুষ্প্রাপ্য ছবি! সত্যতা যাচাই করে নিন!

লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন
  • 242
    Shares

ভুয়ো খবর অধিকাংশ সময়েই আকর্ষণীয় হেডলাইন দিয়ে বানানো হয়। আপনারা অনেকেই ‘পন্ডিত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের একটি দুষ্প্রাপ্য ছবি’ হিসবে দেখেছেন নিচের এই ছবিটা, আবার শেয়ারও করেছেন হয়তো।

Student of University of Madras. Preparations for exams (working hard, they tie hair to nail in wall to prevent falling into sleep) Page 113 from the book Vlas Mikhailovich Doroshevich «East and War», Moscow. Sytin publisher, 1905.

Student of University of Madras. Preparations for exams (working hard, they tie hair to nail in wall to prevent falling into sleep) Page 113 from the book Vlas Mikhailovich Doroshevich «East and War», Moscow. Sytin publisher, 1905.

উদাহরণ স্বরূপ কয়েকটি লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি ছবি সহ :
১) facebook.com/Yeah1India
২) facebook.com/BarisalUniversityCampus

আসলে ছবিটি Vlas Mikhailovich Doroshevich এর বই ‘East and War’ থেকে নেওয়া হয়েছে। যেটি প্রকাশিত হয়েছিলো মস্কো থেকে Sytin publisher, ১৯০৫ সালে। এই বইয়ের ১১৩ নম্বর পাতায় এই ছবিটি আছে। ছবিটি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কঠোর পরিশ্রম করে, পড়তে পড়তে যাতে ঘুমিয়ে না পড়ে সেই জন্য তারা চুলের টিকি দেওয়ালে পেরেকে বেঁধে রেখেছে। মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিলো ৫ সেপ্টেম্বর ১৮৫৭ সালে, এটাই সত্যি।  (সুত্র wikimedia.org)

এবার আসি কাজের কথায়। কিছু পিছন পাকা, অল্প শিক্ষিত মানুষ হঠাৎ করে ফেসবুক ব্যাবহার করা শিখে গিয়েছে। তাদের নৈতিক কোন জ্ঞান বা দায়িত্ব নেই। এরা অনেকেই এক একটা পেজের অ্যাডমিন, এবং শুধু মাত্র কয়টি লাইক পাওয়ার জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে ভুয়ো খবর রটায়। আর আমারা সাধারণ মানুষ ক্যাটালিস্ট (অনুঘটক)  এর কাজ করি এদের এই কাজে। আমরা না দেখে, না ভেবে, অনেক সময় না বুঝেই সেটা লাইক বা শেয়ার করি। শেয়ার করার পরে আবার আমরাই মনে মনে ভাবি যে ‘আমি সামাজিগ জাগরণ করছি’। ধিক্কার সেই সব পেজ বা সংবাদ মাধ্যম কে, যারা ভুয়ো খবর ছড়ায়।

কি ভাবে বুঝবেন যে কোনটি ভুয়ো ?

১) ভুয়ো খবর অধিকাংশ সময়েই আকর্ষণীয় হেডলাইন দিয়ে বানানো হয়। শিরোনামই যদি বিশ্বাসযোগ্য না হয়, তাহলে সম্ভবত খবরটিও বিশ্বাসযোগ্য নয়।

২) URL এর মধ্যেই সতর্ক হওয়ার উপাদান থাকে। ভুয়ো নিউজের অধিকাংশই বিশ্বাসযোগ্য খবরের URL থেকে সামান্য কিছু অদলবদল করে প্রায় টুকে দেওয়া হয়। সাইটে গিয়ে URL চেক করে নিন।

৩) তথ্যসূত্র যাচাই করুন। কোন সূত্র থেকে সংবাদ সংগ্রহ করা হয়েছে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ মাধ্যম বা সংবাদ সংস্থা থেকে সংবাদ সংগৃহীত হয়েছে কিনা, তা যাচাই করে নিন। যদি কোনও অপরিচিত সূত্র থেকে সংবাদ সংগ্রহ করা হয়ে থাকে তবে অ্যাবাউট সেকশনে গিয়ে সে সংস্থা সম্পর্কে অবহিত হোন।

৪) তারিখ দেখে নিন। ভুয়ো খবরের টাইমলাইনের অনেকসময়েই কোনও ঠিকঠিকানা থাকে না। কোনও কোনও সময়ে তারিখও বদলে দেওয়া হয়।

৫) শেষ কথা এবং সব থেকে জরুরী, যে খবর পড়ছেন তা খুঁটিয়ে পড়ুন, এবং যদি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়, তবেই শেয়ার করুন।

এটা তো সামান্য একটি ছবির কথা গেল। এমন ভুয়ো খবরে ফেসবুকের দেওয়াল ছেয়ে গেছে ভয়ঙ্কর ভাবে। আমরা অজান্তেই শেয়ার করছি অসংখ্য দাঙ্গা হাঙ্গামার ছবি যা আদতে হয়নি হয়তো। কখনো সেগুলো হয় Photoshop এর দ্বারা, কখনো বা অন্য কোন দেশের, কখনো বহু পুরোনো তথ্য এবং ছবি দিয়ে। যা মানুষের মধ্যে অজান্তেই সাম্প্রদায়িক অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। কারণ আমরা দেখি খালি মুখের কাছে তুলে দেওয়া মুখরোচক খাবার ভর্তি প্লেটটির দিকে। খাবার গুলো আসছে কোথা থেকে সেদিকে আমরাদের ভ্রূক্ষেপ নেই। হয়তো এই সব মুখরোচক খাবার ভর্তি প্লেট, ভাগাড়ের!

আমার নিঃশব্দ কল্পনায় দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি, আমার জীবনের
স্মৃতি, ঘটনা, আমার চারপাশের ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে লেখার চেষ্টা করি। প্রতিটি মানুষেরই ঘন কালো মেঘে ডাকা কিছু মুহূর্ত থাকে, থাকে অনেক প্রিয় মুহূর্ত এবং একান্তই নিজস্ব কিছু ভাবনা, স্বপ্ন। প্রিয় মুহূর্ত গুলো ফিরে ফিরে আসুক, মেঘে ডাকা মুহূর্ত গুলো বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ুক। একান্ত নিজস্ব ভাবনা গুলো একদিন জীবন্ত হয়ে উঠবে সেই প্রতীক্ষাই থাকি।

★আপনার মূল্যবান মন্তব্য দিয়ে আমাদের পথ চলা ধারাকে অব্যাহত রাখুন★

★ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে কমেন্ট করুন★

1 Comment

Leave A Reply